আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৩-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

সিলিকন ভ্যালির আদলে হবে সিলেট ইলেকট্রনিক্স সিটি -তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী

সিলেট ব্যুরো
| শেষ পাতা

রোববার সিলেট চেম্বার আয়োজিত ‘সিলেট ইলেকট্রনিক্স সিটিতে বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগে উৎসাহিতকরণ’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান ষ আলোকিত বাংলাদেশ

সিলেট ইলেকট্রনিক্স সিটিকে আমেরিকা কিংবা ভারতের সিলিকন ভ্যালির আদলে গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। তিনি বলেন, এটা এখন শুধু স্বপ্ন নয়, এটা বাস্তবতা। প্রাকৃতিক পরিবেশ, নৈসর্গিক সৌন্দর্য এবং বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে এটি হবে বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠতম আইটি পার্ক। রোববার সিলেট চেম্বারের কনফারেন্স হলে হাইটেক পার্কে (সিলেট ইলেকট্রনিক্স সিটি) বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। 

বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ এবং সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইমরান আহমদ এমপির সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান, সিলেট সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (সচিব) হোসনে আরা বেগম এনডিসি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক মো. সালাহ উদ্দিন, সিলেটের ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় কমিশনার মৃণাল কান্তি দেব, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি কামরুল আহসান, সিলেটের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক দেবজিৎ সিংহ এবং সিলেট চেম্বার সভাপতি খন্দকার সিপার আহমদ। 

মোস্তাফা জব্বার বলেন, বর্তমান সরকার ডিজিটাল ফ্রেন্ডলি  সরকার। এ সরকার ডিজিটাল বিপ্লবের নেতৃত্ব দিতে সক্ষম। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর নির্ভর করেই দেশে অনলাইন রিভ্যুলিউশনের যাত্রা শুরু হয়েছে। এ ধারাবাহিকতায় শেখ হাসিনাকে আরও কিছুদিন দেশের নেতৃত্ব প্রদানের সুযোগ দিলে বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ দেশে পরিণত হবে। তিনি বলেন, আমরা দেশের ৫ কোটি শিক্ষার্থীর হাতে ডিজিটাল ডিভাইস তুলে দিতে চাই। এসব ডিভাইস দেশে উৎপাদন করা গেলে বিদেশ থেকে এসব আমদানি করতে হবে না। সিলেটকে আমরা দেশের শ্রেষ্ঠতম হাইটেক পার্ক হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। তিনি আরও বলেন, এ ইলেকট্রনিক্স সিটির মতো মনোরম পরিবেশ আর কোথাও নেই। সিলেট ইলেকট্রনিক্স সিটিতে প্রবাসীদের বিনিয়োগের আহ্বান জানান মন্ত্রী। আইসিটি মন্ত্রী সিলেটকে দেশের প্রথম ডিজিটাল নগরী হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, আমরা এ সিটিকে ‘স্মার্ট’ সিটি হিসেবে গড়তে চাই। এ প্রকল্পের প্রাথমিক কাজ শুরু হয়ে গেছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে পুরো নগরীকে অনলাইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। 
প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব সিলেট-ঢাকা রুটে বিমানের ফ্লাইট আরও বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, সিলেট বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রাজধানী। এখানে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে এ রুটে বিমানের ফ্লাইট আরও বাড়ানোর পাশাপাশি পর্যটন করপোরেশনের একটি অফিসও স্থাপন করতে হবে। তিনি বলেন, বিমান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আজ তার নির্ধারিত বৈঠক রয়েছে। এ বৈঠকে সিলেট-ঢাকা আরও ফ্লাইট চালুর ব্যাপারে আলোচনা হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে চান। একনেক বৈঠকে শিগগিরই বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান পাস হবে। সারা বিশ্বে এখন চতুর্থ ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিভ্যুলিউশন চলছে এ মন্তব্য করে তিনি বলেন, এ জন্য মানবসম্পদ উন্নয়ন সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। মুখ্যসচিব প্রকল্পের কাজ সময়মতো শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। 
উল্লেখ্য, কোম্পানীগঞ্জের বর্ণি এলাকায় ১৮৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে সিলেট ইলেকট্রনিক্স সিটি। এরই মধ্যে প্রকল্পের শতকরা ৬০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে বলে জানান প্রকল্প পরিচালক ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া।