আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৭-০৩-২০১৭ তারিখে পত্রিকা

‘১০ হাজার রান স্পেশাল’

স্পোর্টস রিপোর্টার
| খেলা

টেস্ট ক্রিকেটে সমানতালে খেলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশ প্রথম ওয়ানডে জিতেছে ৯০ রানের বিশাল ব্যবধানে। আর জয়ে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ওপেনার তামিম ইকবালের, খেলেছেন ১২৭ রানের দুরন্ত ইনিংস। শনিবার ডাম্বুলায় প্রথমে ব্যাট করে বাংলাদেশ ৩২৪ রানের বিশাল লক্ষ্য ছুড়ে দেয় স্বাগতিকদের; জবাবে ২৩৪ রানেই গুটিয়ে যায় লঙ্কান ব্যাটিংলাইন।
তবে জয় ছাপিয়ে উঠে আসছে তামিমের ‘কীর্তি।’ প্রথম বাংলাদেশী ব্যাটসম্যান হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১০ হাজার রানের অধিকারী হয়ে গেলেন তিনি। চট্টগ্রামের ছেলে তামিম ওয়ানডেতে ৩২.৪০ গড়ে করেছেন ৫১২০ রান, ৪৯টি টেস্টে সংগ্রহ ৩৬৭৭, গড় ৩৯.৫৩; টি-টোয়েন্টিতে ৫৫ ম্যাচে রান ১২০২। চলতি শ্রীলঙ্কা সিরিজে চমৎকার ফর্মে রয়েছেন তামিম। দেশের শততম টেস্ট ম্যাচের দুই ইনিংসে তামিম করেছিলেন ৪৯ ও ৮২ রান। তবে প্রথম টেস্টে বাংলাদেশকে হারতে হয়েছিল ২৫৯ রানে; সেই টেস্টেও প্রথম ইনিংসে হাফ সেঞ্চুরি (৫৭) করেছিলেন তিনি।
প্রথম বাংলাদেশী ক্রিকেটার হিসেবে তিন ফরম্যাট মিলিয়ে ১০ হাজার রানের মাইলফলক ছোঁয়া তামিমকে নিয়ে আপাতত উৎসবে মগ্ন গোটা দেশ। ডাম্বুলায় প্রথম ম্যাচে ৯৯৯৯ রান নিয়ে শুরু করা তামিম ইনিংসের প্রথম ওভারের তৃতীয় বলে ২ রান নিয়ে ছুঁয়ে ফেলেন মাইলফলক। বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হলেও বিশ্বের ৫১তম ক্রিকেটার তামিম, তিন ফরম্যাট মিলিয়ে যাদের রান ১০ হাজার।
২০০৭ সালে সীমিত ওভারের ক্রিকেটের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অভিষেক হয় তামিমের। এরপর থেকে তার ব্যাট কখনোই থামেনি। ব্যাট হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে দীর্ঘ পথপরিক্রমায় আজকের এ অবস্থান তৈরি করেছেন বাঁ-হাতি এ ব্যাটসম্যান। বাংলাদেশের হয়ে ১০ হাজার রান করতে পেরে গর্বিত তামিম। এ রান তার কাছে ‘বিশেষ কিছু’, ‘১০ হাজার রান আমার কাছে স্পেশাল। যত রান করতে পারি, সেই চেষ্টা থাকবে। এ ১০ হাজার রানের জন্য আমি গর্বিত ও খুশি।’ শনিবার তামিম-সাকিব মিলে প্রথমবারের মতো শতরানের জুটি গড়েন। খবরটা সংবাদ মাধ্যমের কাছ থেকে শুনে কিছুটা বিস্মিত তামিম, ‘সাকিবের সঙ্গে শতরানের পার্টনারশিপ হয়ে থাকলে আমি অনেক খুশি। কারণ এমন একটা জুটির প্রয়োজন ছিল এবং তা হয়েছে। আমি বা সাকিব যদি শুরুতে আউট হয়ে যেতাম, তাহলে হয়তো ৩২৪ রান হতো না।’
তামিম আউট হয়েছেন ৪৮তম ওভারে। সুরঙ্গা লাকমলের বল লংঅনে উড়িয়ে মারতে গিয়ে গুণারতেœর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সাজঘরে। ম্যাচ শেষে তামিম জানান, এতটা সময় ক্রিজে থাকতে অনেক ঘাম ঝরাতে হয়েছে। লঙ্কান বোলারদের পরীক্ষায় সফল হয়ে খুশি তিনি, ‘বেশকিছু সুযোগ হয়েছিল ফিফটি করার; কিন্তু সেগুলোকে সেঞ্চুরিতে রূপ দিতে পারেনি, সুযোগ কাজে লাগিয়ে অতীত পেছনে ফেললাম। আমি স্কোর করতে চাই, যত দূর সম্ভব দলে অবদান রাখতে চাই। ৪৫ ওভার (মূলত ৪৮ ওভার) পর্যন্ত ব্যাটিং করে যাওয়া সহজ নয়; ঘাম ঝরাতে হয়েছে অনেক। মাথা ঠা-া রেখে ব্যাট করেছি; আর স্ট্রাইক ধরে রেখেছি।’ সাকিবের প্রশংসা করে তামিম বলেন, ‘সাকিব যেভাবে খেলেছে, তা ছিল অসাধারণ। জানতাম, আমি যদি ১৩৫ বা তার কাছাকাছি করতে পারি, তাহলে স্কোর ৩০০ হতে পারে। সে পথেই এগিয়েছিলাম, মনও বলছিল।’