আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৩-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

রংপুরে মাদ্রাসার আইসিটি ল্যাব থেকে ১১ ল্যাপটপ চুরি

রংপুর ব্যুরো
| খবর

রংপুরে একটি মাদ্রাসার আইসিটি লার্নিং সেন্টার থেকে ১১টি ল্যাপটপ কম্পিউটার চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঈদুল আজহার ছুটি শেষে শনিবার মহানগরীর উত্তম জাফরগঞ্জ ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা খোলার পর চুরির এ ঘটনাটি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। এ ঘটনায় মাদ্রাসা অধ্যক্ষ ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা জরুরি সভা করে কোতোয়ালি থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে স্থানীয়রা কম্পিউটার চুরির এ ঘটনাটিকে রহস্যজনক হিসেবে দেখছেন। তাদের অভিযোগ, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও ম্যানেজিং কমিটির কিছু সদস্যের যোগসাজশে চুরির এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। 

শনিবার সরেজমিন দেখা যায়, ওই মাদ্রাসার পেছনের দরজা সংলগ্ন আইসিটি লার্নিং সেন্টার রুমে লোহার কেচি গেট তালাবদ্ধ। ওই রুমের উপরে এক হাতের কম পরিমাণ টিন কাটা রয়েছে। এর পাশে একটি ছাদে চুরি হওয়া ২১টি ল্যাপটপের মধ্যে ১০টি সেখানে পড়ে রয়েছে। সাংবাদিক ও পুলিশের উপস্থিতিতে আইসিটি রুমের কেচি গেটের তালা খুলে দিলে  ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, উপরের যে পরিমাণ টিন কাটা রয়েছে তাতে মানুষের ওঠানামা বা  ভেতরে প্রবেশ করা অসম্ভব। এমন অবস্থায় চুরির বিষয়টি নিয়ে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে বিব্রত বোধ করেন মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মশিউর রহমান ও অধ্যক্ষ আবদুস সালাম রব্বানী। চুরির এ ঘটনা সম্পর্কে মাদ্রাসার নৈশ্যপ্রহরী আলমগীর হোসেন জানান, তিনি প্রতিদিনের মতো শুক্রবারও নাইট ডিউটি করে সকালে বাড়ি চলে যান। পরে দপ্তরি এনামুল তাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে এ ঘটনাটি জানান। এ সময় ওই নৈশ্যপ্রহরী বলেন, আইসিটি রুম খোলার চাবি শুধু অধ্যক্ষ ও কম্পিউটার প্রশিক্ষকের কাছে থাকে। চুরির এ ঘটনাটি তার কাছে রহস্যজনক মনে হচ্ছে। আয়া রিনা বেগম বলেন, তিনি সকালে ঝাড়– দিতে গিয়ে দেখেন, টেবিলের ওপর একটি কম্পিউটারও নেই। সঙ্গে সঙ্গে অধ্যক্ষকে ডেকে নিয়ে যান। রিনা বলেন, এগুলো চুরি হয়েছে, না অন্য কিছু হয়েছে স্যাররাই ভালো জানেন। এদিকে স্থানীয় এলাকাবাসী ও অভিভাবক জহুরুল হক লেবু, নুরুজ্জামান ভুট্টু, হোসেন মিয়া ও মাহফুজার রহমান জানান, বর্তমানে মাদ্রাসা ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে বিরোধ চলছে। এ কমিটি কোনো উন্নয়ন না করে বিভিন্ন সময়ে অবৈধ নিয়োগ বাণিজ্য করেছে। তারা ঈদের ছুটিকে কাজে লাগিয়ে আইসিটি ল্যাব থেকে ল্যাপটপ সরিয়ে রেখে চুরির ঘটনা সাজিয়েছেন। চোর ল্যাব থেকে ২১টি ল্যাপটপ বের করে ১১টি নিয়ে গেল, বাকি ১০টি রেখে গেল, এটা রহস্যজনক। তাছাড়া ল্যাবের রুমের উপরের টিন যতটকু কাটা রয়েছে তাতে মানুষের ভেতরে প্রবেশ করা সম্ভব নয়। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসহ প্রকৃত অপরাধীদের খুঁজে বের করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
এ ব্যাপারে মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মশিউর রহমান বলেন, আমি বিষয়টি জানার পর মাদ্রাসায় গিয়ে শিক্ষকদের নিয়ে জরুরি সভা করেছি। পুলিশ প্রশাসনকে চুরির বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। অধ্যক্ষ আবদুস সালাম রব্বানী বলেন, ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে ছিলাম। শনিবার সকালে মাদ্রাসায় এসে কম্পিউটার চুরির বিষয়টি জেনেছি। কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখতারুল আলম বলেন, এ বিষয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ থেকে একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।