আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

একক বক্তৃতা

নজরুলকাব্যে মিথিক-ঐতিহ্যিক প্রতিমা

| নিত্যজীবন

বক্তব্য রাখছেন জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপনের অংশ হিসেবে বাংলা একাডেমি ৩০ আগস্ট বিকালে একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে একক বক্তৃতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেন বাংলা একাডেমির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। নজরুলকাব্যে মিথিক-ঐতিহ্যিক প্রতিমা : ফিরে দেখা শীর্ষক একক বক্তৃতা করেন অধ্যাপক ভীষ্মদেব চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম। 
অধ্যাপক ভীষ্মদেব চৌধুরী বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন সমন্বয়বাদী সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বার্থক উত্তরাধিকার। ‘প্রলয়োল্লাস’ এবং ‘বিদ্রোহী’তে তিনি যে নিপুণভাবে ঐতিহ্য ও মিথের ব্যবহার করেছেন তা সত্যি বিস্ময়কর। ইসলামি ঐতিহ্য, হিন্দু এবং গ্রিক মিথের স্বাচ্ছন্দ্য ব্যবহারের সমান্তরালে নজরুল-কাব্যে খ্রিষ্ট ও বৌদ্ধ ঐতিহ্যেরও গভীর প্রভাব লক্ষ করা যায়। কাজী নজরুল ইসলাম কবিতায় তার বক্তব্যের যথার্থতা ফুটিয়ে তোলার বাহন হিসেবে বিপুলভাবে মিথ ও ঐতিহ্যের অনায়াস ব্যবহার করেছেন। এক্ষেত্রে তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ দ্বিধাহীন। তার অসাম্প্রদায়িক মানসের প্রকৃত সন্ধান পেতে হলে সমগ্র নজরুল রচনার পাঠ অত্যন্ত জরুরি। কারণ তার কাব্যে ও অন্যান্য রচনায় মিথের ব্যবহার কোনো খ-িত সত্যকে প্রতিষ্ঠা করে না বরং সামগ্রিকভাবে বিশ্ব মানবমঙ্গলের আহ্বান ধ্বনিত করে। 
সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে সাহিত্যসৃষ্টির পরিসর পর্যন্ত নজরুল বিরল এক অসাম্প্রদায়িক ব্যক্তিত্বের নাম। আমাদের দুর্ভাগ্য তার মতো অনন্য প্রতিভাকে এখনও আমরা সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে পারিনি। এখন সময় এসেছে সব ধরনের সংকীর্ণতামুক্ত হয়ে নজরুলকে তার যথার্থ বৈশ্বিক মর্যাদায় প্রতিষ্ঠা করা। 
স্বাগত ভাষণে মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, নজরুল ছিলেন এক বহুমাত্রিক প্রতিভা। যে অসাম্প্রদায়িক- শোষণমুক্ত সমাজ-রাষ্ট্র ও বিশ্বের স্বপ্ন দেখেছেন আমাদেরও সে পথে এগোতে হবে। তবেই এদেশে নজরুল চেতনার যথাযথ বাস্তবায়ন ঘটবে। 
সাংস্কৃতিক পর্বে আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী মো. রফিকুল ইসলাম। নজরুলগীতি পরিবেশন করেন শিল্পী ডালিয়া নওশীন এবং মাকসুদুর রহমান মোহিত খান। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন বিশ্বজিৎ সরকার (তবলা), অসিত বিশ্বাস (এসরাজ) এবং ডালিম কুমার বড়–য়া (কিবোর্ড)।