আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

শরীয়তপুরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ছাত্রলীগের হামলা : আহত ৩০

শরীয়তপুর প্রতিনিধি
| খবর

বিএনপির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে কিছু ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে হামলা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় উভয় গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ টিপু, পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম নয়ন সরকারসহ উভয় গ্রুপের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জেলা বিএনপির সভাপতি, সাবেক এমপি আলহাজ শফিকুর রহমান কিরণ, সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ আহমেদ আসলামসহ ৩ শতাধিক নেতাকর্মী তিন ঘণ্টা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। ৩ ঘণ্টা পর পুলিশের সহায়তায় বিএনপি নেতাকর্মীরা সভাস্থল থেকে বের হওয়ার সময় পুনরায় হামলার চেষ্টা চালানো হয়। এরপর নেতাকর্মীদের ওপর হামলাকারীরা কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায় বলে অভিযোগ বিএনপি নেতাকর্মীদের। তবে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দাবি তাদের মিছিলে বিএনপি নেতাকর্মীরা হামলা করেছেন। এ ঘটনায় শহরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
পালং মডেল থানা, আহত মাহবুব মোর্শেদ টিপু ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী শনিবার সকাল ১০টায় বিএনপির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সরদার নাসির উদ্দিন কালুর ধানুকা বাসভবনের সামনের চত্বরে আলোচনা সভার কার্যক্রম শুরু হয়। অনুষ্ঠান শেষের দিকে দুপুর সাড়ে ১২টায় জেলা যুবলীগের দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর মাদবরের নেতৃত্বে কিছু যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মী মিছিল করে তাদের দলীয় সেøাগান দিতে দিতে বিএনপির অনুষ্ঠানস্থলে গিয়ে নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এক পর্যায়ে উভয় গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।
জেলা যুবলীগের দপ্তর সম্পাদক আহত জাহাঙ্গীর মাদবর বলেন, আমরা যুবলীগ ও ছাত্রলীগ মিছিল করে যাচ্ছিলাম। এ সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা মিছিলে হামলা করেন। জেলা বিএনপির সভাপতি সফিকুর রহমান কিরণ বলেন, পূর্বনির্ধারিত ও শান্তিপূর্ণ অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা করে কমপক্ষে ২৫ নেতাকর্মীকে আহত করেছেন। আমি ৩ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পরে পুলিশের সহায়তায় এলাকা ত্যাগ করি।
পালং মডেল থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মিছিলে কিছুসংখ্যক বিএনপি নেতাকর্মী হামলা করেন। এ নিয়ে উভয় গ্রুপে সংঘর্ষ হয়। এতে পাঁচ থেকে সাতজন আহত হন। জেলা বিএনপির সভাপতিসহ অন্য নেতাকর্মীদের নিরাপদে স্থান ত্যাগ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এ বিষয়ে এখনও কোনো মামলা হয়নি।