আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২০-০৯-২০১৭ তারিখে পত্রিকা

সাদা মাছে লাখোপতি

মুহাম্মদ নূরুজ্জামান, খুলনা
| সুসংবাদ প্রতিদিন

খুলনা মহানগরীর পূর্বদিকে ভৈরব নদ পার হলেই দিঘলিয়া উপজেলা। এ উপজেলার ছোট্ট একটি গ্রাম লাখোহাটি। এ গ্রামের অধিকাংশ মানুষই এক সময় খুবই দরিদ্র ছিল। অভাব-অনটনে দিন কাটত তাদের। কিন্তু এখন ‘অভাব’ শব্দটি ভুলে গেছে লাখোহাটি গ্রামের মানুষ। সাদা মাছের পোনা বদলে দিয়েছে ওই গ্রামের কয়েকশ’ পরিবারের জীবনযাত্রা। লাখোহাটি গ্রামের ঘরে ঘরে এখন লাখোপতি। 

বছরে এ গ্রামে শতকোটি টাকারও বেশি সাদা মাছের পোনা উৎপাদন  হচ্ছে। প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই হাজার মণ মাছের পোনা ট্রাকে করে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রির   জন্য পাঠানো হচ্ছে। ফলে ভরা মৌসুমে মাছের পোনা পরিচর্যা নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন মাছ চাষিরা। এসব গ্রামের  খাল-বিল, ডোবা-নালা, ঘের ও পুকুর যেখানেই পানি, সেখানেই এখন মাছ আর মাছ। চলছে রুই, কাতলা, মৃগেল, সিলভার কার্প, গ্রাস কার্প, পুঁটি পোনার পরিচর্যা। আবার সঙ্গে সঙ্গে  তৈরি হচ্ছে নতুন প্রজাতিও। পোনা পরিচর্যাকে কেন্দ্র করে পরিবহন শ্রমিক, খাবার ব্যবসায়ী, চাষির সংখ্যা  প্রতি বছরই বাড়ছে। ব্যাংক ঋণ ও মৎস্য অধিদফতরের পরামর্শ ছাড়াই গ্রামের ক্ষুদে ব্যবসায়ীরা এ সাফল্য অর্জন করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, খুলনা মহানগরী ভৈরব নদের পূর্বপাশে দিঘলিয়া উপজেলার বারাকপুর ইউনিয়নের লাখোহাটি গ্রাম। ১৯৬৫ সালে এ গ্রামের  বাসিন্দা হরিপদ বিশ্বাস প্রথমে সাদা মাছের পোনা পরিচর্যার ব্যবসা শুরু করেন। এর কয়েক বছর পর তিনি দেশত্যাগ করেন, পাড়ি জমান ভারতে। কিন্তু তার দেখানো পথেই স্থানীয়রা ঝুঁকে পড়ে সাদা মাছের পোনা পরিচর্যায়। এখান থেকে বরিশাল, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, বাগেরহাট, নড়াইল, ফরিদপুর, মংলা, রামপালসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পোনা সরবরাহ করা হয়।
সূত্র জানায়, জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ ব্যবসার মৌসুম হিসাবে ধরা হয়। এ সময় প্রতি দিন  দুই থেকে আড়াই হাজার মণ ট্রাকে মাছের পোনা দেশের বিভিন্ন জেলায়  বিক্রির  জন্য পাঠানো হয়। পোনা ব্যবসায়ী মোঃ মাহাবুব আলম লিটন বলেন, যশোর, ফুলতলা, শিরোমনি, খুলনার হ্যাচারি থেকে এ বছর ফেব্রুয়ারিতে কাতলা, গেলাসকার্প, চাইনিজ পুঁটি, মৃগেলসহ বিভিন্ন রকমের মাছের ডিম প্রথমে প্রতি কেজি  ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা ও পরে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত কেনেন তিনি। মাছের ডিম কেনার পর নিজস্ব মৎস্য খামারে ছেড়ে দেন। এ বছর ১০ একর পুকুরে পোনা মাছের চাষ করেন তিনি।