আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৫-১১-২০১৭ তারিখে পত্রিকা

চলনবিলের শুঁটকি যায় বিদেশে

এস এম তফিজ উদ্দিন, সিরাজগঞ্জ
| দেশ

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার চলনবিল এলাকার মহিষলুটি শুঁটকি পল্লীতে এখন বিভিন্ন প্রজাতির মাছ শুকানোর ধুম লেগেছে। এখানকার উৎপাদিত শুঁটকি রংপুর, নীলফামারী, দিনাজপুর, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের চাহিদা পূরণ করেও বিদেশে রফতানি হয়। এতে লাখ লাখ টাকা আয় করেন শুঁটকি ব্যবসায়ীরা। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে ঐতিহাসিক চলনবিলে জেলেরা বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরায় ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন। এসব মাছ দিয়ে শুঁটকি তৈরি করা হচ্ছে। যেসব মাছে শুঁটকি তৈরি হচ্ছে সেগুলোর মধ্যে পুঁটি, টেংরা, গোছই, শোল, পিছি বোয়াল, টাকি, বাতাসি, চেলা, চাপিলা উল্লেখযোগ্য। এ বছর এ এলাকায় লাখ লাখ টাকার শুঁটকি উৎপাদিত হচ্ছে। এ শুঁটকি তৈরির কাজে নির্ধারিত মজুরিতে এলাকার বহু নারী-পুরুষ রাত দিন কাজ করছেন। এ বিষয়ে মহিষলুটি বাজার এলাকার শুঁটকি পল্লীর অনেক মালিক জানান, এ অঞ্চলে তাজা মাছের মূল্য কম থাকায় এবং মাছ প্রচুর আমদানি হওয়ায় মহিষলুটি আড়ত থেকে মাছ কিনে তারা শুঁটকি তৈরি করছেন। দেশজুড়ে এখন মহিষলুটির সুস্বাদু শুঁটকি মাছের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিগত বছরগুলোর তুলনায় এ বছর চলনবিলে ব্যাপক মাছ ধরা পড়ছে। এ বছরও উৎপাদিত শুঁটকি দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করে চাহিদা পূরণ করা হচ্ছে। আবদুল গফুর, দেলবার উদ্দিনসহ আরও কয়েকজন প্রায় ২০ বছর ধরে শুঁটকি ব্যবসায় নিয়োজিত রয়েছেন। তারা প্রতি বছর প্রায় ৫ মাস এ ব্যবসা করেন। তারা জানান, এখানে মহিলা শ্রমিককে ২০০ থেকে ২২০ টাকা এবং পুরুষ শ্রমিককে ৩০০ টাকা করে মজুরি দেয়া হয়। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় শুঁটকি উৎপাদনে লাভবান হওয়ার আশা করা হচ্ছে। আর্থিক সংকট থাকায় চাহিদা অনুযায়ী শুঁটকি ব্যবসা বাড়ানো যাচ্ছে না। সরকারের আর্থিক সহযোগিতা পেলে এ ব্যবসার আরও বিস্তার ঘটবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা। এ বিষয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন, চলনবিলের শুঁটকি উৎপাদনকারীদের ব্যাংক ঋণ দেয়া প্রয়োজন। সহজ শর্তে ঋণ পেলে তাদের এ ব্যবসার আরও বিস্তার ঘটবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।