আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

সবার সচেতন হতে হবে

বেড়েছে পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু

| সম্পাদকীয়

বাংলাদেশে গেল কয়েক বছরে বেড়েছে পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে, অন্য যে কোনো কারণে শিশুমৃত্যুর চেয়ে পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যুর হার আজ সবচেয়ে বেশি। আলোকিত বাংলাদেশে প্রকাশ, দেশে প্রতি বছর প্রায় ১৫ হাজার শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। এ সংখ্যা মোট শিশুমৃত্যুর ৪৩ শতাংশ। আর প্রতিদিন গড়ে ৪১ শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। অর্থাৎ প্রতি ঘণ্টায় মারা যাচ্ছে প্রায় দুটি শিশু। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক উদরাময় রোগ গবেষণাকেন্দ্র বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। নিঃসন্দেহে এভাবে নিয়মিত শিশুমৃত্যুর ঘটনা যে কোনো অভিভাবকের জন্য আতঙ্কজনক সংবাদ। কীভাবে এ অবস্থা থেকে রেহাই পাওয়া যায়, তা নিয়ে এখনই ভাবতে হবে।
উন্নত দেশে পানিতে ডোবার ঘটনা বেশি ঘটে বিনোদনের জন্য ব্যবহৃত সুইমিংপুলে। তবে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এ মৃত্যু ঘটে গ্রামাঞ্চলের পুকুর, ডোবা, নালা, লেক ও নদীতে। এছাড়া নৌযান দুর্ঘটনায় অনেক মৃত্যু ঘটে। শিশুদের ওপর নজর না রাখা, সাঁতার না জানা, পুকুরে বা নালায় সুরক্ষা না থাকা পানিতে ডোবার ঝুঁকি বাড়ায়। উল্লেখ্য, গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে পানিতে ডুবে মারা যাওয়া বেশিরভাগ শিশুর বয়স ১০ মাস থেকে ২ বছরের মধ্যে। এসব শিশু মূলত পরিবারের সচেতনতা বা তত্ত্বাবধানের অভাবে বেশি মারা যায়। আর ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সি শিশুরা মারা যায় সাঁতার না জানার কারণে। অথচ অভিভাবকদের একটু সচেতনতাই পারে পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যুর হারকে অনেকাংশে কমিয়ে আনতে। বিশেষত বাড়ির আশপাশে যাদের পুকুর-খাল-নদী বা জলাশয় রয়েছে, তাদের অবশ্যই উচিত ১০ মাস থেকে তিন বছর বয়সি শিশুদের প্রতি সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা। চার বছর বয়স থেকে উচিত শিশুদের সাঁতার শেখানোর চেষ্টা করা। এছাড়া ডোবা ও পুকুরের চারপাশে বেড়া দিয়ে রাখা উচিত। অন্যদিকে পানিতে পড়ে যাওয়া শিশুকে তোলার পরপরই তাকে কার্যকর প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে হবে, অর্থাৎ শিশুর শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক করতে সাহায্য করতে হবে; কারণ এ সময় শিশু অক্সিজেন স্বল্পতায় ভোগে। সম্ভব হলে শিশুকে দ্রুত হাসপাতাল বা চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলে হয়তো অকাল মৃত্যুর হাত থেকে শিশুকে বাঁচানো সম্ভব। 
এছাড়া পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যুর হার ও দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সরকারকেও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে স্কুল-কলেজসহ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সাঁতার প্রশিক্ষণ ও অনুশীলনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে সাঁতার শেখার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালাতে হবে। নৌকা, জাহাজ কিংবা লঞ্চে লাইফ জ্যাকেটসহ জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম রাখা বাধ্যতামূলক করতে হবে। আর এসব ব্যাপারে নজরদারি বাড়াতে হবে।