আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৩-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ছুটছেন পাড়া-মহল্লায়

রাজন রাশেদ, চুয়াডাঙ্গা
| শেষ পাতা

ভারতের কাঁটাতারের বেড়া সংলগ্ন চুয়াডাঙ্গা-২ (দামুড়হুদা-জীবননগর) আসন। সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সীমান্তবর্তী এ উপজেলায় বেশ জোড়েশোরেই বইছে ভোটের হাওয়া। দামুড়হুদা উপজেলায় ৯টি ইউনিয়ন, একটি পৌরসভা ও জীবননগর উপজেলায় আটটি ইউনিয়ন, একটি পৌরসভা, সদর উপজেলার দুটি ইউনিয়ন নিয়ে চুয়াডাঙ্গা-২ সংসদীয় আসন। জেলার অন্য উপজেলার চেয়ে এখানে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের গণসংযোগ ও সভা-সমাবেশ একটু বেশি চলছে। মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যাও বেশি। চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে ২০০৮ সালের আগ পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াতের দাপট থাকলেও এখন তা আগের মতো নেই। এ আসনকে বিএনপি-জামায়াত তাদের ঘাঁটি মনে করে থাকে। আগামী নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী মাঠে সরব রয়েছেন। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা জনমত সৃষ্টির লক্ষ্যে অবিরাম ছুটছেন পাড়া-মহল্লায়। সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগসহ কুশল বিনিময় চলছে প্রতিদিনই। তুলনামূলকভাবে অন্যান্য দলের চেয়ে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থীর সংখ্যা এখানে বেশি। একাধিক প্রার্থী মাঠে থাকায় কদর বাড়ছে তৃণমূল নেতাকর্মীদের। 

জাতীয় দিবস, ঈদ-পূজা ও বিশেষ দিনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ছবি সংবলিত দৃষ্টিনন্দন তোরণ, ফেস্টুন, রং-বেরঙের বিলবোর্ড, ব্যানার ও পোস্টার সাঁটিয়ে প্রার্থিতার জানান দিচ্ছেন অনেকেই। বেশ আগেভাগেই নির্বাচনের মাঠ চষতে শুরু করেছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন বিএনপির তিন মনোনয়ন প্রত্যাশী। এছাড়াও জাতীয় পার্টির একজন ও জামায়াতের একজন মনোনয়ন প্রত্যাশী মাঠে রয়েছেন। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ছয় নেতা মনোনয়ন পেতে মাঠে তৎপর রয়েছেন। ভোটের তালিকার সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১২ হাজার ২০৬ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৬ হাজার এবং মহিলা ভোটার ২ লাখ ৬ হাজার ২০৬ জন। স্বাধীনতার পর এ আসনে বিএনপির প্রার্থীরাই সংসদ সদস্য হিসেবে বেশি জয়লাভ করেন। চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে ১৯৭৩ সালে ডা. আসাবুল হক (হ্যাবা) আওয়ামী লীগের প্রার্থী  হিসেবে বিজয়ী হয়েছিলেন। ১৯৭৯ সালে আবু সাইদ খান বিএনপির, ১৯৮৬ সালে ১৫ দলীয় ঐক্য জোটের প্রার্থী মীর্জা সুলতান রাজা, ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির হাবিবুর রহমান, ১৯৯১ সালে জামায়াতের প্রার্থী মাও. হাবিবুর রহমান সংসদ নির্বাচিত হন।
১৯৯৬-২০০১ সালে বিএনপির প্রার্থী শিল্পপতি মোজাম্মেল হক, ২০০৮ ও ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে প্রার্থী শিল্পপতি হাজী আলী আজগার টগর দলীয় প্রতীক নৌকা নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। উন্নয়নের দিক থেকে অবহেলিত এ আসনটি বর্তমানে আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে বিবেচিত। দলীয় কিছু স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে অনেক নেতাকর্মী এখানে অনেক ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এ আসনে মনোনয়ন প্রত্যার্শীর মধ্যে আছেন পরপর দুইবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শিল্পপতি হাজী আলী আজগার টগর। বর্তমান সংসদ সদস্য হাজী আলী আজগার টগর বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আমার নির্বাচনি এলাকায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন, উপজেলা প্রশাসনিক ভবন, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্টসহ ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করেছি। এতে সফল সংসদ সদস্য হিসেবে এলাকায় আমার পরিচিতি রয়েছে। পরপর দুইবার নির্বাচিত হয়ে এলাকায় যে পরিমাণ উন্নয়ন করেছি, মানুষের পাশে থেকেছি তাতে মনোনয়ন না পাওয়ার কারণ নেই। এর বাইরে আওয়ামী লীগের আরও অন্তত পাঁচজন মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন। মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক দামুড়হুদা উপজেলা চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা আজাদুল ইসলাম আজাদ বলেন, মনোনয়ন পেলে আগামীতে বিপুল ভোটে বিজয়ী হব। চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নজরুল মল্লিক বলেন, আমি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অসহায় ও দুঃস্থ মানুষের পাশে আছি। দামুড়হুদা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক মাহফুজ্জুর রহমান মন্জু বলেন,  মনোনয়ন পেলে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে মাদকদ্রব্য নির্মূল, সন্ত্রাসমুক্ত এলাকা হিসেবে গড়ে তুলব। যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাশেম রেজা বলেন, ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা ও তার পুত্র সজিব ওয়াজেদ জয় চাচ্ছেন তরুণ নেতৃত্ব। দেশনেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আমি মাঠে নেমেছি। শেখ হাসিনা এবার গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তিতে মনোনয়ন দেবেন। সে বিবেচনায় তিনি আশাবাদী। বঙ্গবন্ধু জাতীয় শিশু-কিশোর মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক হাজী সাদিকুর রহমান বকুল বলেন, দলীয় মনোনয়নের ব্যাপারে আশাবাদী হয়ে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন। 
অপরদিকে ২০ দলীয় জোটের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে মাঠে রয়েছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-কোষাধ্যক্ষ চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির ১নং যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদ হাসান খান বাবু, এছাড়া জেলা বিএনপির সদস্য দর্শনা পৌর বিএনপির সভাপতি মাহমুদুর রহমান তরফদার শাওন ও বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার মোখলেছুর রহমান টিপু তরফদার, চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রুহুল আমিন ও জাতীয় পার্টির (জা-মো) মনোনয়ন প্রত্যাশী দেলোয়ার হোসেন দুলু। কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-কোষাধ্যক্ষ  মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, তিনি আগেভাগেই এলাকার মসজিদ, মাদ্রাসা, দরিদ্র নেতাকর্মীদের সহযোগিতাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অনুদানের পাশাপাশি দলীয় কার্যক্রমে নিজের অবস্থান মজবুত করে রেখেছেন। দলের প্রায় দেড় হাজার নেতাকর্মীর মামলার যাবতীয় দেখাশোনা আমিই করছি। হারিয়ে যাওয়া আসনটি ফিরে পেতে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে মাঠে গ্রুপিং নিরসনে কাজ করছি। দলের দুর্দিনে নেতাকর্মীদের পাশে আছি। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া আমাকেই দলীয় মনোনয়ন দেবেন বলে আশা করছি। আগামী নির্বাচনে এ আসনটি পুনরুদ্ধার করতে আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রুহুল আমিন বলেন, ২০১০ সাল থেকে দলীয়ভাবে আমার মনোনয়ন নিশ্চিত হয়ে আছে। ধর-পাকড়ের ভয়ে প্রকাশ্যে দলীয় কার্যক্রম করতে না পারলেও গোপনে গোপনে নির্বাচনি প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি।