আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১২-০১-২০১৭ তারিখে পত্রিকা

ধূমপানে মৃত্যু ৬০ লাখ

এখনই প্ররোচনামূলক কার্যক্রম বন্ধ হোক

ধূমপান করলে মানুষের ক্ষতি হয়Ñ এটা জ্ঞানীরা যেমন জানেন, তেমনি মূর্খরাও কম জানেন না। এরপরও বাস্তবতা হলো, বিশ্বব্যাপী ধূমপায়ীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। বাড়ছে ধূমপানজনিত মৃত্যুর সংখ্যা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বরাতে প্রকাশ, বর্তমানে প্রতি বছর ধূমপানে প্রায় ৬০ লাখ মানুষ মারা যান। আর ২০৩০ সালের মধ্যে এ সংখ্যা হবে ৮০ লাখ। ডব্লিউএইচও’র প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তামাক থেকে বিশ্বে ২০১৩-১৪ সালে ট্যাক্স এসেছে ২৬৯ বিলিয়ন ডলার; কিন্তু ধূমপানের কারণে যে উৎপাদনক্ষমতা ও স্বাস্থ্যগত ক্ষতি হয়, তার পরিমাণ এর চেয়েও বেশি, অন্তত ১ ট্রিলিয়ন ডলার। আর ধূমপানের কারণে মৃত্যুর ৮০ শতাংশের বেশি ঘটে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশে। এটা স্পষ্ট যে, পৃথিবীতে ক্ষতিকর বস্তুগুলোর মধ্যে তামাক অন্যতম। তামাকজাত দ্রব্যগুলোর মধ্যে ধূমপান বিশেষভাবে ক্ষতিকারক। ধূমপানের ফলে শুধু ধূমপায়ী নন, অধূমপায়ী ব্যক্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকেন। উপরন্তু তামাক অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগতভাবে ক্ষতি করে থাকে। ভয়ানক খবর হলো, ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাবগুলো বাংলাদেশে  প্রকট আকার ধারণ করছে।
নানা পরিসংখ্যানে এটা প্রতীয়মান, বাংলাদেশে ধূমপায়ীর সংখ্যাধিক্যের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে। বছর দুয়েক আগে মাদকদ্রব্য ও নেশা নিরোধ সংস্থার (মানস) এক প্রতিবেদনে প্রকাশ, তামাক ব্যবহারের ফলে দেশে প্রতি বছর ৩০ বছরের বেশি বয়স্ক জনগোষ্ঠীর মধ্যে ৫৭ হাজার মৃত্যুবরণ করেন। অনুরূপ পঙ্গুত্ববরণ করছেন প্রায় ৪ লাখ মানুষ। মানসের রিপোর্টে আরও বলা হয়, তামাকের কারণে মৃত্যুহার এইচআইভি, যক্ষ্মা, প্রসূতি মৃত্যু, যানবাহন দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা, নরহত্যা ও ওষুধজনিত মৃত্যুর সর্বমোট সংখ্যার চেয়েও বেশি। ভয়াবহ আরেকটি তথ্য হলো, জরিপকালীন আগের ৫ বছরে দেশে ধূমপায়ীর সংখ্যা না কমে পুরনোদের সঙ্গে আরও প্রায় ২৫ লাখ নতুন ধূমপায়ী যুক্ত হয়েছেন। উপস্থাপিত পরিসংখ্যান হালনাগাদ করা গেলে যে তথ্যগুলো বেরিয়ে আসবে, সেগুলো আশঙ্কাজনক হিসেবেই বিবেচিত হবে।
স্বাস্থ্যগত দৃষ্টিকোণ থেকে ধূমপান একটি নীরব ঘাতক, যা অজান্তে মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়। প্রতিটি জ্বলন্ত সিগারেট যেন একটি কেমিক্যাল ফ্যাক্টরি, যা থেকে প্রায় ৪ হাজার ক্ষতিকর বস্তু বের হয়। এর মধ্যে ৪৩টি বস্তু সরাসরি ক্যান্সারের জন্য দায়ী। অথচ সরকারি-বেসরকারিভাবে নানা পদক্ষেপ নেয়া হলেও দেশে ধূমপায়ীর সংখ্যা কমানো যাচ্ছে না। এ অবস্থায় ব্যাপক জনসচেতনতা গড়ে তোলার পাশাপাশি তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের পুঙ্খানুপুঙ্খ বাস্তবায়ন জরুরি। একইভাবে তামাকজাত পণ্য উৎপাদনকারীদের বিধিবহির্ভূত প্ররোচনামূলক প্রচারণা বন্ধ করতে হবে। হ


খবরটি পঠিত হয়েছে ৫২০ বার