আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৩-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

স্ত্রী-সন্তান গ্রেপ্তার

ফতুল্লায় সাবেক অডিট কর্মকর্তাকে হত্যার অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
| শেষ পাতা

নারায়ণগঞ্জের জামতলায় সঞ্চিত ২০ লাখ টাকার জন্য সাবেক অডিট কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেনকে (৬৫) মারধরে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। রোববার এ অভিযোগে করা মামলায় নিহতের স্ত্রী বিলকিস বেগম ও তাদের একমাত্র ছেলে বিল্লাল হোসেন শাকিবকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মামলার অপর আসামি নিহতের বড় মেয়ে শামীমা আক্তার নিপা পলাতক রয়েছে। 

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ মোহাম্মদ মঞ্জুর কাদের জানান, মামলার বাদী নিহতের ছোট ভাই বন্দরের কলাবাগ এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন। এ মামলায় মা ও ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওসি মামলার বরাত দিয়ে আরও বলেন, আনোয়ারের বড় ভাই শাহাদাৎ হোসেন এজিবির সিনিয়র অডিট কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ৫ বছর আগে তিনি চাকরি থেকে অবসর নেন। চাকরি থেকে এককালীন বেশ কিছু টাকা পেয়েছিলেন। সে টাকায় মাসদাইর এলাকায় একটি বাড়িও করেন। তবে সে বাড়িটি পরে আবার বিক্রি করে দেন। তিনি বলেন, বাড়ি বিক্রির পর জামতলা ধোপাপট্টি এলাকার একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেন। এখানে তিনি স্ত্রী-সন্তান নিয়ে থাকতেন। তবে বিলকিস বেগম (নিহতের স্ত্রী) প্রায় সময় ব্যাংকে সঞ্চিত ২০ লাখ টাকার জন্য স্বামীকে মারধর করতেন। তার সঙ্গে ছেলেমেয়েও যোগ দিতেন। এসব ঘটনায় বেশ কয়েকবার বিচার সালিশও হয়েছে। এমনকি অত্যাচারের শিকার শাহাদাৎ হোসেন ফতুল্লা মডেল থানায় জিডিও করেছিলেন।
আনোয়ার হোসেন দাবি করেন, ভাইয়ের সঞ্চিত টাকার জন্যই ভাবী এবং ভাতিজা-ভাতিজিরা তার ভাইকে অত্যাচার, মারধর করতেন। এর ধারাবাহিকতায় শনিবার তার ভাইকে মারধর করে হত্যা করা হয়। 
শনিবার রাতে লাশ উদ্ধারের পর নিহতের বড় মেয়ে শামীমা আক্তার নিপার স্বামী ট্রাস্ট ব্যাংকের সিনিয়র কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছিলেন, এটি একটি হত্যাকা-। শ^শুরের টাকার জন্য প্রায় সময় তার শাশুড়ি, শ্যালক ও স্ত্রী মারধর করতেন। একবার তার সামনেও তারা শ্বশুরকে মারধর করেছিলেন। নিহতের ভাগিনা জাহাঙ্গীর হোসেনও দাবি করেছেন এটি পরিকল্পিত হত্যাকা-। তিনি বলেন, প্রায় সময় মামি বিলকিস বেগম, মামাতো ভাই বিল্লাল ও বোন নিপা মামাকে মারধর করতেন। এর মধ্যে একবার মারধর করে মামার কাছ থেকে ৭০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন তারা।
তবে গ্রেপ্তার হওয়া বিলকিস বেগমের দাবি, আমাদের সংসারে দুই মেয়ে এক ছেলে রয়েছে। ২৯ আগস্ট বিকালে শাহাদাৎকে নারায়ণগঞ্জ লঞ্চঘাট থেকে শরীরে আঘাতসহ মুমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে বাসায় নিয়ে আসি। শনিবার সন্ধ্যায় হঠাৎ তিনি মারা যান। আমি ও আমার ছেলেমেয়ে এ হত্যায় জড়িত নই। শাহাদাৎ আয়-উপার্জনের টাকা-পয়সা কোনো সময় আমাদের দিত না এবং কোথায় রাখত তা কখনও বলেনি। এ নিয়ে পারিবারিক কলহ ছিল; কিন্তু আমরা তাকে হত্যা করিনি। 
শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে জামতলার ধোপাপট্টি এলাকার সোহাগ মিয়ার পঞ্চমতলা ভবনের তৃতীয়লার ফ্ল্যাট থেকে এজিবির সাবেক সিনিয়র অডিট অফিসার শাহাদাৎ হোসেনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের ডান চোখের ওপরের অংশে একটি এবং ডান বুকে চারটি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছিলেন ঘটনাস্থলে যাওয়া ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আবেদ।