আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২০-০৪-২০১৭ তারিখে পত্রিকা

ক্যাপসিকামে সম্ভাবনা

মোশারফ হোসেন, নকলা (শেরপুর)
| সুসংবাদ প্রতিদিন

ক্যাপসিকাম বিশ্ব দরবারে একটি জনপ্রিয় সবজি। সারা বিশ্বে টমেটোর পরই দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ সবজি হচ্ছে ক্যাপসিকাম। বাংলাদেশের মাটিতে ক্যাপসিকামের চাষ এক সময় স্বপ্ন ছিল। কিন্তু অনুকূল আবহাওয়া ও উৎপাদন উপযোগী মাটি থাকায় এদেশে ক্যাপসিকামের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। এটি আমাদের দেশীয় প্রচলিত সবজি না হলেও এখন তা বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হচ্ছে। ছড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন জেলা-উপজেলায়। ক্যাপসিকাম অভিজাত হোটেল ও মার্কেটে বিক্রি করাসহ সালাতে প্রচুর পরিমাণে ব্যবহার হচ্ছে। তাছাড়া বিদেশে এর চাহিদা থাকায় রফতানির প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। 

শেরপুরের নকলা উপজেলায় ক্যাপসিকাম চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। উপজেলার পৌর এলাকা, ধুকুড়িয়া, রামপুর, কবুতরমারী, বাউসা, বাছুর আলগা, জানকীপুর, কায়দা, মমিনাকান্দা, মাউড়া ও ভাইটকান্দি গ্রামের ছোট-বড় ৩২ নার্সারি ব্যবসায়ী ও অনেক শৌখিন চাষিসহ অন্তত শতাধিক কৃষক এটি চাষ শুরু করেছেন। ভাইটকান্দির পারভেজ জানান, ৩ বছর আগে তুর্কি থেকে দেশে ফিরে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে ময়মনসিংহ থেকে বীজ এনে ক্যাপসিকাম চাষ শুরু করেন। প্রথম বছর তিনি পলিথিন ও টবে চারা উৎপাদন করে ভ্যানে নিয়ে বিভিন্ন বাজার ও গ্রামে ফেরি করে প্রতিটি চারা ৮০ থেকে ১২০ টাকা করে বিক্রি করেছেন। তাতে ওই বছর লাভ হয় ৫০ হাজার টাকা। পরের বছর আরও বেশি করে চারা উৎপাদন ও বিক্রি করে প্রায় ১ লাখ টাকা আয় করেন। এতে লাভ বেশি দেখে অন্য নার্সারি ব্যবসায়ীরাও ক্যাপসিকাম বা মিষ্টি মরিচ চাষ শুরু করে সবাই লাভবান হয়েছেন। 
সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোঃ আনোয়ার হোসেন জানান, ক্যাপসিকাম চাষে প্রতি শতক জমিতে ৪০ কেজি গোবর, ১.৫ কেজি টিএসপি, ১ কেজি করে ইউরিয়া ও এমওপি, ৪৫০ গ্রাম জিপসাম ও ২০ গ্রাম দস্তা নিয়মমতো প্রয়োগ করলে ফলন ভালো হয়। জমি তৈরি করার সময় অর্ধেক গোবর প্রয়োগ করতে হবে। বাকি অর্ধেক গোবর ও সম্পূর্ণ টিএসপি, দস্তা, জিপসাম এবং বাকি ইউরিয়া ও এমওপির তিন ভাগের এক ভাগ চারা রোপণের গর্তে প্রয়োগ করতে হবে। বাকি তিন ভাগের দুই ভাগ ইউরিয়া এবং এমওপি দুই ভাগে ২৫ দিন ও ৫০ দিন পর প্রয়োগ করা উত্তম। 
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীর বলেন, নকলার মাটি যে কোনো কৃষি ফসল চাষ ও উৎপাদনের জন্য উপযোগী। সঠিক সময়ে বপন করে প্রয়োজনমতো সেবা করতে পারলে যে কোনো কৃষক ক্যাপসিকাম চাষ করে সফল হতে পারেন। অল্প জমিতে এবং বাড়ির ছাদ বা আঙিনায় ক্যাপসিকাম চাষ করা যায়।