আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

বিমসটেক সম্মেলন

শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রত্যয়

| সম্পাদকীয়

কাঠমান্ডু ঘোষণার মধ্য দিয়ে শুক্রবার নেপালে শেষ হয়েছে বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনের (বিমসটেক) সম্মেলন। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় নেতাদের অংশগ্রহণে এটা ছিল চতুর্থ বিমসটেক সম্মেলন। এবারের সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, থাই প্রধানমন্ত্রী প্রয়ুত চান ওচা, মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট উন মিনট, ভুটানের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা গিয়ালপো ওয়াংচুক এবং শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা। সমাপনী অধিবেশনে শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে সদস্য সাত রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ১৮ দফা কাঠমান্ডু ঘোষণায় সই করেন। এ ঘোষণায় নেতারা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করার পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদে উৎসাহ, সমর্থন ও অর্থায়নের জন্য জোটভুক্ত দেশগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার বিষয়ে একমত হয়েছেন। সম্মেলনে দেশগুলোর মধ্যে ব্যবসা, বিনিয়োগ, বিদ্যুৎ উৎপাদন-বিতরণ এবং বিদ্যুৎ এক দেশ থেকে সদস্য অন্য দেশে কেনাবেচাসহ সার্বিক বিষয়ে নেতারা বিস্তারিত আলোচনা করেন। 
সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিমসটেকভুক্ত অঞ্চলে সৌরবিদ্যুৎ গ্রিড ও যাত্রীবাহী জাহাজ চালুর প্রস্তাব করেছেন। পাশাপাশি আঞ্চলিক, আন্তর্জাতিক এবং বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সদস্য দেশের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। উল্লেখ্য, ভারত-পাকিস্তান সাম্প্রতিক উত্তেজনার ফলে ইসলামাবাদে ২০১৬ সালের সার্ক শীর্ষ সম্মেলন স্থগিত হয়ে যাওয়ার পর সম্প্রতি এ জোট বেশ দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। অনেকে একে সার্কের বিকল্প হিসেবেও ভাবতে শুরু করেছেন। স্বভাবতই এ জোটকে শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার উন্নয়নে কার্যকরী মঞ্চ হিসেবে গড়ে তোলা সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, জ্বালানি, দারিদ্র্যবিমোচন এবং কৃষিবিষয়ক সহযোগিতা, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও জনস্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতাসহ ১৪টি সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্রে উন্নয়নে এ জোটের প্রাধান্য রয়েছে; কিন্তু সাম্প্রতিক সন্ত্রাস প্রতিরোধ প্রাধান্য পাওয়ায় বিষয়টি কেন্দ্রবিন্দুতে উপনীত হয়েছে। যথারীতি এবারের সম্মেলনের ঘোষণায় তা প্রতিফলিত হয়েছে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, মিয়ানমারের রাখাইনে ‘জাতিগত নিধন অভিযানের’ মুখে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর কোনো উল্লেখ নেই এ ঘোষণায়। রোহিঙ্গা ইস্যুটি সম্মেলনে আলোচনার ইস্যু হলে তা সংস্থাটির উদ্দেশ্যের সঙ্গে অধিকতর সংগতিপূর্ণ হতো। 
বিশ্বের অন্যতম জনঅধ্যুষিত এবং আগামীর সম্ভাবনাময় দেশগুলোর জোট বিমসটেক এতদঞ্চলের মানুষের শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য গুরুত্ববহ ভূমিকা পালন করতে পারে। জোটের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সেদিকেই ধাবিত। এ সংগঠনের বিকাশে বাংলাদেশ শুরু থেকেই অত্যন্ত সক্রিয়। আমরা আশা করব, বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী দেশগুলোর মধ্যে বন্ধন সুদৃঢ় হবে এবং বিশ্বের জন্য যা হতে পারে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। হ