আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৭-০৩-২০১৭ তারিখে পত্রিকা

সংগ্রহ করা যাচ্ছে না নারী গৃহকর্মী

সৌদিতে পুরুষ কর্মী যাওয়া অনিশ্চয়তায়

রকীবুল হক
| শেষ পাতা

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশের প্রধান শ্রমবাজার সৌদি আরবে আংশিকভাবে পুরুষ কর্মী পাঠানো শুরু হলেও নারী গৃহকর্মী নেয়ার শর্তে তা আবারও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। সৌদি আরবের পক্ষ থেকে নারী গৃহকর্মীর সঙ্গে তার স্বজন পুরুষ কর্মী পাঠানোর শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে। তবে সৃষ্ট নানা সমস্যার কারণে দেশে নারী কর্মী সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হচ্ছে রিক্রুটিং এজেন্সি-সংশ্লিষ্টরা। ফলে দেশটিতে যাওয়ার জন্য বিপুলসংখ্যক পুুরুষ কর্মী আগ্রহী থাকলেও তাদের পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় পুরুষ কর্মীর বাজার উন্মুক্ত করার জন্য সরকারকে সৌদি আরব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন জনশক্তি রফতানিকারকরা। 
এদিকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সৌদিতে যেতে না পেরে অনেক পুরুষ কর্মী ফ্রি ভিসায় দেশটিতে পাড়ি জমাচ্ছেন। এদের অনেকে নানা জটিলতার মুখোমুখিসহ বৈধতা পাচ্ছেন না। বর্তমানে সৌদিতে যেসব কর্মী অবৈধ আছেন, তাদের বেশিরভাগই এ ফ্রি ভিসাসহ অন্য প্রক্রিয়া গেছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। 
জানা গেছে, ৭ বছর পর ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশীদের জন্য শ্রমবাজার আংশিকভাবে খুলে দেয় সৌদি আরব। প্রাথমিকভাবে মাসে ১০ হাজার করে ৫ লাখ নারী গৃহকর্মী নেয়ার ঘোষণা দেয় দেশটি। এরই ধারাবাকিতায় ওই বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি গৃহকর্মী পাঠানোর বিষয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি মালিকদের সংগঠনের (বায়রা) মধ্যে দুইটি চুক্তি সই হয়। তবে সৌদি আরবের চাহিদা অনুযায়ী নারী কর্মী পাঠাতে ব্যর্থ হয় বাংলাদেশ সরকার। এ কারণেই দেশটিতে পুরুষ কর্মীর বাজার খুলতে অলিখিত বাধা ছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। অবশ্য সরকারের যোগাযোগের এক পর্যায়ে গেল বছর মে মাসে নারী কর্মীর সঙ্গে আত্মীয় পুরুষ কর্মী নেয়ার শর্ত দেয় সৌদি আরব। তবে সৌদি আরবে গিয়ে নারী গৃহকর্মীদের অনেকে নিগৃহীতসহ নানাভাবে হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগে সেখানে যেতে আগ্রহীর সংখ্যা ব্যাপক হারে কমে গেছে। বর্তমানে নারী কর্মী সংগ্রহে অনেকটা ব্যর্থ হচ্ছেন এজেন্সি-সংশ্লিষ্টরা। ফলে পুুরুষ কর্মী পাঠানোও সম্ভব হচ্ছে না। 
এ প্রসঙ্গে বায়রার সভাপতি বেনজীর আহমদ আলোকিত বাংলাদেশকে জানান, একজন নারী কর্মীর সঙ্গে দুইজন পুরুষ কর্মী পাঠানোর শর্ত দিয়েছে সৌদি আরব। নারী কর্মী ছাড়া কোনো পুরুষ কর্মীর পাসপোর্ট জমা নিচ্ছে না ঢাকার সৌদি দূতাবাস কর্তৃপক্ষ। তিনি বলেন, সৌদি আরবে গিয়ে নারী গৃহকর্মীরা নানা সমস্যায় পড়ছেন, নিগৃহীত হচ্ছেন। এতে এজেন্সি কর্তৃপক্ষের সুনাম নষ্ট হওয়াসহ নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই একদিকে যেমন নারী কর্মী সংকট দেখা দিয়েছে, অন্যদিকে এজেন্সি-সংশ্লিষ্টরাও সহজে নারী কর্মী পাঠানোর ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে না। আর শর্ত অনুযায়ী পুরুষ কর্মীও পাঠানো যাচ্ছে না। বায়রা সভাপতি বলেন, এখনও সৌদি আরবেই সবচেয়ে বেশি যাচ্ছেন বাংলাদেশী শ্রমিকরা। এদের ৯০ শতাংশই যাচ্ছেন আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে যোগাযোগ করে ফ্রি ভিসায়। পরে তাদের অনেকে দেশটিতে নানা সমস্যায় পড়ছেন। আগ্রহী পুরুষ শ্রমিকদের সৌদি আরবে পাঠাতে দেশটির সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি করার উদ্যোগ নেয়া হবে বলেও জানান তিনি। 
বায়রার মহাসচিব রুহুল আমিন স্বপন বলেন, সামগ্রিকভাবে সৌদি আরবে শ্রমিকের চাহিদা আগের চেয়ে কমে যাচ্ছে। বর্তমানে তাদের যেটুকু চাহিদা রয়েছে, তার মধ্যে নারী কর্মীর চাহিদাই বেশি। 
চুক্তি অনুযায়ী দেশটিতে নারী কর্মী পাঠানো অব্যাহত রয়েছে। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গেল বছর মোট ১ লাখ ৪৩ হাজার ৯১৩ জন শ্রমিক সৌদি আরবে গেছেন। এর মধ্যে নারী কর্মী রয়েছেন ৬৮ হাজার ২৮৬ জন। চলতি বছরের প্রথম ২ মাসে সৌদিতে গেছেন ৯৪ হাজার ৫১২ জন শ্রমিক। এর মধ্যে নারী কর্মী রয়েছেন ১২ হাজার ৪৭৫ জন।