আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৭-০১-২০১৭ তারিখে পত্রিকা

মাছে কোটিপতি বাবু

তবিবর রহমান, যশোর
| সুসংবাদ প্রতিদিন

দুই দশক আগে বাবার সঙ্গে মাছ চাষে যুক্ত হয়েছিলেন যশোরের চাঁচড়া এলাকার নূরুল ইসলাম বাবু। এর বছর তিনেক পরই ২০০০ সালে মাত্র ১০ হাজার টাকা জোগাড় করে মাছের খামার লিজ নেন তিনি। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। অভাবের ছোট সেই কুঁড়েঘরটি হয়েছে বহুতল ভবন। সেখানে শোভা পাচ্ছে বিলাসবহুল আসবাবপত্র। দুই ছেলেমেয়েকে পড়াচ্ছেন ভালো স্কুলে। তার খামারে ২০ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে। আর তিনি ১৭ বছরে হয়েছেন কোটিপতি।
জীবনের এ সফলতার কথা বলতে গিয়ে নূরুল ইসলাম ফিরে যান শৈশবে। বলেন, ছয় ভাই-বোনের মধ্যে আমি ছিলাম বড়। বাবার একমাত্র আয়ে সংসার চলে না। তাই অষ্টম শ্রেণীর পর আর লেখাপড়া করা হয়নি। লেখাপড়া ছেড়ে বাবার সঙ্গে মৎস্য খামারে কাজ শুরু করি। মাছ চাষে কিছুটা আয় আসতে লাগল, সংসারের অভাবও লাঘব হতে শুরু করল। এ অবস্থায় ২০০০ সালে পারিবারিকভাবে আমাকে বিয়ে দেয়া হয়। নতুন সংসার। নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করি। বাবার সঙ্গে পরামর্শ করে ১ বিঘার একটি পুকুর লিজ নিই। তখন আমার পুঁজি মাত্র ১০ হাজার টাকা। এ ১০ হাজার টাকা আমার ভাগ্য খুলে দিয়েছে। তিনি জানান, প্রথম বছরই তেলাপিয়া চাষ করে তার ৩ লাখ টাকা লাভ হয়। এরপর ২০০৫ সালে তিনি আরও দুইটি পুকুর লিজ নেন। বর্তমানে তিনি তার ‘শাহ আলী মৎস্য খামার’র আয়তন আরও বাড়িয়েছেন। গেল বছর ১০০ বিঘা আয়তনের ৯টি পুকুরে তেলাপিয়া চাষ করে তার লাভ হয় প্রায় ৫০ লাখ টাকা।
সরেজমিন নূরুল ইসলামের তেলাপিয়া খামারে দেখা যায়, তার খামারে ছয় নারী-পুরুষ কাজ করছেন। এছাড়া অনিয়মিত আরও ১৩ থেকে ১৫ শ্রমিক কাজ করেন। সব মিলিয়ে সেখানে ২০ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে। নূরুল ইসলাম বাবু জানান, এ বছর তার নিট আয় কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে তিনি আশা করছেন। তেলাপিয়া চাষে সফলতা অর্জন করায় ‘জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০১৫’ উপলক্ষে তিনি সম্মাননা পুরস্কার পান। তার সফলতা দেখে নূর আলম, মিন্টুসহ অনেক বেকার যুবক তেলাপিয়া চাষ শুরু করেছেনÑ এমন তথ্যই দিয়েছেন সদর উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আনিসুর রহমান। তিনি জানান, লাভজনক হওয়ায় শিক্ষিত যুবকরাই মাছ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। নূরুল ইসলামের মতো অনেকের আয়-উপার্জন দেখে মাছ চাষ করছেন তারা। যশোর জেলা মৎস্য অফিসের সিনিয়র সহকারী পরিচালক আক্তার উদ্দিন জানান, দেশের সিংহভাগ মাছ এখন যশোরেই উৎপাদন হচ্ছে। এ জেলা থেকে প্রতি বছর ২ লাখ ৫ হাজার টন মাছ উৎপাদন হচ্ছে। এর মধ্যে শুধু তেলাপিয়াই রয়েছে ১৮ হাজার ২৭৪ টন। তেলাপিয়ার উৎপাদন ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে।