আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৫-১১-২০১৭ তারিখে পত্রিকা

কাদেরের স্বপ্নের বাড়ি যেন সবুজ বাংলার প্রতিচ্ছবি

আরিফুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা
| প্রথম পাতা

বৃক্ষপ্রেমিক আবদুল কাদের। গাছ লাগানো ও পরিচর্যা করা তার নেশা। নিজের বাড়ি তো বটেই, গ্রামের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি খোলা জায়গায় গাছ লাগান তিনি। সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগে গাছ লাগিয়ে একটি সবুজ-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়াই তার লক্ষ্য। স্থানীয়রা তাকে চেনেন ‘কলা কাদের’ নামে।

বৃক্ষপ্রেমিক আবদুল কাদেরের বাড়ি চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার দিগড়ী গ্রামে। নিজের জমিজমা বলতে আছে মাত্র ১০ শতকের 
একটি টিনচালা বাড়ি। গাছ লাগানোর নেশা থেকেই কাদের নিজের বসতভিটায় কামরাঙা, মালটা, চালতা, তেঁতুল, আঙুরসহ অনেক ফলদ গাছ লাগিয়েছেন। আছে শতাধিক প্রজাতির ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারাও। দূর থেকে বাড়িটি দেখলে মনে হবে, সবুজে ভরা একটি স্বপ্নের বাড়ি। সেখানে শোভা পাচ্ছে শুধু সবুজ আর সবুজের সমারোহ।
বৃক্ষপ্রেমী আবদুল কাদের জানান, ১০ শতকের ওপর গড়ে তোলা বসতভিটা ছাড়া তার আর কোনো জায়গা নেই। ছোট্ট এ বসতবাড়িকেই তিনি সবুজে সবুজে ভরিয়ে তুলেছেন। নিজের স্ত্রীর গহনা বিক্রির মাত্র ২ হাজার টাকা দিয়ে গাছ কেনা শুরু করেন আবদুল কাদের। বাড়ির পুরো আঙিনায় লাগিয়েছেন অনেক গাছ। তার স্বপ্নের বাড়ি দেখতে প্রায় প্রতিদিনই জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে এবং আশপাশের জেলা থেকে অসংখ্য মানুষ ভিড় জমান। আবদুল কাদেরের বাড়ি দেখতে আসা রুবেল হাসান জানান, চারপাশে গাছগাছালিতে ভরা তার এ বসতবাড়ি দেখে তিনি বৃক্ষপ্রেমে নতুন করে উৎসাহিত হয়েছেন। এতটুকু জায়গায় নিজের মাথাগোঁজার ঠাঁই করার পাশাপাশি যে এভাবে নানান ধরনের গাছগাছালি দিয়ে বাড়ি সাজিয়ে তোলা যায়, এটা রীতিমতো তার কাছে বিস্ময়ের ব্যাপার।
স্থানীয়রা জানান, বৃক্ষপ্রেমী আবদুল কাদের শুধু তার নিজ বসতবাড়িতে গাছ রোপণ কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখেননি, গ্রামের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, খেলার মাঠ, সড়কের দুই পাশে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে গাছ লাগিয়েছেন। এলাকার অনেকে এখন তাকে অনুসরণ করেন। দিনের বেশিরভাগ সময়ই তার কাটে নতুন নতুন গাছ লাগানো আর পরিচর্যার মধ্য দিয়ে। যেন গাছ লাগানো আর পরিচর্যা তার নিত্যদিনের নেশা।
বৃক্ষপ্রেমী আবদুল কাদেরের বাড়ি দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে অনেকেই তাদের বাড়িও ফুল ও ফলের গাছে সুশোভিত করেছেন। তাদেরই একজন দিগড়ী গ্রামের রহিম ম-ল। রহিম ম-লের মতে, আবদুল কাদের তাদের কাছে একজন আইডল। কাদেরের দেখানো পথে তিনিসহ অনেকে তাদের স্বপ্নের বাড়ি সবুজে ভরিয়ে তুলছেন। কাদের নিজের এ কর্মের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে চান। জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত তিনি এ কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখবেন বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা তালহা জুবাইর মাশরুর জানান, আবদুল কাদেরের এ কাজকে সামনে এগিয়ে নিতে কৃষি বিভাগও রয়েছে তার পাশে। গাছগাছালি রোপণ ও পরিচর্যার বিষয়ে তাকে প্রশিক্ষণ এবং নির্দেশনা দিচ্ছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ। চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদ জানান, মানুষের মুখে মুখে শুনে তিনি নিজেও বাড়িটি পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, একটি বাড়ি যে এত সুন্দর ও মনোরম হতে পারে, তা আবদুল কাদেরের বাড়ি না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। এমন একজন সাদামনের মানুষকে তার কাজে সহযোগিতা করতে সরকারিভাবে সব ধরনের সহযোগিতারও আশ্বাস দেন তিনি।
বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যার ওপর আবদুল কাদের ২০১০ ও ২০১১ সালে রাজধানীর খামারবাড়িতে আয়োজিত কৃষি প্রযুক্তি মেলায় একাধিক পুরস্কারও পেয়েছেন। এছাড়া ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘স্বনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণে কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি’ শীর্ষক আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আদর্শ কৃষক হিসেবে আবদুল কাদেরকে সম্মাননা দেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী।