আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৭-০৩-২০১৭ তারিখে পত্রিকা

সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ রুখে দেয়ার প্রত্যয়

চট্টগ্রাম বরিশাল খুলনা রাজশাহীতে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন

আলোকিত ডেস্ক
| নগর মহানগর

সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ রুখে দেয়ার প্রত্যয়ে চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনা, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষে রোববার ভোর থেকেই শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ রাজনৈতিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে দিবসটি উদযাপন করা হয়। ব্যুরো ও প্রতিনিধির খবরÑ
চট্টগ্রাম : ভোর থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ ফুল দিয়ে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানায়। এছাড়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও দিবসটি উদযাপন করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। 
ভোর ৬টায় চট্টগ্রাম শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে প্রথম শ্রদ্ধা জানান প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি। এরপর ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ সালাম ফুল দেন। এছাড়া বিভাগীয় কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, মহানগর পুলিশ কমিশনার, পুলিশ সুপার শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এরপর শহীদ মিনার এলাকা সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। 
এদিকে বিকাল ৪টায় থিয়েটার ইনস্টিটিউট চট্টগ্রাম (টিআইসি) চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে স্বাধীনতা স্মারক সম্মাননা দেয়া হয়। 
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়েও মহান দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি উদযাপিত হয়েছে। সকাল ৮টায় স্বাধীনতা স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ভিসি প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী। সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু চত্বরে এ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। 
এদিকে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) দিনব্যাপী মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষে ক্যাম্পাসে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন, জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ক্যাম্পাসে শহীদদের কবর জিয়ারত, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ, শিশু-কিশোরদের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়েটের ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম। 
বরিশাল : জেলা প্রশাসক কার্যালয়সংলগ্ন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিফলকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এছাড়া দিনভর প্রশাসন ও বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে নানা কর্মসূচি পালিত হয়। জেলা ও মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এবং সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম নেতারা ফুল দিয়ে দিবসের কার্যক্রমের সূচনা করেন। পরে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসকসহ পুলিশ প্রশাসন, আনসার ভিডিপি, কেন্দ্রীয় কারাগার, দুদক, সনাক, প্রেসক্লাব, জাসদ, সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়।
রাজশাহী : সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিনের শুভ সূচনা করে স্মৃতিফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। সকাল সাড়ে ৮টায় মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার নূর উর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে দিবসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন শেষে প্যারেড পরিদর্শন, কুচকাওয়াজের অভিবাদন গ্রহণ, শারীরিক কসরত প্রত্যক্ষ এবং পুরস্কার বিতরণ করেন। এদিকে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। জাতির শান্তি, অগ্রগতি, কল্যাণ কামনা করে সব মসজিদে বাদ জোহর ও অন্যান্য উপাসনালয়ে সুবিধামতো সময়ে বিশেষ মোনাজাত এবং প্রার্থনা করা হয়। এছাড়া রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল পৃথক পৃথক কর্মসূচি পালন করে।
খুলনা : প্রত্যুষে নগরীর কালেক্টরেট প্রাঙ্গণে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে দিবসের সূচনা হয়। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। সকাল ৮টায় জিলা স্কুল মাঠে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন বিভাগীয় কমিশনার মোঃ আবদুস সামাদ। পরে সেখানে বিভিন্ন বাহিনী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীদের সমাবেশ, কুচকাওয়াজ, ডিসপ্লে ও শরীরচর্চা প্রদর্শন করা হয়। বেলা ১১টা থেকে নগরীর বিভিন্ন সিনেমা হল ও দৌলতপুর শহীদ মিনারসহ বিভিন্ন উন্মুক্ত স্থানে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্য চলচ্চিত্র ও দুর্নীতিবিরোধী তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেয়া হয়। মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগ নগরীতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করে। এছাড়া খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপি, জাতীয় পার্টি-জেপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল আলোচনা সভার আয়োজন করে। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পৃথক পৃথক কর্মসূচির আয়োজন করে।
রাবি : দিবসের প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ১ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষসহ ঊর্ধ্বতন কর্তাব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এর পর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা, রাবি শহীদ স্মৃতি সংগ্রহশালা, রাবি সাংবাদিক সমিতিসহ অন্যান্য সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। সকালে বিভিন্ন আবাসিক হল, ইনস্টিটিউট, বিভাগ, অন্যান্য পেশাজীবী এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রভাত ফেরি ও শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে।