আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৭-০৩-২০১৭ তারিখে পত্রিকা

কোচ-অধিনায়কের বার্তায় বড় ইনিংস

স্পোর্টস রিপোর্টার
| খেলা


‘একটা সময় আমি কিছুটা সংগ্রাম করছিলাম। তখন ড্রেসিংরুম থেকে একটা বার্তা পেয়েছিলাম, ব্যাটিং চালিয়ে যাও, যতটা 
সময় সম্ভব ব্যাটিংয়ের চেষ্টা কর’
 

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে খানিকটা স্বভাববিরুদ্ধ ব্যাটিং স্টাইলই লক্ষ করা গেছে। শুরুতে আগ্রাসী হতে চেয়েছিলেন। সঙ্গে সঙ্গে ড্রেসিংরুম থেকে বেরিয়ে আসেন ব্যাটিং কোচ থিলান সামারাবীরা। তামিমকে ধীরস্থির ব্যাটিংয়ের বার্তা দিতে মাঠে পাঠান ইমরুল কায়েসকে। অর্ধশতকের পর চড়াও হন বাঁ-হাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান, এবার ড্রেসিংরুম থেকে বেরিয়ে এসে তামিমকে উইকেটে থাকার সংকেত দেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে দুর্দান্ত শতকের সুবাদে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন তামিম ইকবাল। ১২৭ রান করার পথে শহীদ আফ্রিদিকে টপকে ডাম্বুলার রাঙ্গিরি ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে সর্বোচ্চ ইনিংসের মালিক এখন বাঁ-হাতি এ টাইগার ওপেনার। তামিমের এ অর্জনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন ড্রেসিংরুম থেকে পাঠানো কোচ ও অধিনায়কের সেই বার্তাগুলো।
ব্যক্তিগত ৪০ রান নিয়ে যখন ব্যাটিং করছিলেন তামিম, ওই মুহূর্তে বেশ ভুগতে হয়েছিল তাকে। ড্রেসিংরুম থেকে পাঠানো কোচ-অধিনায়কের বার্তাতেই মূলত বদলে যান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে তেমনটাই জানালেন বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ১০ হাজার রানের মাইলফলক ছোঁয়া তামিম, ‘একটা সময় আমি কিছুটা সংগ্রাম করছিলাম। তখন ড্রেসিংরুম থেকে একটা বার্তা পেয়েছিলাম, ব্যাটিং চালিয়ে যাও, যতটা সময় সম্ভব ব্যাটিংয়ের চেষ্টা কর। সেটা আমি সফলভাবে করতে পেরেছি, আমি খুব খুশি।’ কথাটা শেষ করেই আবার বলতে শুরু করলেন, ‘উইকেট শুরু থেকেই খানিকটা মন্থর ছিল। কিছু বল স্কিড করছিল, কিছু বল থামছিল।’
তামিম যখন ৪০ রানে, তখন দ্বাদশ খেলোয়াড় ইমরুল ড্রেসিংরুম থেকে বার্তা নিয়ে চলে গেলেন তার কাছে। খানিক পরই ব্যাটিংয়ের ধরন পাল্টান তামিম, ‘আমি যখন ৪০ রানে ছিলাম, তখন মনে হচ্ছিল আমি স্ট্রাইক রোটেট করতে পারছিলাম না। তারা ওই সময়ে ভালো বোলিং করছিল। তাছাড়া সময়টা এমন ছিল, ওই সময় যদি আমরা একটা উইকেট হারাতাম, তাহলে হয়তো বড় স্কোর করা সম্ভব হতো না। ওই সময় ড্রেসিংরুম থেকে কোচ ও অধিনায়ক বার্তা পাঠান।’ তিনি যোগ করেন, ‘মাশরাফি ভাই বারবার বাইরে বেরিয়ে এসে আমাকে বোঝাচ্ছিলেন বড় ইনিংস খেল। সবসময় আপনার মনের মতো করে সব হবে না। আমিও চেষ্টা করেছিলাম, কীভাবে ইনিংসটাকে বড় করা যায়।’
তামিম-সাকিব প্রায় ১০ বছর ধরে খেলছেন। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডেই প্রথমবারের মতো ১০০ ছাড়ানো রানের কোনো জুটি গড়লেন এ দুই ব্যাটসম্যান। শনিবার ডাম্বুলায় দুই বন্ধু মিলে ১৪৪ রানের জুটি গড়েন। এ জুটি গড়ার পথে সাকিব খেলেছেন ৭২ রানের ইনিংস। তামিম মনে করেন, আরও কিছুটা সময় থাকলে সাকিবও সেঞ্চুরি পেতেন, ‘সাকিবের ইনিংসটি বিশেষ কিছু। যেভাবে ও খেলছিল ১-২ ওভার খেলতে পারলে নিজেও ১০০ রান পেতেন।’
২০০৭ সালে অভিষেকর পর এ পর্যন্ত ১৬৩ ম্যাচ খেলেছেন তামিম। যেখানে তার সেঞ্চুরি আটটি। আর হাফসেঞ্চুরি ৩৪টি। তামিমের সামনে সুযোগ ছিল তার বেশ কয়েকটি হাফসেঞ্চুরিকে সেঞ্চুরিতে পরিণত করার। তামিম অতীতে এটা না পারলেও এ মুহূর্তে এমন কিছু করার দিকেই মনোযোগী, ‘চাওয়ার তো কোনো শেষ নেই। আশা করব, এরকম যত সুযোগ আসবে, যত বেশি তার সদ্ব্যবহার করতে পারি। আমার শেষ যে রেকর্ডগুলা ছিল, ওটার দিকে তাকালে দেখবেন, আমি হয়তো ৫-৬টা সেঞ্চুরিতে রূপ দিতে পারতাম। কিন্তু পারিনি। এখন থেকে এটা সবসময় চেষ্টা থাকবে। হয়তো সেটা প্রতিদিন সম্ভব হবে না। তবে বেশিরভাগ দিনে সেটা যেন কাজে লাগাতে পারি।’