আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৩-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

সোনাগাজীর সাত কিমি. সড়কে জনভোগান্তি

জাবেদ হোসাইন মামুন, সোনাগাজী
| দেশ

অতিবৃষ্টি ও খাল খননসহ দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় ফেনীর সোনাগাজীতে মতিগঞ্জ-আহম্মদপুর ও সোনাপুর সড়কের তিনটি স্থান ভেঙে গেছে। এতে করে গত দুই মাস সড়কটি দিয়ে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সাত কিলোমিটার সড়কটির এক কিলোমিটারও মসৃণ নেই বললেই চলে। খানাখন্দে সড়কটিতে ছোট-বড় অনেক গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় ভোগান্তিতে পড়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার মতিগঞ্জ বাজার থেকে আহম্মদপুর-সোনাপুর পর্যন্ত এ সড়ক দিয়ে দুটি ইউনিয়নের ভাদাদিয়া, স্বরাজপুর, ইসমাইলপুর, পক্ষিয়া, চর এলাহি, জিৎপুর, আহম্মদপুর, পশ্চিম আহম্মদপুর, দৌলতকান্দি, চর লামছি, চর কৃষ্ণজয়, চর ডুব্বা, চর সোনাপুর, মধ্যম আহম্মদপুরসহ ১৫টি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষের চলাচলের মাধ্যম এ সড়ক। যান চলাচলে ব্যাঘাত ঘটায় দুই ইউনিয়নের গ্রামগুলোর স্কুল কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থীরা কেউ পায়ে হেঁটে কেউ ঝুঁকি নিয়ে ছোট সিএনজি চালিত অটোরিকশায় করে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করছে। তবে সড়কের ভাঙা অংশ পার হতে চালক ও পথচারীদের ঝুঁকি বেড়ে যায়। সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার মতিগঞ্জ ইউনিয়নের ভাদাদিয়া ও আমিরাবাদ ইউনিয়নের পশ্চিম আহম্মদপুর ও স্বরাজপুর এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে খাল খননের ফলে সড়কের তিনটি স্থানে এক পাশ ভেঙে গেছে। এছাড়া দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় অতিবৃষ্টির ফলে পুরো সড়কটিতে খানাখন্দে ভরে গিয়ে অসংখ্য ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত ও জনসাধারণকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। স্বরাজপুর এলাকার বাসিন্দা মনোয়ারা বেগম বলেন, সড়কটিতে গর্ত থাকায় এবং তাদের বাড়ির পাশে সড়কের এক অংশ ভেঙে খালে চলে যাওয়ায় ভয়ে তিনি দুই ছেলেমেয়েকে নিজে বিদ্যালয়ে নিয়ে যান। ছুটি শেষে আবার বাড়িতে নিয়ে আসেন। তিনি বলেন, জরুরি প্রয়োজন ও কোন লোক অসুস্থ না হলে তারা বাড়ি থেকে বের হন না।পশ্চিম আহম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা বিআরডিবি’র চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদের সদস্য ফারুক হোসেন বলেন, গর্তে পানি জমে থাকায় চলতে অসুবিধা হয়। আবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে অপরিকল্পিতভাবে খাল খনন করায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভেঙে যাওয়ায় তারা আরও বেশি দুর্ভোগে আছেন। তিনি বলেন, এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে সড়কটি সংস্কারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রকৌশলীকে লিখিতভাবে আবেদন দিয়েও কোনো সমাধান পাননি। জানতে চাইলে উপজেলার মতিগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান রবিউজ্জামান বাবু জানান, সড়কটি দিয়ে সুস্থ লোক ছাড়া অসুস্থ কোন রোগী চলাচল করতে পারে না। তিনি সড়কটি সংস্কারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রকৌশলীর কাছে একাধিকবার লিখিত আবেদন দিয়েছেন। কিন্তু স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে সড়ক সংস্কারে কোনো সমাধান না পেয়ে শুধু প্রতিশ্রুতি পেয়েছেন। তিনি সড়কটি সংস্কার ও ভাঙ্গা অংশ মেরামতের জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপজেলা স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রকৌশলী এএনএম মনির উদ্দিন আহম্মদ বলেন, তিনি নিজে সড়কটি পরিদর্শন করে সংস্কারের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করে প্রায় ৮৪ লাখ টাকার প্রকল্প  তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। সংস্কারের জন্য বরাদ্দ পাওয়া গেলে কাজ শুরু করা হবে।