আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১২-০১-২০১৭ তারিখে পত্রিকা

ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনে অন্তরায় ইসরাইলি নীতি : ওবামা

যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ী প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখ-ে ইসরাইলি বসতি সম্প্রসারণে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর নীতি অঞ্চলটিতে দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানকে অসম্ভব করে তুলছে। মঙ্গলবার ইসরাইলি একটি টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি একথা বলেন। ইসরাইলের দখলে থাকা পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে বর্তমানে প্রায় ৫ লাখ ৭০ হাজার ইসরাইলি নাগরিক বসবাস করছেন। তাদের পাশাপাশি ২৬ লাখ ফিলিস্তিনিও সেখানে বসবাস করছেন। ওবামা বলেন, গেল কয়েক বছরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি অসংখ্য সময় ব্যক্তিগতভাবে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বসতি স্থাপন কর্মকা- বন্ধের অনুরোধ জানিয়েছেন। কিন্তু তার অনুরোধ বরাবরই প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর সংক্ষিপ্ত নাম উল্লেখ করে ওবামা বলেন, বিবি (নেতানিয়াহু) সব সময় বলে থাকেন, তিনি দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানে বিশ্বাস করেন। অথচ এখনও পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে তার কার্যকলাপে এটাই প্রতীয়মান হচ্ছে যে, বসতি সম্প্রসারণের ব্যাপারে চাপ দেয়া হলে তিনি দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের গুরুত্ব অগ্রাহ্য করে তাতেই অনুমোদন দেবেন। চ্যানেল টু’কে দেয়া সাক্ষাৎকারে ওবামা আরও বলেন, এক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান যে বিষয়টি আপনি দেখছেন তার ফলে পরিস্থিতির সমাধান অসম্ভব হয়ে উঠছে। অন্ততপক্ষে অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে তা কার্যকর ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন অসম্ভব করে তুলবে। ১৯৬৭ সালে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে পশ্চিম তীর ও জেরুজালেম দখল করে নেয় ইসরাইল। পরবর্তী সময়ে পূর্ব জেরুজালেমেও দখল সম্প্রসারণ করে ইহুদি রাষ্ট্রটি। তবে তা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়নি। ইসরাইল পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে বেশি অনুকূল সমর্থন পাওয়ার আশা করছে। ২০ জানুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ওবামার মেয়াদ শেষ হবে। নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মধ্যপ্রাচ্য শান্তি সম্মেলনে যোগ দেবেন কেরি : এদিকে, ফ্রান্স সরকারের উদ্যোগে আয়োজিত মধ্যপ্রাচ্য শান্তি সম্মেলনে যোগ দেবেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। রোববার ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা একথা জানান। এ সম্মেলনে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের কোনো নেতা অংশ নিচ্ছেন না। এ সম্মেলনে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক একটি শান্তিচুক্তি করার ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ের ওপর গুরুত্ব দেয়া হবে। এদিকে কেরির এ সম্মেলনে যোগদানের বিষয়টি ইসরাইলকে আরও ক্ষুব্ধ করে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গেল মাসে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দেয়া এক বক্তৃতায় কেরি ইসরাইল ও ফিলিস্তিনে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য দুই রাষ্ট্র সমাধান প্রস্তাবের ওপর বেশি গুরুত্বারোপ করেন।  জেরুজালেম পোস্ট, পলিটিকাস ইউএসএ


খবরটি পঠিত হয়েছে ৪০০ বার