আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

সুফিকোষ

কুতুব
| তাসাউফ

‘কুতুব’ আরবি শব্দ, এর আরবি মূলানুগ উচ্চারণ হলো ‘কুত্ব’ (কুৎব)। কুতব এর বহুবচন ‘কুতুব’ ও ‘আকতাব’। অর্থ হলোÑ একত্রকরণ, একত্রকারী, মিলন, মিলানো; দুই চোখের মধ্যস্থিত কপালের কেন্দ্রবিন্দু, দুই ভ্রƒর মধ্যস্থল; মনোযোগী, মনোনিবেশকারী, চিন্তাশীল, দূরদর্শী। ঘূর্ণায়মান বস্তুর কেন্দ্র, ঘূর্ণন যন্ত্রের মধ্যখুঁটি, আটা পেষার চাক্তির ঘূর্ণনকাঠি, আটা পিষার চাক্তির কেন্দ্রদ-। কুতবের আরও অর্থ রয়েছে, যথা : দ্রুবতারা, দিক নির্ণায়ক নক্ষত্র, কিবলা নির্দেশক তারকা। যে গ্রহের চারদিকে উপগ্রহ ঘুরে সে গ্রহ, যে নক্ষত্রের চারদিকে গ্রহ ঘুরে সে নক্ষত্র, যে নক্ষত্রের গ্রহের উপগ্রহ থাকে সে নক্ষত্র হলো ‘কুতবুল আকতাব’ অর্থাৎ কেন্দ্রের কেন্দ্র। এছাড়াও কুতব অর্থ : সেনাপ্রধান বা প্রধান সেনাপতি, দলপতি, সমাজপতি, নৃপতি, নেতা ইত্যাদি। বিশেষত তিরের নিশানা বা লক্ষ্যবস্তুকেও কুতব বলা হয় এবং বৃত্তের কেন্দ্রকে ‘কুতবু দায়েরা’ বা কেন্দ্রবিন্দু বলা হয়। (লিসানুল আরব, ইবনে মানযুর রহ., খ- : ১১, পৃষ্ঠা : ২১১-২১৩, অধ্যায় : কাফ মুসান্না)।  

পরিভাষায় ‘কুতব’ হলো তরিকত ও তাসাউফের সালিকিনদের সাতাশ বা ঊনত্রিশ স্তরের একটি স্তর এবং মাজমুআয়ে উছমানিতে বর্ণিত ইনছানের ঊনচল্লিশ পর্বের বিংশ পর্ব; এটি বিলায়াত ও খিলাফাতের বিশেষ ধাপ। এ স্তরের ওলিরা বিশেষ কেন্দ্রীয় পদধারী ও কর্তৃত্বের অধিকারী হয়ে থাকেন। সাধারণত তাসাউফের পরিভাষায় কুতব তাদের বলা হয়, আধ্যাত্মিক জগৎ পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের প্রধান দায়িত্ব বা কেন্দ্রীয় নির্দেশনা যাদের ওপর থাকে। কুতুবরা বিলায়াতের জগতে প্রধান বা কর্তা। প্রতিটি শহরে অন্তত একজন করে কুতব থাকেন, একাধিকও থাকতে পারেন; তারা ‘কুতবুল মাদিনা’ বা ‘কুতবুল বালাদ’ তথা ‘শহর কুতুব’ নামে অভিহিত হন। কুতুবরা তাসাউফ তথা আধ্যাত্মিক জগতের মূল চালিকাশক্তি। (মাজমুআয়ে উছমানী)।

ি মুফতি শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী