আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৩-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

বরিশাল-ঢাকা নৌরুট

মেঘনা নদীর মিয়ারচর চ্যানেল বন্ধ ঘোষণা

খান রফিক, বরিশাল
| নগর মহানগর

বরিশাল-ঢাকা নৌরুটের প্রধান নদী মেঘনার মিয়ারচর চ্যানেল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বর্ষা মৌসুমেও এ রুটের গুরুত্বপূর্ণ এ চ্যানেলটিতে নাব্য সংকট দেখা দিয়েছে। এমনকি বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনাও ঘটেছে এ রুটে। যে কারণে গত মাসের শুরুতে মিয়ারচর চ্যানেলে নৌযান চলাচল অস্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করে বিআইডব্লিউটিএ। ফলে বরিশাল-ঢাকা নৌরুটসহ দক্ষিণাঞ্চলে নৌযান চলাচল চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বরিশালের হিজলা উপজেলার আলীগঞ্জ থেকে চাঁদপুরের দিকে বয়ে যাওয়া ১৫ কিলোমিটারের অধিক লম্বা মেঘনার একটি চ্যানেলের নাম মিয়ারচর। এর প্রশ্বস্ততা ৫ কিলোমিটার। রাজধানী ঢাকা থেকে দক্ষিণাঞ্চলের ৫ জেলা এবং মংলা বন্দর থেকে চট্টগ্রাম বন্দর রুটের যাত্রী ও পণ্যবাহী নৌযান সংক্ষিপ্ত পথে যাতায়াতের জন্য ব্যবহার করা হয় এ চ্যানেলটি। 
বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর ধরে সেপ্টেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত এ চ্যানেলে পানির গভীরতা ৬ ফুটেরও নিচে নেমে আসত। ফলে শুষ্ক মৌসুমে মিয়ারচর চ্যানেল দিয়ে নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যেত। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য গত শীত মৌসুমেও চ্যানেলটি খনন করা হয়। কিন্তু এবার বর্ষা মৌসুমের মধ্যেই নাব্য সংকট দেখা দেওয়ায় গত মাসের প্রথম সপ্তাহে চ্যানেল দিয়ে ৮ ফুটের বেশি গভীরতার নৌযান চলাচল নিষিদ্ধ করেছে বিআইডব্লিউটিএ। জানা গেছে, কোটি কোটি টাকায় খনন করে চ্যানেলটির প্রবাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হলেও শেষ রক্ষা হচ্ছে না। বিআইডব্লিউটিএর দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, চ্যানেলটি স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
ঢাকা-বরিশাল নৌরুটের পরাবাত-৯ লঞ্চের মাস্টার শামিম আহমেদ জানান, ঢাকা থেকে দক্ষিণাঞ্চল রুটের সব যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচলের জন্য কমপক্ষে ১২ ফুট পানির প্রয়োজন। কিন্তু মিয়ারচর চ্যানেলে বর্তমানে পানির গভীরতা রয়েছে জোয়ারের সময় সর্বোচ্চ ১২ ফুট এবং ভাটার সময় ৫ ফুট। বিআইডব্লিউটিএ সম্প্রতি ওই রুটে নৌযান চলাচল বন্ধ করায় তারা মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার কালীগঞ্জ চ্যানেল ব্যবহার করছেন। এজন্য তাদের বেশি পথ পাড়ি দিতে হয়। অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যয় হয় কমপক্ষে ১৫০ লিটার। তিনি বলেন, কালীগঞ্জ চ্যানেলের উলানিয়া লঞ্চঘাট এলাকায় ডুবোচর আছে। এজন্য এ রুটে খনন দরকার। মালবাহী জাহাজের অপর এক মাস্টার বলেন, এ রুটটি বন্ধ হওয়ায় নৌযান চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এটি স্থায়ীভাবে বন্ধ হলে নৌ সেক্টর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
জানা গেছে, মিয়ারচর চ্যানেল ফের খনন করলে এক মৌসুম চ্যানেলটি ব্যবহার করা যাবে। পরে আবার নাব্য সংকট দেখা দেবে। যে কারণে এটি স্বাভাবিক হবে কিনা তা নিয়ে সন্দিহান সংশ্লিষ্টরা। বিআইডব্লিউটিএর খনন বিভাগের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকউল্লাহ জানান, গত বছর মিয়ারচর চ্যানেলে ৪ লাখ ৩৮ হাজার ঘনমিটার পলি কাটা হয়। ওই সময় তিনি দায়িত্বে ছিলেন। ধারণা করা হয়েছিল বর্ষা মৌসুমে হয়তো চ্যানেলটি স্বাভাবিক থাকবে। কিন্তু বর্ষায় চ্যানেল বন্ধ হওয়ায় তারা চিন্তিত।
এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিএ চাঁদপুর কনভারেন্সি পাইলট সুপারিনটেন্ডেন্ট (সিপিএস) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, সম্প্রতি দুটি কার্গো ডুবে যাওয়ায় চ্যানেলটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। নাব্য সংকট দেখা দেওয়ায় নৌযানগুলোকে মিয়ারচর চ্যানেল দিয়ে যাতায়াত না করার জন্য গত মাসের (আগস্টের) প্রথম সপ্তাহে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। বর্ষা শেষে মেঘনা শান্ত হলে তখনকার পানির গভীরতা পর্যবেক্ষণ করে নৌযান চলাচলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।