আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

থেরেসা মে’কে হত্যার ষড়যন্ত্র বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যুবকের যাবজ্জীবন

আলোকিত ডেস্ক
| খবর

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’কে হত্যার ষড়যন্ত্রে যাবজ্জীবন কারাদ- হয়েছে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ যুবক নাইমুর জাকারিয়া রহমানের। প্রধানমন্ত্রীর ডাউনিং স্ট্রিট অফিসে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ভেতরে ঢুকে থেরেসা মে’কে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যার পরিকল্পনা ২১ বছর বয়সি এ যুবক করেছিলেন বলে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে এ শাস্তি দেওয়া হয়। জুলাই মাসে লন্ডনের ওল্ড বেইলি আদালত নাইমুরকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল। শুক্রবার আদালত তার শাস্তি নির্ধারণ করে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। নাইমুর উত্তর লন্ডনে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন। গোয়েন্দারা জাল বিস্তার করে গত বছরের ২৮ নভেম্বর তাকে গ্রেপ্তার করেন। অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের অশালীন ছবি পাঠানোর সন্দেহে গত বছর আগস্টে নাইমুরকে আটক করেছিল পুলিশ। তখন তার মোবাইল ফোনে ধর্মীয় উগ্রবাদীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত পেয়ে তার পিছু নেন কর্মকর্তারা। এরপর লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা এমআই ফাইভের সন্ত্রাস দমন কর্মকর্তাদের একটি ছদ্মবেশী অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু হয়ে ওঠেন নাইমুর। ব্রিটেনে হামলা চালানোর জন্য তিনি ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে অনলাইনে যোগাযোগ করছিলেন বলে ধারণা করা হয়।
আদালতে বলা হয়, সিরিয়ায় গিয়ে আইএসে যোগ দেওয়া এক চাচার সঙ্গে যোগাযোগ ছিল নাইমুরের। ওই চাচাই তাকে ব্রিটেনে হামলা চালানোর জন্য উৎসাহিত করেছিলেন। সিরিয়ায় ড্রোন হামলায় ওই চাচার মৃত্যুর পর থেরেসা মে’কে হত্যার পরিকল্পনা নিয়ে এগোন নাইমুর। বিচারের সময় আদালতে আইএস সদস্য পরিচয় দেওয়া এক নিরাপত্তা কর্মকর্তার কাছে টেলিগ্রাম অ্যাপে নাইমুরের পাঠানো বিভিন্ন মেসেজ পড়া হয়। গত বছর ১৪ সেপ্টেম্বর তিনি লিখেছিলেন, ‘আপনি কি আমাকে সিøপার সেল এএসএপিতে নিতে পারেন? আমি পার্লামেন্টে আত্মঘাতী বোমা হামলা চালাতে চাই। আমি থেরেসা মে’কে মারার একটি চেষ্টা করতে চাই।’ হামলা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নাইমুর গত নভেম্বরে হোয়াইট হলের আশপাশ ঘুরে দেখেন এবং বিস্ফোরক নিতে যুঁতসই মনে করে একটি ব্যাগ তিনি ছদ্মবেশী এক পুলিশ কর্মকর্তাকে দেন। ২৮ নভেম্বর ওই পুলিশ কর্মকর্তা নকল বিস্ফোরক ভরে ওই ব্যাগ ও একটি জ্যাকেট নাইমুরকে দিয়ে বলেন, এখন তিনি এগিয়ে যেতে পারেন। কেনসিংটনের ওই জায়গা থেকে হাঁটা শুরু করার পরপরই নাইমুরকে গ্রেপ্তার করেন নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যরা।