আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৩-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

‘দেশের মানুষ তাকিয়ে আছে’

| খেলা

দেড় দশক ধরে সাফ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হতে পারছে না বাংলাদেশ; গেল তিন আসরে বিদায় নিয়েছে গ্রুপ পর্বে। ব্রিটিশ কোচ জেমি ডে’র ছলাকলায় দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল সাম্রাজ্য জয়ের স্বপ্ন লাল-সবুজ ফুটবলারদের। কোচিং ক্যারিয়ার বর্ণিল করতে সাফে মেধার সবটা নিংড়ে দিতে চান সাবেক আর্সেনাল ফুটবলার, যিনি খেলেছেন ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৬, অনূর্ধ্ব-১৭ ও অনূর্ধ্ব-১৮ জাতীয় দলে; জাকার্তা এশিয়াডে কাতারকে হারিয়ে, থাইল্যান্ডের সঙ্গে ড্র ও উজবেকিস্তান ও উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে লড়াকু হারে আত্মবিশ্বাস বেড়েছে দলের। গতকাল রাতে ২০ জনের চূড়ান্ত দল করেছেন তিনি। কাল বিকালে সাফের ট্রফি উন্মোচনী অনুষ্ঠানের ফাকে ঘরের মাঠে সাফ টুর্নামেন্টে দলের প্রত্যাশা, প্রতিপক্ষ নিয়ে জাতীয় দলের ব্রিটিশ কোচ জেমি ডে কথা বলেছেন আলোকিত বাংলাদেশের সিনিয়র রিপোর্টার শফিক কলিমের সঙ্গে


প্রশ্ন : গ্রুপে কোন দেশকে কঠিন দল মনে হচ্ছে?
জেমি ডে : পাকিস্তান; নিষেধাজ্ঞা থাকায় গেল চার বছর তারা আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলেনি। ফলে তাদের সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই কারও; কোনো দল আগে থেকে তাদের নিয়ে পরিকল্পনা করতে পারবে না, এটা পাকিস্তান দলের বাড়তি সুযোগ। বিভিন্নভাবে খোঁজ নিয়ে জেনেছি, কয়েকজন ফুটবলার ইউরোপে ও যুক্তরাষ্ট্রে খেলে। জেশ রহমান খেলছেন হংকং, অস্ট্রেলিয়া, মালদ্বীপেও খেলছেন দুজন। ব্রাজিলিয়ান কোচ হোসে অ্যান্তোনিও নুগেইরা দলটাকে বেশ ঢেলে সাজিয়েছেন।
প্রশ্ন : দুই বছর আগে ভুটানের কাছে হেরে হেরে অন্ধকারে দেশের ফুটবল, সাফ মিশনের শুরুতে সেই ভুটান; এটা প্রতিশোধ দেখছেন অনেকে, আপনি? 
জেমি ডে : আমিও এটা শুনেছি, কিন্তু ফুটবলে অতীত নিয়ে বসে থাকলে উন্নতি সম্ভব নয়। আমি এটা প্রতিশোধের ম্যাচ দেখছি না। সেটি ছিল এক টুর্নামেন্টে, এটা ভিন্ন; এটি আমার ম্যাচ, আমি জিততে চাই। ছেলেদের বলেছি, প্রতিশোধ মাথায় রেখো না, জাকার্তায় যা খেলেছো, ঘরের মাঠে সেটা খেলো। মানুষ দিন শেষে তোমাদের বিজয়ী দেখতে চায়। 
প্রশ্ন : বছর দশেকের আগের চেয়ে অনেক উন্নতি করেছে ভুটান। চেনচো কোটি টাকায় আইএসএলে খেলছে, ভুটান সম্পর্কে ধারণা কেমন? 
জেমি ডে : মনে রাখতে হবে, খেলাটা ফুটবল। সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু পাল্টায়। ভুটান যত উন্নতি করুক, ওদের হারানোর সামর্থ্য আমার দলের আছে, ছেলেদের ওপর সে বিশ্বাস আছে। 
প্রশ্ন : ‘স্বাগতিক’ চাপ কি আছে? 
জেমি ডে : ঘরের মাঠে খেলা, দল ভালো ফল করুক, এ প্রত্যাশা দর্শকরা করবেই। দর্শক মাঠে এলে ছেলেরা ভালো খেলার অনুপ্রেরণা পাবে। এটাকে চাপ নেওয়া উচিত মনে করি না। আমার বিশ্বাস, তরুণরা সমর্থকদের মন ভরানোর ফুটবল খেলবে। ওরা ভালো খেলা উপহার দিতে কঠোর পরিশ্রম করছে।
প্রশ্ন : টুর্নামেন্টে দলের লক্ষ্য কী? 
জেমি ডে : গেল তিনটি সাফে দল গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছে; এই গ্রুপ পর্ব গেরো খুলতে হবে। আমার প্রথম লক্ষ্য, গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়া। সেজন্য ম্যাচ বাই ম্যাচ খেলব। প্রথমে ভুটান ম্যাচ নিয়ে ভাবনা, এরপর পাকিস্তান, তারপর নেপাল। ধাপে ধাপে উন্নতি করতে পারলে সেমিফাইনাল, ফাইনাল, এবং চ্যাম্পিয়ন হওয়া সম্ভব।
প্রশ্ন : কতটা সম্ভব?
জেমি ডে : ১৫ বছর ধরে সাফ চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি আমরা, ছেলেদের বলেছিÑ যতটা সম্ভব ভালো করার জন্য আমরা নিজেদের সেরাটা দেব। টুর্নামেন্টের অন্য দলগুলো আমাদের চেয়ে র‌্যাঙ্কিংয়ে ভালো, এটা বাস্তবতা। এ বাস্তবতা মাথায় রেখেই আমাদের প্রত্যাশা করতে হবে।
প্রশ্ন : ২০০৩ সালের পর ২০১৮, ইতিহাস হওয়ার দারুণ সুযোগ। কতটা উজ্জীবিত দল? 
জেমি ডে : ওই দিন একটি অনুষ্ঠানে ২০০৩ সাফজয়ী ফুটবলাররা এ দলের ছেলেদের মনোবল বাড়িয়ে দিয়েছে, ভালো খেলার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। অনুষ্ঠান শেষে ছেলেদের বলেছিÑ দেখো মানুষ এখনও তাদের মনে রেখেছে, তোমাদের সামনেও দারুণ সুযোগ এমন কিছু করার। তোমরাও ইতিহাস হতে পার। ছেলেরা তরুণ, তাদের মনে জয়ের নেশা আছে, তাড়না বেড়ে গেছে জাকার্তা এশিয়ান গেমসে।
প্রশ্ন : কোচ হিসেবে আপনার সামনেও তো অস্ট্রিয়ান জর্জ কোটানকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ...। 
জেমি ডে : সাফে চ্যাম্পিয়ন হতে পারলে কোচিংই ছেড়ে দেব, হয়তো প্রধানমন্ত্রীও হব (হা হা হা)। আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়ন হতে পারা অনেক বড় অর্জন। সাফের পর বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ আছে। পরপর দুটি ট্রফি হাতছানি। তবে আপাতত ভাবছি সাফ নিয়ে। বুঝতে পারছি সারা দেশের মানুষ এদিকে তাকিয়ে আছে। ভালো কিছু করতে পারলে বাংলাদেশের মানুষ অবশ্যই মনে রাখবে। সাফল্যের জন্য আমার মেধার সর্বোচ্চ প্রয়োগ করব।
প্রশ্ন : দল কেমন হলো? 
জেমি ডে : দল চূড়ান্ত হয়নি আজ (গতকাল) রাতে করব। ঘরের মাঠে সাফল্যের জন্য অভিজ্ঞতার সঙ্গে তারুণ্যের মিশেলে সেরা দলই খেলাব। দলে তিনজন গোলরক্ষক থাকবে; রক্ষণ, মধ্যমাঠ ও আক্রমণে শক্তি বাড়ানো নিশ্চিত করা হবে।
প্রশ্ন : সোশ্যাল মিডিয়ায় মামুনুলের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে কথা উঠেছে...। 
জেমি ডে : ও নিঃসন্দেহে ভালো ফুটবলার। এখন হয়তো বয়স হয়েছে, কিন্তু সাফের মতো আসরে মধ্যমাঠে তার অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে।
প্রশ্ন : প্রশ্ন আছে আক্রমণভাগ নিয়েও। 
জেমি ডে : স্কোরিং দুর্বলতা আমাদের বড় সমস্যা। এটা ৮ থেকে ১০ দিনে দূর করা সম্ভব নয়। আমি যখন দায়িত্ব নিই, তখন এ ইস্যুটা ছিল, এখনও আছ। এখানে ঘরোয়া ফুটবলে ক্লাবগুলো বিদেশি ফরোয়ার্ড বেশি খেলান। ফলে স্থানীয়রা সুযোগ পান না, বা কদাচিৎ পেলেও তারা আত্মবিশ্বাসের অভাবে ভোগেন। রাতারাতি এ সমস্যা কাটবে না। তবে আক্রমণভাগে কিছু তরুণ পেয়েছি, যারা ভালো প্রস্তুতি নিয়েছে, গোলের সুযোগ পেলে কাজে লাগাতে পারবে। আপাতত মূল কাজ তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানো।