আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৯-০৪-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

গরমে উপকারী ফল

ডা. মহসীন কবির লিমন
| সুস্থ থাকুন

টানা কয়েকদিনের ভ্যাপসা গরমে স্বাস্থ্য নিয়ে অনেকেই চিন্তিত। অন্যদিকে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে নানা ধরনের মৌসুমি ফল। এই গরমে উপকারী কিছু ফলের স্বাস্থ্যগুণ সম্পর্কে আসুন জেনে নিই কিছু তথ্যÑ 


ডাবের পানি
গরমে ডাবের পানি স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। শুধু পানীয় হিসেবেই নয়, গবেষকরা বলেছেন ডাবের পানির মধ্যে রয়েছে কিছু ঔষধি গুণও। ডাবের পানিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে সোডিয়াম ক্লোরাইড ও শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য পুষ্টি। এতে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম আছে। বমির কারণে দেহে পটাশিয়ামের পরিমাণ কমে যায়। ডাবের পানি খেলে পটাশিয়ামের এ ঘাটতি পূরণ হয়। তাই অতিরিক্ত গরম, ডায়রিয়া, বমির জন্য ডাবের পানি পথ্যের মতোই কাজ করে। সম্প্রতি ভারত ও ব্রাজিলের গবেষকরা ডাবের পানির মধ্যে খুঁজে পেয়েছেন তিনটি নতুন ধরনের বিভিন্ন গুণসম্পন্ন পেপটাইজম। এগুলো মানবদেহে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধের মতোই কাজ করে। ডাবে কোনো চর্বি বা কোলেস্টেরল নেই। প্রচুর পরিমাণে খনিজ উপাদান থাকায় এটি বাড়ন্ত শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ সবার জন্যই উপকারী। উচ্চমাত্রার ক্যালসিয়াম রয়েছে ডাবের পানিতে, যা হাড়কে করে মজবুত এবং ত্বক, চুল, নখ ও দাঁতের পুষ্টি জোগায়। অন্যদিকে এতে চিনির পরিমাণও অল্প। তবে যারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, তারা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রেখে ডাবের পানি খাবেন। কিডনিতে পাথর হয়েছে বা ডায়ালাইসিস চলছে, এ ধরনের রোগীর ডাবের পানি না খাওয়াই ভালো।

তরমুজ 
বাজারে পাওয়া যাচ্ছে মৌসুমি ফল তরমুজ। তরমুজের বিভিন্ন প্রজাতি আছে। তার মধ্যে হালকা সবুজ, সাদা দাগবিশিষ্ট ও গাঢ় সবুজ রঙের তরমুজ প্রধান। রসালো সুস্বাদু এ ফলটি পুষ্টিগুণে ভরপুর। 
আসুন জেনে নেই আমাদের দেহে তরমুজের পুষ্টিগুণÑ
* এ ফলটি দেহের পানির ঘাটতি দূর করে।
* তরমুজ ভিটামিন ‘এ’ ও ‘সি’র একটি ভালো উৎস। 
* তরমুজে রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট নামক উপাদান, যা শরীর সতেজ রাখে।
* তরমুজ জ্বর-সর্দি-হাঁচি-কাশি কমায় এবং যক্ষ্মা নিরাময়ে সাহায্য করে।
* পানির পরিমাণ বেশি থাকায় তরমুজ প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া, পেটের আলসার, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।
* তরমুজে লাইকোপেন নামের একধরনের খাদ্য উপাদান রয়েছে, যা অন্ত্রের ক্যান্সার ও প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।
* দেহের জন্য ক্ষতিকর অ্যামোনিয়া দেহ থেকে নিষ্কাশনে ভূমিকা রাখে।
* তরমুজের শরবত টাইফয়েড জ্বরের তীব্রতা কমাতে এবং জ্বরপরবর্তী অস্থিরতা ও ক্লান্তি দূর করে।
* যারা রোদে কাজ করেন, বিভিন্ন কারণে রোদে সময় কাটাতে হয়, যাদের রোদের তাপজনিত ডিহাইড্রেশন হয়। এই ডিহাইড্রেশন কমাতে সাহায্য করে তরমুজ।
* তরমুজে রয়েছে পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ভিটামিন-বি। এই উপাদানগুলো দেহের রোগজীবাণু ধ্বংস করে এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
* আমাদের শরীরে ফ্রি র‌্যাডিকেলস নামের একধরনের পদার্থ রয়েছে, যা দেহের শিরা-উপশিরায় কোলেস্টেরল বা চর্বি জমাতে সাহায্য করে। এতে হৃৎপি-ের রক্তনালিও বন্ধ হয়ে যায় এবং হার্টঅ্যাটাক পর্যন্তও হতে পারে। আবার এর জন্য অ্যাজমার সমস্যাও হতে পারে। তরমুজ এই ফ্রি র‌্যাডিকেলসের পরিমাণ কমায়। অন্যদিকে তরমুজে কোনো কোলেস্টেরল নেই।

আনারস
এই গরমে সর্দি-কাশি এক সাধারণ সমস্যা। যারা সর্দি-কাশিতে ভুগছেন, তাদের জন্য সুখবর হলো সর্দি-কাশিতে আনারস খুবই উপকারী। গবেষণায় দেখা গেছে, আনারসের মধ্যে রয়েছে একধরনের এনজাইম, যা কাজ করে ব্যথানাশক এবং মিউকোলাইটিক হিসেবে। এজন্য সর্দি-কাশি, গলাব্যথায় আনারস কার্যকরী ভূমিকা রাখে। শুধু আমাদের দেশেই নয়, সারা বিশ্বেই সর্দি কাশির ঘরোয়া চিকিৎসায় আনারসের খ্যাতি রয়েছে। মেক্সিকানরা ব্রংকাইটিস রোগে পথ্য হিসেবে খায় আনারস। ভেনিজুয়েলার বাসিন্দারা গলাব্যথায় ওষুধের বিকল্প হিসেবে খায় আনারস। ব্রাজিলিয়ানরাও দারুণ ভক্ত এ আনারসের। নাক দিয়ে পানি পড়লেই ফুটবলের ভক্ত এ ব্রাজিলিয়ানরাও খেতে থাকে আনারস। এছাড়াও আনারসে রয়েছে নানা ঔষধি গুণ। এক আনারসে যদি পান এত গুণ, তবে কেন আনারস খাবেন না। তাই যারা সর্দি-কাশিতে ভুগছেন, তারা আজ থেকেই আনারস খাওয়া শুরু করতে পারেন।

ডা. মহসীন কবির লিমন 
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, লেখক ও গবেষক
ইনচার্জ, ইনস্টিটিউট অব জেরিয়েট্রিক মেডিসিন
বাংলাদেশ প্রবীণহিতৈষী সংঘ, ঢাকা