আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৩-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

শরতের স্নিগ্ধ সাজ

| আলোকিত ফ্যাশন

শুভ্রতা, স্নিগ্ধতা, সৌন্দর্য আর অপার ভালো লাগা নিয়ে বাংলার প্রকৃতিতে শরৎ এসেছে। সব রুক্ষতা, সব মলিনতা মিলিয়ে গিয়ে শরৎ রাণী আজ নিজেকেই মেলে ধরেছে সৌন্দর্য পিপাসু ময়ূরের মতো। আকাশই বলে দিচ্ছে বেশ শুভ্র হয়ে উঠেছে মেঘ-রাজকন্যারা। এ শরতে প্রকৃতির সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে নিজেকে স্নিগ্ধ সাজে সাজিয়ে তুলুন। শরতের সাজ নিয়ে লিখেছেনÑ তনিমা রহমান
 
প্রকৃতিতে লেগেছে শরতের মায়াবী স্নিগ্ধ ছোঁয়া, তাই মনে প্রশান্তি। শরতের বহুরূপী আকাশ! কখনও রোদ, কখনও বৃষ্টি। খরতাপে শান্তির সুবাতাস বইয়ে দেয় হঠাৎ এক পশলা বৃষ্টি। নদীর ধারে দুধসাদা ঘ্রাণহীন কাশফুল বাতাসে দুলতে দুলতেই মাতাল। প্রকৃতির এই বিচিত্র রঙের খেলার সঙ্গে তাল মিলিয়ে জীবনকে আরও রঙিন করতে পোশাকেও আনতে পারেন বৈচিত্র্য। আবার সাজগোজ করে বাইরে বেরিয়ে হঠাৎ বৃষ্টির ঝাপটায় যেন পুরোটাই ম্লান না হয়, সে দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। তাই সাজ হতে হবে সময়োপযোগী। 
ষড়ঋতুর তৃতীয় ঋতু ভাদ্র-আশ্বিন এই দুইমাস নিয়ে শরৎকাল। ছয়টি ঋতু ভিন্নরূপে উপস্থিত হয়, প্রতিটির আলাদা আবেদনও রয়েছে। তাই ঋতুভেদে সাজগোজের পরিবর্তন হয়। এই পরিবর্তন নির্ভর করে নিজস্ব রুচি ও চিন্তার ওপর। 
পোশাকের ক্ষেত্রে সুতি, সিনথেটিক, জর্জেট, চিনন ইত্যাদি রকমের শাড়ি বা সালোয়ার-কামিজ পরতে পারেন। তবে সালোয়ার-কামিজের জন্য সুতিই সবচেয়ে ভালো। রঙের দিকে তো নজর রাখতেই হবে! গাঢ় নয়, হালকা রং বেছে নেবেন। নীল, সবুজ, ফিরোজা, গোলাপি, অফ হোয়াইট রংগুলো মানাবে ভালো। জরিপাড় সমেত ফিকে নীল শাড়ি, ধানি রং, চাঁপাফুল রং, সাদা জমিনে বুটি তোলা জামদানি শাড়ি এবং সঙ্গে ম্যাচিং ব্লাউজ তো অবশ্যই। 
এখন যেহেতু বাইরে রোদ-বৃষ্টির খেলা, তাই সাজের ক্ষেত্রে উপকরণটি অবশ্যই যেন পানিরোধক হয়। এ সময়ে দিনের বেলা গরমে গাঢ় সাজ যেমন মানানসই নয়, তেমনি অন্যদের চোখেও তা দৃষ্টিকটু লাগে। তাই সব মিলিয়ে সাজসজ্জায় স্নিগ্ধভাব থাকা চাই। এজন্য হালকা মেকআপই ভালো।  আর সাজের উপকরণের রঙে অবশ্যই উজ্জ্বল রং বেছে নেওয়া উচিত। এ সময় লাল, নীল, বেগুনি, হলুদ, সবুজ রঙে ইচ্ছামতো সেজে উঠতে পারেন। সে ক্ষেত্রে সাজের আগে ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিন মুখটা। তারপর ময়েশ্চারাইজার দিয়ে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। 
এবার সাজের শুরু। যেহেতু চোখ আর ঠোঁট রাঙাবেন রঙিন করে, তাই হালকা বেইজ নিয়ে নিন আগে। এর ওপর লাগাতে পারেন পাউডারও। চোখের কোণের অংশটায় খুব মন দিয়ে বেইজটা মিশিয়ে শুরু করে দিন চোখের সাজ। পোশাকের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে বেছে নিতে পারেন রঙিন কাজল।  যারা রংটা একটু বেশিই পছন্দ করেন, তারা পোশাকের রঙের বিপরীত রংটিও বেছে নিতে পারেন। এটি চোখের কাজল, শ্যাডো, লিপস্টিক সব ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
চুলের সাজের ক্ষেত্রে আকারটাও কিন্তু কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। পাশ্চাত্য পোশাকের সঙ্গে খুলে দিন চুলটা। আর দেশীয় পোশাকের সঙ্গে করতে পারেন ইচ্ছামতো খোঁপা বা ঝুঁটিÑ এই হলো রঙের সাজ। লম্বা চুলে বেণি করে পাঞ্চ ক্লিপ দিয়ে আটকে নেওয়া যেতে পারে। আর দু-একটা ফুল কিংবা ফুলের কুঁড়ি গুঁজে নিতে পারেন। হতে পারে গোলাপ সেটা, কিংবা রজনীগন্ধা। যদি খোঁপা বাঁধতে চান, অনুষ্ঠান কিংবা এমনিতেও, ফুল থাকলে ভালো। ছোট্ট মালা গেঁথে খোঁপায় জড়িয়ে নিতে পারেন। চাইলে, মালা ঝুলিয়েও রাখতে পারেন খোলা চুলের এক পাশে। ছোট চুল যাদের, তাদের জন্য পনিটেল তো আছেই; খোঁপা বা পাঞ্চ ক্লিপও ব্যবহার করতে পারেন। তবে যেটাই করেন না কেন, চুল বাঁধার সময় চুলের ধরন এবং আপনার বয়সের দিকটা খেয়াল রাখতেই হবে। বাইশ-তেইশ যদি না পেরোয় বয়স, বেণি বাঁধবেন লম্বা। ফ্রেঞ্চ রোল, উঁচু চূড়া খোঁপা কিংবা এম খোঁপাও বাঁধতে পারেন। যদি পেরিয়ে যায় বাইশ-তেইশ, বাঁধতে পারেন এলো খোঁপা, গোল খোপা কিংবা বিড়া খোঁপা। পোশাক যখন হালকা, চুলের স্টাইলও যেন তাই-ই হয়; খেয়াল রাখবেন।
সাজে বৈচিত্র্য আনাই তো নতুন সাজ।