আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৭-০৩-২০১৭ তারিখে পত্রিকা

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাত এগোচ্ছে ধীরে

ডব্লিউইএফের প্রতিবেদনে ১০৪তম

জাহিদুল ইসলাম
| শেষ পাতা

২০০৯ সালে দেশে বিদ্যুতের উৎপাদন ছিল সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৬৮ মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ বিভাগের পাওয়ার সেলের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ ৯ হাজার ৩৬ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। ১ লাখ কিলোমিটারের বেশি বিতরণ লাইন স্থাপন করায় ৪৭ শতাংশ থেকে বেড়ে বিদ্যুতের আওতায় এখন দেশের ৭৬ শতাংশ মানুষ। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় গিয়ে বিদ্যুৎ খাতকে উন্নয়ন অগ্রাধিকারের শীর্ষে রাখায় নতুন গ্রাহক সৃষ্টি হয়েছে প্রায় ১ কোটি। এতকিছুর পরও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাত এগোচ্ছে একেবারেই ধীরগতিতে। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বিদ্যুতের কাঠামোগত দক্ষতা সূচকে ১২৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১০৪তম। 
সম্প্রতি বৈশ্বিক ‘এনার্জি আর্কিটেকচার পারফরম্যান্স ইনডেক্স- ২০১৭’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ)। সূচক তৈরিতে বিদ্যুতের অবকাঠামোগত অবস্থার টেকসই, নিরাপদ জ্বালানি ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা, দেশগুলোর বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখা হয়েছে। এতে ১২৭ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১০৪তম। প্রতিবেদনে বলা হয়, ৮ বছরে এ খাতে মাত্র ৯ ধাপ উন্নতি করেছে বাংলাদেশ। প্রতিবেশী ভারত, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তানের চেয়েও এ খাতে বাংলাদেশ পিছিয়ে রয়েছে। নেপাল ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার কোনো দেশ বিদ্যুতের সূচকে বাংলাদেশের পেছনে নেই। বিদ্যুৎ ব্যবহার বৃদ্ধি, বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার, সঞ্চালন ব্যবস্থার উন্নতি, ভর্তুকি হ্রাসসহ বেশ কয়েকটি সূচকে বাংলাদেশের উন্নতি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। 
সূচকের মানদ- শূন্য থেকে ১ পর্যন্ত ধরা হয়েছে। যে দেশ ১-এর যত কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে, সে দেশ থেকে এ ক্রম করা হয়েছে। সে হিসাবে সুইজারল্যান্ড দশমিক ৮০ পয়েন্ট নিয়ে সূচকের শীর্ষে অবস্থান করছে। এরপর রয়েছে যথাক্রমে নরওয়ে, সুইডেন, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, স্পেন, কলম্বিয়া ও নিউজিল্যান্ড। দশমিক ৫১ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তালিকায় ১০৪তম। তবে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশ পেয়েছে দশমিক ৬৩ পয়েন্ট। এর বাইরে টেকসই পরিবেশ সূচকে দশমিক ৪৩ পয়েন্ট এবং বিদ্যুতের প্রাপ্তি ও নিরাপত্তা সূচকে দশমিক ৪৭ পয়েন্ট পেয়েছে বাংলাদেশ। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের পর শুধু নেপাল রয়েছে ১১৩তম অবস্থানে। দেশটির অর্জন দশমিক ৪৯ পয়েন্ট। দশমিক ৬৩ পয়েন্ট নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে শ্রীলঙ্কা।  বিদ্যুতের কাঠামো সূচকে দেশটির অবস্থান বিশ্বে ৫৯তম। দশমিক ৫৫ পয়েন্ট পেয়ে ৮৭তম অবস্থানে রয়েছে ভারত। দশমিক ৫২ পয়েন্ট নিয়ে তালিকায় ১০১ তম অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তান। 
দেশগুলোর বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সম্পর্কে তুলনামূলক ধারণা পেতে এ ধরনের সূচক প্রকাশ করেছে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম। ফলে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে মাথাপিছু বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমান, জ্বালানি আমদানি, ভর্তুকি, কারখানাগুলোয় বিদ্যুতের দাম, বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার, বিদ্যুৎ উৎপাদনের ফলে কার্বন নিঃসরণ প্রভৃতি বিষয় বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। এ তালিকায় ভিয়েতনাম রয়েছে ৭৭তম অবস্থানে। তালিকায় বাংলাদেশের পরে রয়েছে লিবিয়া, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, ত্রিনিদাদ টেবাগো, নাইজেরিয়া, টোগো, মঙ্গোলিয়ার মতো দেশ।
বিশ্বে সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করেÑ এমন দেশগুলো শীর্ষ তালিকায় নেই। চীন রয়েছে ৯৫তম অবস্থানে, ভারত ৮৭, জাপান ৪৫, রাশিয়া ৪৮, যুক্তরাষ্ট্র রয়েছে ৫২তম অবস্থানে। কয়েকটি দেশ তুলনামূলক কম জ্বালানি ব্যবহার করেও তালিকায় উপরে উঠে এসেছে। দেশগুলোর জ্বালানির সহজলভ্যতা, সাধারণের ব্যবহারের জন্য নাগালের উপযোগী করে দেয়া, আরও নিরাপদ ব্যবস্থা গড়ে তোলায় দেশগুলো এগিয়ে গেছে। গেল বছরের প্রতিবেদনে শীর্ষ ২০টি দেশের তালিকায় নাম ছিল ইউরোপের দেশগুলো। এবারের প্রতিবেদনে কলাম্বিয়া (অষ্টম), নিউজিল্যান্ড (নবম), উরুগুয়ে (দশম) এবং কোস্টারিকা (১৪তম) তাদের দেশের অবস্থান উন্নতির মাধ্যমে তালিকার উপরে উঠে এসেছে।