আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৮-০৫-২০১৭ তারিখে পত্রিকা

পাঁচ জয়িতার সাফল্যগাথা

মোঃ আল আমিন টিটু, ভৈরব
| সুসংবাদ প্রতিদিন

দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা রেখে চলেছেন ভৈরবের পাঁচ জয়িতা। জীবন-সংগ্রামে বিজয়ী এসব নারীর অসামান্য সাফল্যে যেন এগিয়ে চলছে লাল সবুজের বাংলাদেশ। সম্প্রতি পাঁচটি ক্যাটাগরিতে তাদের জয়িতা নির্বাচন করেন ভৈরব উপজেলা মহিলাবিষয়ক অধিদফতর। আর পাঁচ জয়িতা হলেন মোছাঃ শামসুন্নাহার খুশি, মোছাঃ সুলতানা বেগম, অঞ্জনা বেগম, তাসলিমা বেগম ও মোছাঃ দিলোয়ারা বেগম। নিজ নিজ ক্ষেত্রে অবদানের জন্য তাদেরই এ সম্মাননা দেয়া হয়। জানা গেছে, জীবনযুদ্ধে বিজয়ী জয়িতাদের সাফল্যের পেছনে ছিল সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন ও কঠোর পরিশ্রম। এদেরই একজন পৌর শহরের আমলাপাড়ার বাসিন্দা মোছাঃ শামসুন্নাহার খুশি। ২০১০ সালে তার বিয়ে হয়। স্বামীর স্বল্প বেতনে চাকরিতে সংসারের চাকা ঘুরত না। এরই মধ্যে বিয়ের দেড় বছর পর একটি সন্তান জন্ম নেয়। সংসারের টানাপড়েন আরও বাড়তে থাকে। তখন নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার সংকল্প নিয়ে উপজেলা থেকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেন খুশি। নকশিকাঁথা ও পোশাক তৈরির কাজ দিয়ে তার পথচলা শুরু হয়। পরে আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। এতে করেই তিনি সংসারে এনেছেন আর্থিক সচ্ছলতা। এছাড়াও তিনি স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলে শিক্ষকতা করছেন। ফলে প্রতি মাসে খুশির আয় ২০ হাজার টাকা। অন্যজন উপজেলার বাঁশগাড়ি গ্রামের বাসিন্দা ও বর্তমানে গজারিয়া ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য মোছাঃ সুলতানা বেগম। এক সময় আর্থিক অসচ্ছলতায় সংসার চললেও এখন আর্থিকভাবে সচ্ছল তিনি। তিন মেয়ে ও এক ছেলে। বড় মেয়ে মাস্টার্স শেষ করার পর ঢাকার উত্তরায় মাইলস্টোন কলেজে শিক্ষকতা করছেন। আর মেজো মেয়ে মাগুরা সদর হাসপাতালে নার্সিং ডিপ্লোমা ফাইনাল বর্ষের ছাত্রী। সবার ছোট মেয়ে ভৈরব টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। আর ছেলে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি থেকে সিভিল টেকনোলজি ডিপ্লোমা শেষ করেছেন। অনেক অভাব-অনটনের মধ্যেও হাল ছাড়েননি সুলতানা। চার সন্তানের লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে যেতে স্বামীকে সবসময় উৎসাহ ও প্রেরণা জুগিয়েছেন তিনি। স্বামীর স্বল্প আয়ের সংসারে নিজে রোজগার করে সন্তানদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন। গভীর রাতে জুতার আপার সেলাই করে টাকা রোজগার করতেন সুলতানা। অপরজন অঞ্জনা বেগম। তিনি উপজেলার তুলাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা। এক সন্তানের জননী। এখন তার বয়স ৩৩ বছর। বিয়ের তিন বছর পর তালাকপ্রাপ্ত হন। আর্থিক অবস্থা ছিল খুবই নাজুক। হাঁস, মুরগি ও গরু পালনের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে নিজের মেধা কাজে লাগিয়ে জীবনের সঙ্গে যুদ্ধ করে নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছেন অঞ্জনা। শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী হলেন তাসলিমা বেগম। সে পৌর এলাকার কমলপুর গ্রামের বাসিন্দা। সমাজের উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখেছেন যে নারী তিনি হলেন মোছাঃ দিলোয়ারা বেগম। তিনি উপজেলার মিরারচর গ্রামের বাসিন্দা। চার সন্তানের জননী। নিম্ন আয়ের সংসারে তিনি একজন গৃহিণী। কোনো বিনিময় ছাড়াই সমাজের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।