আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৫-১১-২০১৭ তারিখে পত্রিকা

সু চি’র কার্যালয়ের বিবৃতি

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সমঝোতা ৯২-এর চুক্তির ভিত্তিতে

আলোকিত ডেস্ক
| প্রথম পাতা

রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে হত্যা-নির্যাতন এড়াতে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারকটি ১৯৯২ সালের চুক্তির ভিত্তিতে সই হয়েছে। বৃহস্পতিবার মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি’র কার্যালয়ের পক্ষ থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো কিছু জানানো হয়নি। এ সমঝোতা চুক্তি সম্পর্কে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিস্তারিত জানানো হতে পারে। খবর মিয়ানমার টাইমসের। 

সু চির কার্যালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সই হওয়া চুক্তিটি ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সরকারের মধ্যে সই হওয়া চুক্তির ভিত্তিতে করা হয়েছে এবং এতে রাখাইনের বাস্তুচ্যুতদের (রোহিঙ্গা) পর্যায়ক্রমে যাচাই ও ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়ে সাধারণ নির্দেশিকা এবং নীতিমালা রয়েছে। বাংলাদেশকে বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভালো প্রতিবেশী উল্লেখ করে সমঝোতা স্মারককে উভয় দেশের স্বার্থসংরক্ষিত হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। 
২৫ আগস্ট রাখাইনে নতুন করে সেনা অভিযান শুরুর পর নির্বিচারে হত্যা, জ্বালাও-পোড়াওয়ের মধ্যে ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, অভিযান চলাকালে রোহিঙ্গাদের এক হাজারের বেশি বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছে রাখাইনে হত্যা, নির্যাতন-নিপীড়ন ও ধর্ষণের শিকার হওয়ার লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ঠাঁই হয়েছে কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন ক্যাম্পে। গত কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশে আরও চার লাখের বেশি রোহিঙ্গা বিভিন্ন ক্যাম্পে অবস্থান করছে। নতুন ও পুরনো রোহিঙ্গাদের নিয়ে বড় ধরনের সংকটে পড়েছে দেশ। এ প্রেক্ষাপটে প্রত্যাবাসনের দাবি উঠে অনেকটা জোরেশোরেই। সরকারও কূটনৈতিক চেষ্টা অব্যাহত রাখে। মিয়ানমারের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই হওয়াকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে প্রাথমিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।