আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৫-১১-২০১৭ তারিখে পত্রিকা

বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধিতে জনজীবনে প্রভাব পড়বে না -জ্বালানি উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক
| প্রথম পাতা

গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ইউনিটপ্রতি গড়ে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধিকে খুবই সামান্য এবং মামুলি ব্যাপার বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী। তিনি বলেছেন, এ বৃদ্ধির কারণে জনজীবনে কোনো প্রভাব পড়বে না। এটা খুবই অল্প।

শুক্রবার সকালে বিদ্যুৎ ভবনে ‘সেক্টর লিডারস ওয়ার্কশপ’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী এক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে এমন মন্তব্য করেন তিনি। অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এ কর্মশালার আয়োজন করে বিদ্যুৎ বিভাগ। বিদ্যুৎ, খনিজ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়সহ এসব সেক্টরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব দফতরের প্রধানরা এ কর্মশালায় অংশ নিয়েছেন। কর্মশালা শেষ হবে আজ।
তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেন, সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই বাংলাদেশ রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণ করেছে। দাম বাড়ানো হলেও সরকারকে ৪ হাজার কোটি টাকার মতো এখাতে ভর্তুকি দেয়া লাগবে। সরকার এটাকে ভর্তুকি বলে না, এটাকে বলা হয় মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নে একটা বিনিয়োগ। তিনি বলেন, গ্রামেগঞ্জে লাইফলাইন গ্রাহকদের বিদ্যুতের বিল বাড়েনি। নিম্ন মধ্যবিত্ত গ্রাহকদের বিল সামান্য বেড়েছে। মিনিমাম চার্জ একটা নেয়া হতো, সেটাকে রহিত করা হয়েছে। সামঞ্জস্যকরণ করা হয়েছে। সামান্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত তেলের মূল্য কমিয়ে বিদ্যুতের দাম স্থিতিশীল রাখা যেত কিনা এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ বলেন আর যাই বলেন, এক জায়গায় ভর্তুকি কমালে আরেক জায়গায় বাড়ে।
একই অনুষ্ঠান শেষে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু সাংবাদিকদের বলেন, বিদ্যুতের দাম খুব বেশি বাড়ানো হয়নি। ২০০ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের এখন থেকে মাসে অতিরিক্ত ২০ থেকে ২৫ টাকা বিল দিতে হবে। গ্রাহক পর্যায়ে যে প্রভাব পড়বে তা সহনীয় বলেই মনে করি। অনুষ্ঠানে তিনি বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, যে কোনো ধরনের অ্যাডজাস্টমেন্টেই কিছুটা প্রভাব থাকে। কিন্তু সেটা সহনীয় কিনা সেটা হলো প্রশ্ন। বিইআরসি সব যুক্তিতর্ক শুনে মনে করছে যে, এটা অ্যাফর্ডেবল। এখানে আমার কোনো বক্তব্য নেই।
বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব আহমদ কায়কাউসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক সচিব নাজিমউদ্দিন চৌধুরী, বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মাহবুব উল আলম।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এক সাংবাদিক সম্মেলনে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম গড়ে ৩৫ পয়সা বা ৫ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্তের কথা জানায়, যা ১ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হবে। খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। তবে পাইকারিতে বিতরণ কেন্দ্রগুলোর জন্য বিদ্যুতের দাম বাড়ছে না। ৯ বছর আগে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যাওয়ার পর এ পর্যন্ত আটবার বাড়ানো হলো বিদ্যুতের দাম। বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সমালোচনা এসেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে। এর প্রতিবাদে বাম দলগুলো ৩০ নভেম্বর অর্ধদিবস হরতালও ডেকেছে।