আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৩-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

আরও পাঁচ জেলায় আটজনের মৃত্যু

দুই বাসের সংঘর্ষে রংপুরে নিহত ৭

আলোকিত ডেস্ক
| প্রথম পাতা

চট্টগ্রামে মিরসরাইয়ের বারইয়ারহাট রেলক্রসিংয়ে রোববার ট্রেনের সঙ্গে বাসের সংঘর্ষ হয় ষ আলোকিত বাংলাদেশ

চার জেলায় রোববার সড়ক দুর্ঘটনায় ১৫ জন মারা গেছেন। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন ১১৩ জন। এর মধ্যে রংপুরে দুই যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে সাতজন মারা গেছেন। এছাড়া রাজধানীর মিরপুরে বাসচাপায় পুলিশের এসআই, সিদ্ধিরগঞ্জে এক নারী, বগুড়ায় তিনজন, মিরসরাইয়ে ট্রেনের সঙ্গে বাসের সংঘর্ষে দুইজন এবং চট্টগ্রামে ট্রাকের ধাক্কায় প্রতিবন্ধী বৃদ্ধা মারা গেছেন। 

নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, রাজধানীর মিরপুরের শাহআলী এলাকায় বাসচাপায় উত্তম কুমার নামে পুলিশের একজন উপপরিদর্শক (এসআই) নিহত হয়েছেন। বিকালে জব্দ করা ঈগল পরিবহনের একটি বাস থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় ওই বাসের নিচেই তিনি চাপা পড়েন। নিহত উত্তম কুমার রূপনগর থানায় এসআই হিসেবে কর্মরত ছিলেন। শাহআলী থানার এসআই শিউলি আক্তার বলেন, বেড়িবাঁধ এলাকায় তিন দিন আগে ঈগল পরিবহনের একটি বাস দুর্ঘটনায় পড়ে। তিন দিন ধরে বাসটি সেখানেই পুলিশ জব্দ করে রেখেছিল। রোববার বিকাল ৪টার দিকে বাসটিকে থানায় নিয়ে আসছিলেন উত্তম কুমার। তিনি বাসের সামনে মোটরসাইকেলে ছিলেন। রাইনখোলা এলাকায় পৌঁছানোর পর বাসটি এসআই উত্তম কুমারকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে বাসের চালককে শাহআলী থানায় আটক রাখা হয়েছে। বাসটিও থানায় জব্দ রয়েছে। নিহত উত্তম কুমার দেড় বছর ধরে রূপনগর থানায় কর্মরত ছিলেন। এর আগে তিনি কর্মরত ছিলেন শাহআলী ও পল্লবী থানায়।
ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো আরও খবরÑ
নারায়ণগঞ্জ : মহানগরের সিদ্ধিরগঞ্জে সকালে যাত্রীবাহী বাসচাপায় মিনু আক্তার নামে এক নারী নিহত হন। নিহত মিনু আক্তার মুন্সীগঞ্জের উত্তর কামারগাঁও এলাকার আবদুস সামাদের স্ত্রী। তিনি সিদ্ধিরগঞ্জের পুল এলাকায় বসবাস করতেন। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাসেল আহমেদ জানান, সকাল ৭টায় নারায়ণগঞ্জ-শিমরাইল সড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের পুল এলাকায় রাস্তা পারাপার হওয়ার সময় আদমজী ইপিজেডের শ্রমিকদের বহনকারী একটি বাস পেছন থেকে মিনু আক্তারকে চাপা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। এ সময় ঘটনাস্থলেই মারা যান মিনু। পরে স্থানীয়রা জানালে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
রংপুর : নগরীর সিও বাজার এলাকায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে সাতজন মারা গেছেন। এতে দুই বাসের প্রায় ৪৩ যাত্রী আহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার মৃত শহিদুল ইসলামের স্ত্রী নুর বানু, একই উপজেলার ফুলকি বেগম, সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ি গ্রামের আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী অমিজন নেছা, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের তালুকবর্মণ এলাকার রুবেল মিয়ার স্ত্রী রোখসানা বেগম, পঞ্চগড়ের শাহিন মিয়া, পঞ্চড়ের তেঁতুলিয়া থানার কনস্টেবল মামুনের স্ত্রী সুমি আখতার এবং ঠাকুরগাঁওয়ের ধবলি এলাকার বাসিন্দা আবদুর রহমান।
জানা গেছে, বগুড়া থেকে ছেড়ে আসা পঞ্চগড়গামী বিআরটিসি বাস ওই এলাকায় পৌঁছলে বিপরীতমুখী দিনাজপুর থেকে ছেড়ে আসা রংপুরগামী অপর একটি বাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই পাঁচজন ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুইজন মারা যান। আহত যাত্রী জোবায়ের জানান, বিআরটিসি বাসের চালকের বেপরোয়া গতির কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। রংপুর মেডিকেলের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শাহীনুর রহমান জানান, দুর্ঘটনায় আহত ২২ জন মেডিকেলে ভর্তি আছেন। তাদের মধ্যে ১৬ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। রংপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল-এ) সাইফুর রহমান জানান, বাস দুটি আটক করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক এনামুল হাবিব জানান, এ ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মান্নাদ কবিরকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। 
শেরপুর (বগুড়া) : শেরপুর উপজেলার মহিপুর বাজার ও শহরের ধুনটমোড় এলাকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাসের চালকসহ তিনজন মারা গেছেন। উভয় ঘটনায় পুলিশ সদস্যসহ আহত হয়েছেন ৪৫ জন। এর মধ্যে গুরুতর আহত ৩০ জনকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শেরপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা মো. রতন হোসেন জানান, বগুড়াগামী এনা পরিবহনের একটি বাস মহিপুর বাজার এলাকায় পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা চাঁদনী পরিবহনের বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় বাসের ৪০ যাত্রী আহত হন। পরে তাদের বগুড়ার শজিমেকে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চাঁদনী বাসের চালক কাহালু উপজেলার মালঞ্চ গ্রামের আমজাদ হোসেন আকন্দের ছেলে মিঠু আকন্দ ও গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কাজুরিয়া গ্রামের রঞ্জু শেখের ছেলে সাজ্জাদ হোসেন মারা যান। 
এদিকে ঢাকাগামী এসআর ট্রাভেলসের যাত্রীবাহী বাস ধুনটমোড় এলাকায় পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি কার্গো ট্রাককে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই বাসের সুপারভাইজার শিবগঞ্জ উপজেলা সদরের আবেদ আলীর ছেলে জাহিদুল ইসলাম মারা যান। শেরপুর থানার দায়িত্বরত কর্মকর্তা পুলিশের এসআই তন্ময় সরকার জানান, দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও কার্র্গো আটক রয়েছে। 
মিরসরাই : মিরসরাইয়ের বারইয়ারহাট রেলক্রসিংয়ে ট্রেনের সঙ্গে বাসের সংঘর্ষে দুইজন মারা গেছেন। এ সময় আহত হয়েছেন ২৫ যাত্রী। নিহতের একজনের নাম সুনির্মল চাকমা। তিনি খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের কর্মচারী, আরেকজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। জানা গেছে, ময়মনসিংহ থেকে চট্টগ্রামগামী বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনের সঙ্গে এস আলম পরিবহনের বাসের সংঘর্ষ হয়। এ সময় ট্রেনের ধাক্কায় বাস ৫০০ মিটার দূরে ছিটকে পড়ে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এরপর এক লেনে প্রায় আড়াই ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। বর্তমানে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। আহতদের মধ্যে বাসের চালকের অবস্থা গুরুতর। চালকসহ আহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, ট্রেন আসার সময় গেট খোলা রেখে রেলক্রসিংয়ের দায়িত্বে থাকা গেটম্যান আরিফ ঘুমিয়ে থাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে আরিফকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। 
চট্টগ্রাম : সীতাকু- উপজেলার কদমরসুল এলাকায় ট্রাকের ধাক্কায় মানসিক প্রতিবন্ধী এক বৃদ্ধা মারা গেছেন। বারো আউলিয়া হাইওয়ে পুলিশের ওসি মো. আহসান হাবীব জানান, নিহত আমেনা বেগম ওই এলাকার মৃত বাছা মিয়ার স্ত্রী। ওসি আরও জানান, রাস্তা পার হওয়ার সময় চট্টগ্রামমুখী একটি ট্রাক ওই বৃদ্ধাকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ ব্যাপারে থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।