আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৩-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

ইএমটিএস ফি ৪৬ থেকে ৭৩ শতাংশ কমানোর আবেদন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের

টাকার ই-ট্রান্সফারে বড় ছাড় দিচ্ছে ডাক বিভাগ

সজীব হোমরায়
| প্রথম পাতা

পোস্ট অফিসের সেই সুদিন আর নেই। মানুষ এখন চিঠির বদলে ই-মেইল, মেসেজ পাঠায়। পোস্ট অফিসের ইলেকট্রনিক মানি ট্রান্সফার সার্ভিস (ইএমটিএস) ব্যবসায়ও ধস নেমেছে। পরিস্থিতি পরিবর্তন ও পোস্ট অফিসের আয় বাড়াতে ইএমটিএস সেবায় বড় ধরনের ছাড় আনতে চাইছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়। এজন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে ইএমটিএস ফি সর্বনিম্ন ৪৬ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ ৭৩ শতাংশ কমানোর আবেদন করেছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়। অনুমোদন হলে ই-ট্রান্সফারে এটিই হবে সবচেয়ে কম রেট। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠানো প্রতিবেদনে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় বলছে, ৩০ মে বাংলালিংক থেকে জানানো হয়েছে, প্রযুক্তিগত দুর্বলতার কারণে এজেন্সির মাধ্যমে ইএমটিএস সার্ভিসটি দেওয়া সম্ভব হবে না। এজন্য শুধু পোস্ট অফিস টু পোস্ট অফিস ইএমটিএস সার্ভিস চালু রাখতে হবে। তাই গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে এর ফি কমাতে চাইছে মন্ত্রণালয়। যদিও ফি কমানো ছাড়া আর কোনো উপায়ও নেই। কারণ, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ইএমটিএসের মাধ্যমে গ্রাহকরা এক জায়গা থেকে অন্যত্র ২ হাজার ১৬১ কোটি ৪৯ লাখ টাকা পাঠিয়েছে। সেখানে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এর মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তরের পরিমাণ নেমে এসেছে মাত্র ১১৮ কোটি ২২ লাখ টাকায়। অর্থাৎ চার বছরের ব্যবধানে ইএমটিএসের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর পরিমাণ কমেছে ২ হাজার ৪৩ কোটি ২৭ লাখ টাকা। শতাংশ হিসেবে এর পরিমাণ ৯৫ শতাংশ। এর প্রধান কারণ হলো, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের কম ফি। বর্তমানে বেসরকারি ইএমটিএসের মাধ্যমে ১ হাজার টাকা পাঠাতে গেলে একজন গ্রাহককে ফি হিসেবে দিতে হয় ১৮ টাকা ৫০ পয়সা। অন্যদিকে, ৫০ হাজার টাকা পাঠাতে ফি দিতে হয় ৯২৫ টাকা। অথচ মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে এর অর্ধেকেরও কম অর্থ খরচ হয়। তাই ব্যবসায় টিকে থাকার জন্য ইলেকট্রনিক মানি ট্রান্সফার সার্ভিসের ফি কমানোর জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়। প্রস্তাবে দেখা যায়, ইএমটিএস ফি সর্বোচ্চ ৭৩ এবং সর্বনিম্ন ৪৬ শতাংশ কমানোর কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে এ সার্ভিসের মাধ্যম এক হাজার টাকা পাঠাতে সাড়ে ১৮ টাকা প্রেরককে দিতে হয়। সেখানে এ ফি কমিয়ে ১০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। শতাংশ হিসেবে এর পরিমাণ ৪৬ শতাংশ। একইভাবে ৪ হাজার টাকা পাঠানোর ফি বিদ্যমান ৭৪ টাকা কমিয়ে ২০ টাকা অর্থাৎ ৭৩ শতাংশ। ৫ হাজার টাকা পাঠানোর ফি সাড়ে ৯২ টাকার পরিবর্তে ২৫ টাকা, ৭৩ শতাংশ। ১০ হাজার টাকা পাঠানোর ফি ১৮৫ টাকার পরিবর্তে ৫০ টাকা, ৭৩ শতাংশ। ২০ হাজার টাকা পাঠানোর ফি ৩৭০ টাকার পরিবর্তে ১০০ টাকা, ৭৩ শতাংশ। ৩০ হাজার টাকা পাঠানোর ফি ৫৫৫ টাকার পরিবর্তে ১৫০ টাকা। এবং ৫০ হাজার টাকা পাঠানোর ফি বিদ্যমান ৯২৫ টাকার পরিবর্তে ২৫০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে, ৭৩ শতাংশ। 
প্রস্তাবিত রেট কম মনে হলেও এতে পোস্ট অফিসের আয় বাড়বে। কারণ, বাজারে একই সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের আয়ের তুলনায় পোস্ট অফিসের আয় এতে বেশি হবে। বর্তমানে গ্রাহক ১ হাজার টাকা পাঠালে এজেন্ট/ডিস্ট্রিবিউটরের খরচ বাদে বেসরকারি ইএমটি সেবাদাতার আয় হয় ২ টাকা ৯৬ পয়সা। আর প্রস্তাবিত রেট অনুমোদন হলে ডাক অধিদপ্তরের আয় হবে ৩ টাকা। একইভাবে ৪ হাজার টাকা পাঠালে বেসরকারি ইএমটি সেবাদাতার আয় হয় ১১ টাকা ৮৪ পয়সা। পোস্ট অফিসের আয় হবে ১৩ টাকা। ৫ হাজার টাকা পাঠালে বেসরকারি ইএমটি সেবাদাতার আয় হয় ১৪ টাকা ৮০ পয়সা, পোস্ট অফিসের আয় হবে ১৮ টাকা। ১০ হাজার টাকা পাঠালে যেখানে বেসরকারি ইএমটি সেবাদাতার আয় হয় ২৯ টাকা ৬০ পয়সা, সেখানে পোস্ট অফিসের আয় হবে ৪৩ টাকা। ২০ হাজার টাকা পাঠালে বেসরকারি ইএমটি সেবাদাতার আয় হয় ৫৯ টাকা ২০ পয়সা। সেখানে পোস্ট অফিসের আয় ৯৩ টাকা। গ্রাহক ৩০ হাজার টাকা পাঠালে বেসরকারি ইএমটি সেবাদাতার আয় হয় ৮৮ টাকা ৮০ পয়সা। একই ক্ষেত্রে পোস্ট অফিসের আয় হবে ১৪৩ টাকা। একইরকমভাবে ৫০ হাজার টাকা পাঠালে বেসরকারি ইএমটি সেবাদাতার আয় হয় ১৪৮ টাকা। আর পোস্ট অফিসের আয় হবে ২৪৩ টাকা। বর্তমানে সারা দেশের ২ হাজার ৭৫০টি পোস্ট অফিসে ইএমটিএস সার্ভিস চালু আছে।