আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৩-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

২০ শতাংশ সমর্থনেই ট্রেড ইউনিয়ন গঠন

ক্ষতিপূরণ দ্বিগুণ করে শ্রম আইন সংশোধন হচ্ছে

আমিরুল ইসলাম
| শেষ পাতা

শ্রম আইন ২০০৬-এর গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু ধারা ও আইনটির পঞ্চম তফসিল সংশোধন করছে সরকার। ২০১৭ সালে ১০৬তম আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনে আলোচিত বিষয়াদি, দেশের শিল্প ও বাণিজ্যের পরিবেশ, আর্থ-সামাজিক অবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সবার মতামত পর্যালোচনা করে বাংলাদেশ শ্রম আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেয় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কমিটি অব এক্সপার্ট শ্রম আইনের বিষয়ে যে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে তার আলোকেই এ সংশোধনী করা হচ্ছে, যা বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধনী) আইন-২০১৮ নামে অভিহিত হবে। ক্ষতিপূরণ দ্বিগুণ করে এ শ্রম আইন সংশোধন করা হচ্ছে। আজ অনুমোদনের জন্য আইনটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের। 

সংশোধিত আইনে কোনো প্রতিষ্ঠানে ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের জন্য মোট শ্রমিকের ২০ শতাংশের সমর্থন প্রয়োজন হবে। বিদ্যমান আইনে বলা আছে, যে ক্ষেত্রে কোনো শ্রমিক জখমের ফলে মারা যায়, সে ক্ষেত্রে পঞ্চম তফসিলের দ্বিতীয় কলামে ১ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের কথা বলা হয়েছে। এ ক্ষতিপূরণের অর্থ সংশোধিত আইনে বাড়িয়ে ২ লাখ টাকা করা হয়েছে। জখমের ফলে স্থায়ী সম্পূর্ণ অক্ষমতা ঘটলে বিদ্যমান আইনে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণের কথা বলা হয়েছে। সংশোধিত আইনে তা বাড়িয়ে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে। আইনটির ধারা-২ এর সংশোধন করে ২ক ধারা নতুন করে সন্নিবেশিত হয়েছে। ২ক-এ বলা হয়েছে উৎসব ভাতার অর্থ কোনো কারখানা বা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিকদের তাদের নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসবের সময় বিধি দ্বারা নির্ধারিত প্রদেয় উৎসব ভাতা। বিদ্যমান আইনের ২(৩৪) ধারা সংশোধন করে প্রসূতি কল্যাণ অর্থ কোনো মহিলা শ্রমিককে তার প্রসূতি হওয়ার কারণে প্রদেয় মঞ্জুরিসহ ছুটি শব্দের পরিবর্তে সংশোধন করে সুবিধা শব্দটি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। কোনো মহিলা শ্রমিককে প্রসূতি কল্যাণ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করলে মালিকের ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদ- করা হবে। বর্তমানে ৫ হাজার টাকা অর্থদ-ের বিধান রয়েছে। প্রসূতি শ্রমিকের কল্যাণ সুবিধার পরিমাণ নির্ধারিত হওয়ার পর মালিক তা পরিশোধ করতে অস্বীকার করলে এ আইনের অধীনে মামলা করা যাবে। বর্তমানে মামলার কোনো বিধান নেই। বিদ্যমান শ্রম আইনের ১৩১ ধারা সংশোধন করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো শ্রমিককে মজুরি হিসেবে দেওয়া সব অর্থ তার মৃত্যুজনিত কারণে অথবা তার খোঁজ না পাওয়ার কারণে যদি পরিশোধ করা না যায় তাহলে বিধি অনুযায়ী শ্রমিক কর্তৃক মনোনীত ব্যক্তিকে অথবা মৃত শ্রমিকের আইনগত উত্তরাধীকারী বা উত্তরাধীকারীদের প্রদান করা হবে। শ্রমিকের কোনো মনোনীত ব্যক্তি না থাকলে, অথবা পরবর্তী ১২ মাসের মধ্যে কোনো কারণে কোনো মনোনীত ব্যক্তি বা উত্তরাধীকারীকে প্রদান করা না গেলে ওই অর্থ বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন তহবিলে জমা করতে হবে। ওই তহবিলে অর্থ জমা দেওয়ার তারিখ থেকে পরবর্তী ১০ বছরের মধ্যে কোনো মনোনীত ব্যক্তি বা উত্তরাধীকারীর খোঁজ না পাওয়ার ক্ষেত্রে পরবর্তী সময়ে ওই অর্থ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের নিজস্ব অর্থ বলে বিবেচিত হবে। শ্রমিক কল্যাণ ফান্ডে অর্থ জমা দিয়ে মালিক তার দায়িত্ব থেকে মুক্ত হবেন। বিদ্যমান শ্রম আইনের ১৭৮-এর উপধারা ৩ সংশোধন করা হয়েছে। ওই ধারায় বলা হয়েছেÑ ট্রেড ইউনিয়নের কর্মকর্তাদের নাম, পিতা ও মাতার নাম, বয়স, ঠিকানা, পেশা এবং ইউনিয়নে তাদের পদ উল্লেখ থাকতে হবে। এ ধারায় নতুন করে ছবিসহ প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র থাকতে হবে যোগ করা হয়েছে। তবে অনানুষ্ঠানিক সেক্টরে কর্মরত শ্রমিকদের জন্য প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্রের প্রয়োজন হবে না। ১৭৯ ধারার উপধারা গ সংশোধন করে বলা হয়েছে, কোনো শ্রমিকের ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য হওয়ার পদ্ধতি এবং বিধি দ্বারা নির্ধারিত ফরমে সদস্য পদ গ্রহণের ঘোষণা। একই ধারার ঘ উপধারা সন্নিবেশিত করে বলা হয়েছে, ট্রেড ইউনিয়নের চাঁদা ব্যতিরেকে দেশি বা বিদেশি অন্য কোনো উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করার ক্ষেত্রে তা সরকারকে অবহিত করতে হবে। 
বিদ্যমান শ্রম আইনের ১৮২(১) উপধারা সংশোধন করে বলা হয়েছে, মহাপরিচালক কোনো ট্রেড ইউনিয়নের কর্তৃক এ অধ্যায়ের সব প্রয়োজনীয় বিষয় পালিত হয়েছে বলে সন্তুষ্ট হলে বিধি দ্বারা নির্ধারিত রেজিস্টারে তা রেজিস্ট্রি করবেন এবং রেজিস্ট্রেশনের জন্য দরখাস্ত পাওয়ার ৫০ দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রিকরণ প্রত্যয়নপত্র প্রদান করবেন। আইনের এ ধারায় আরও বলা হয়েছে, ট্রেড ইউনিয়ন রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন পাওয়ার পর তাতে তথ্যের ঘাটতি থাকলে দরখাস্ত পাওয়ার ১২ দিনের মধ্যে ট্রেড ইউনিয়নকে লিখিতভাবে জানাতে হবে। মহাপরিচালকের আপত্তি পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে ট্রেড ইউনিয়ন জবাব দেবে। নির্ধারিত সময়ে জবাব না পাওয়া গেলে আবেদনটি নথিজাত করার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হবে। যদি মহাপরিচালক কোনো ট্রেড ইউনিয়নের রেজিস্ট্রেশন প্রদান প্রত্যাখ্যান করেন, অথবা আপত্তি মেটানোর পরও ৫৫ দিন সময়সীমার মধ্যে দরখাস্ত নিষ্পত্তি না করেন, সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ট্রেড ইউনিয়ন প্রত্যাখ্যানের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে শ্রম আদালতে আপিল করতে পারবে। বিদ্যমান শ্রম আইনের ১৮২(৭) নামে একটি নতুন ধারা সংযোজন করা হয়েছে। এ ধারায় বলা হয়েছে, সরকার এ ধারার বিধানাবলীর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ট্রেড ইউনিয়ন রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রমের মানসম্পন্ন পরিচালনা পদ্ধতি প্রণয়ন করবে। রেজিস্ট্রেশন অব ট্রেড ইউনিয়ন রেজিস্ট্রেশনের আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে মানসম্পন্ন পরিচালনা পদ্ধতি অনুসরণ করবে। 
বিদ্যমান শ্রম আইনের ১৮৪ সম্পূর্ণ বাতিল করে নতুন করে বলা হয়েছে, এ অধ্যায়ে যা কিছু থাকুক না কেন বেসামরিক বিমান পরিবহনের ক্ষেত্রে পাইলট, প্রকৌশলী ও কেবিন ক্রু পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিরা স্বীকৃত নিজ নিজ আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সম্বন্ধীকরণের জন্য ট্রেড ইউানয়ন গঠন করতে পারবে। বিদ্যমান শ্রম আইনের ১৯০(১) ধারা সংশোধন করে বলা হয়েছে, রেজিস্ট্রেশন বাতিলের জন্য ট্রেড ইউনিয়ন আবেদন করলে তা ট্রেড ইউনিয়নের সাধারণ সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে হতে হবে। বিদ্যমান শ্রম আইনের ১৯৬-এর উপধারা ২-এর অ দফা, ঘ-এর পরিবর্তে (ঘ) প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। নতুন ঘ ধারায় বলা হয়েছে, বল প্রয়োগ, হুমকি প্রদর্শন, কোনো স্থানে আটক, বা তা থেকে উচ্ছেদ, শারীরিক আঘাত এবং পানি বা বিদ্যুৎ বা গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে অথবা অন্য কোনো পন্থা অবলম্বন করে মালিককে কোনো নিষ্পত্তি নামায় দস্তখত করতে অথবা কোনো দাবি গ্রহণ করতে বা মেনে নিতে বাধ্য করবেন বা বাধ্য করতে চেষ্টা করা যাবে না। কোনো বেআইনি ধর্মঘটে অংশগ্রহণ করবেন না। অথবা ঢিলে তালে কাজ শুরু করবে না অথবা চালু রাখবে না, অথবা তাতে অংশগ্রহণের জন্য অন্য ব্যক্তিকে প্ররোচিত করবে না। ২০৫(৬) ধারা সংশোধন করে বলা হয়েছে, যে প্রতিষ্ঠানে ট্রেড ইউনিয়ন নেই সে প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণকারী শ্রমিকদের মধ্য থেকে নির্বাচিত হবে। মহাপরিচালক অথবা তার প্রতিনিধি নির্বাচন তত্ত্বাবধান করবে। ২০৫(১২) ধারা সংশোধন করে বলা হয়েছে, কোনো প্রতিষ্ঠানে ট্রেড ইউনিয়ন থাকলে সে প্রতিষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী কমিটি গঠনের প্রয়োজন নেই। ২৬৪(৬) ও ৭ ধারা সংশোধন করে বলা হয়েছে, যে ক্ষেত্রে কোনো প্রতিষ্ঠানে কোনো যৌথ দর কষাকষি প্রতিনিধি থাকবে না, সে ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারী কমিটি শ্রমিক প্রতিনিধি কর্তৃক মনোনীত হবে। ২৯৪ ধারা সংশোধন করে বলা হয়েছে, কোনো শ্রমিক বেআইনি ধর্মঘট শুরু করলে অথবা চালিয়ে গেলে অথবা তা এগিয়ে নেওয়ার জন্য কোনো কাজ করলে ওই শ্রমিকের অনধিক ৬ মাসের কারাদ- হবে। বিদ্যমান আইনে ১ বছরের কারাদ- ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দ-ের বিধান রয়েছে। ২৯৪ ধারা সংশোধন করে বলা হয়েছে, কোনো মালিক কোনো বেআইনি লক আউট শুরু করলে অথবা চালিয়ে গেলে অথবা তা এগিয়ে নেওয়ার জন্য কোনো কাজ করলে তার অনধিক ৬ মাসের কারাদ- হবে। বর্তমানে ১ বছরের কারাদ- ও ৫ হাজার টাকার অর্থদ- অথবা উভয়দ-ের বিধান রয়েছে। ঢিলে তালে কাজের জন্যও আগে ১ বছরের কারাদ- অথবা ৫ হাজার টাকার অর্থদ-ের বিধান ছিল। এখন তা কমিয়ে ৬ মাসের কারাদ-ের বিধান করা হয়েছে। অরেজিস্ট্রিকৃত ট্রেড ইউনিয়নের কর্মকা-ের জন্য বর্তমানে ৬ মাসের কারাদ- ও ২ হাজার টাকা অর্থদ-ের বিধান রয়েছে তা শিথিল করে ৩ মাসের কারাদ-ের বিধান করা হয়েছে। ট্রেড ইউনিয়নে দ্বৈত পদ ধারণের অপরাধের জন্য ৩ মাসের কারাদ- এবং ২ হাজার টাকা অর্থদ-ের বিধান বাতিল করে অনধিক ১ মাসের কারাদ-ের বিধান করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি শালিসের সন্তোষজনক মত ব্যতীত অন্য কোনো কারণে ধারা ২১০(৭) মানতে ব্যর্থ হলে তার অনধিক ৩ মাসের কারাদ- হবে। বর্তমানে ৬ মাসের কারাদ- ও ২ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। ৩১৭ ধারা সংশোধন করে বলা হয়েছে, কোনো অপরাধের জন্য বা অসৎ শ্রম আচরণ বা এন্টি ট্রেড ইউনিয়ন ডিসক্রিমিনেশন অথবা ত্রয়োদশ অধ্যায়ের কোনো বিধান লঙ্ঘনের জন্য তদন্তসাপেক্ষে শ্রম আদালতে অভিযোগ পেশ করা যাবে। ৩৪৮ক নামে একটি নতুন ধারা সন্নিবেশিত করা হয়েছে, এতে বলা হয়েছে, সরকার ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদ (টিসিসি) নামে একটি পরিষদ গঠন করতে পারবে।  
শ্রম আইনের ২১৬(১২) সংশোধন করে বলা হয়েছেÑ শ্রম আদালতের রায়, সিদ্ধান্ত বা রোয়োদাদ, প্রত্যেক ক্ষেত্রে মামলা করার তারিখ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে প্রদান করতে হবে। কোনো কারণে এ সময়ের মধ্যে রায়, সিদ্ধান্ত, বা রোয়েদাদ প্রদান করা সম্ভব না হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে আবশ্যিকভাবে তা প্রদান করতে হবে। বিদ্যমান আইনে ৬০ দিন রয়েছে। ২১৮(১১) সংশোধন করে বলা হয়েছে, ট্রাইব্যুনালের রায় আপিল দায়েরের সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে প্রদান করবে। কোনো কারণে এ সময়ের মধ্যে রায় প্রদান করতে না পারলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে আবশ্যিকভাবে প্রদান করবে। বিদ্যমান আইনে ৬০ দিনের বিধান রয়েছে। 
বিদ্যমান আইনের ২(৩৫ক) ধারা সংশোধন করা হয়েছে। এ ধারার সংশোধনীতে বলা হয়েছেÑ প্রাথমিক চিকিৎসায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অর্থ এমন কোনো ব্যক্তি যার প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়ে রেজিস্টার্ড চিকিৎসক কর্তৃক প্রদত্ত অভিজ্ঞতার প্রত্যায়নপত্র রয়েছে। আইনের ২(৪৭) ধারা সংশোধন করে শ্রম পরিদপ্তর থেকে শ্রম অধিদপ্তর হওয়ায় কর্মকর্তাদের পদ-পদবিও পরিবর্তন করা হয়েছে। এখন থেকে প্রধান পরিদর্শকের পরিবর্তে মহাপরিদর্শক, যুগ্ম মহাপরিদর্শক, উপমহাপরিদর্শক, সহকারী মহাপরিদর্শক এবং শ্রম পরিদর্শক হবে। ধারা (৪৭ক) সংযোজন করা হয়েছে। ৪৭ক ধারায় বলা হয়েছে, মহাপরিদর্শক, অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক, যুগ্ম মহাপরিদর্শক, উপমহাপরিদর্শক, সহকারী মহাপরিদর্শক এবং শ্রম পরিদর্শক করা হয়েছে। ৪৭ক নতুন করে সংযোজন করে বলা হয়েছে, প্রধান পরিদর্শক, উপপ্রধান পরিদর্শক, সহকারী প্রধান পরিদর্শক, পরিদর্শক অথবা সহকারী পরিদর্শকের পরিবর্তে মহাপরিদর্শক, অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক, যুগ্ম মহাপরিদর্শক, উপমহাপরিদর্শক, সহকারী মহাপরিদর্শক ও শ্রম পরিদর্শক হবে। ২(৪৮) ধারা সংশোধন করে মহাপরিচালক, অতিরিক্ত মহাপরিচালক, পরিচালক, উপপরিচালক, সহকারী পরিচালক এবং শ্রম কর্মকর্তা শব্দ যোগ হবে। সরকার এ আইনের বিধানাবলীর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অসৎ শ্রম আচরণবিষয়ক তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি মানসম্পন্ন পরিচালনা পদ্ধতি প্রণয়ন করবে। মহাপরিচালক অথবা তার কাছ থেকে ক্ষমতাপ্রাপ্ত যে কোনো কর্মকর্তা তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনাকালে উল্লিখিত মানসম্পন্ন পরিচালনা পদ্ধতি অনুসরণ করবেন। বিদ্যমান আইনের ১৯৬ ধারার সঙ্গে একটি উপধারা যোগ করে ১৯৬ক ধারা সৃষ্টি করা হয়েছে। নতুন এ ধারায় বলা হয়েছে, শ্রমিক কর্তৃক ট্রেড ইউনিয়ন প্রক্রিয়া চলাকালে অথবা রেজিস্ট্রেশন দরখাস্ত অনিষ্পন্ন থাকাকালে অথবা রেজিস্ট্রেশনের পরে মালিক কর্তৃক শ্রমিকের চাকরির শর্তাবলী লঙ্ঘন এবং কর্মস্থলে প্রতিশোধমূলক কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করলে তা উক্ত মালিকের পক্ষে এন্ট্রি ট্রেড ইউনিয়ন ডিসক্রিমিনেশন হবে। নতুন এ ধারার দ্বিতীয় অংশে বলা হয়েছে, সরকার এ আইনের অধীনে বিধানাবলীর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এন্ট্রি ট্রেড ইউনিয়ন ডিসক্রিমিনেশন বিষয়ক তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি মানসম্পন্ন পরিচালনা পদ্ধতি প্রণয়ন করবে। মহাপরিচালক অথবা তিনি যাকে ক্ষমতা প্রদান করেন তিনি তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার সময় মানসম্পন্ন পরিচালনা পদ্ধতি অনুসরণ করবেন।