আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৩-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

ধর্ম ব্যবহার করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির বিরুদ্ধে সতর্ক থাকুন : রাষ্ট্রপতি

আলোকিত ডেস্ক
| শেষ পাতা

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ রোববার ঢাকায় বঙ্গভবনে শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন ষ পিআইডি

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ধর্মকে ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তি বা গ্রুপ যাতে সামাজিক শৃঙ্খলায় বিঘœ ঘটাতে না পারে, সে জন্য সব ধর্মের লোকদের আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বঙ্গভবনে রোববার হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘ধর্ম মানুষকে সত্য ও ন্যায়ের পথ দেখায়, জনকল্যাণে অনুপ্রাণিত করে। কোনো ধর্মই জঙ্গিবাদ, মৌলবাদ অথবা সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করে না।’ খবর বাসসের।
যদি কেউ আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা চালায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং একই সঙ্গে জাতীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারা বজায় রাখতে সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতি যে কোনো মূল্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধসহ সব আন্দোলন সংগ্রামে সব ধর্ম, বর্ণ ও মতের লোকরা অংশ নেওয়ায় বিজয় ত্বরান্বিত হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ নির্মাণে অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে কাজে লাগানোর প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আমাদের ঐতিহ্য উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ নির্মাণে সমাজে বিদ্যমান সম্প্রীতি ও বন্ধুত্ব আরও জোরদারে সব ধর্ম বিশ্বাসের লোকদের প্রতি আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, সব ধর্মীয় উৎসবই আনন্দ উল্লাসের, কিন্তু প্রতিটি উৎসবই সবার অংশগ্রহণে সর্বজনীন হয়ে ওঠে।
আবদুল হামিদ বলেন, মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ এবং খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মাঝে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যগত ঐক্য যৌথ প্রচেষ্টা ও পারস্পরিক মহানুভবতার মাধ্যমে গড়ে উঠেছে।
তিনি এ সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের জনগণকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, সমাজ থেকে সব ধরনের অবিচার, নিপীড়ন, নির্যাতন ও সংঘাত দূর করে জনগণের মধ্যে ভালোবাসা ও সম্প্রীতির সম্পর্ক তৈরি করাই ছিল শ্রী কৃষ্ণের মূল মতাদর্শ।
রাষ্ট্রপতি বলেন, সমাজে ধর্ম ও ভালো লোককে রক্ষায় সব ধরনের অপশক্তি নির্মূলে সমাজে শ্রী কৃষ্ণের আবির্ভাব হয়েছিল।
এ সময় অভ্যর্থনায় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীর ব্যক্তি, হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্ট, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতা, বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত হিন্দু সম্প্রদায়ের ব্যক্তিরা। এ সময় তারা রাষ্ট্রপতিকে জন্মাষ্টমীর ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
সংসদ সদস্য, বিচারপতি, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার, হিন্দু ধর্মাবলম্বী জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকসহ বিভিন্ন ব্যক্তি বঙ্গভবনের অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এ সময় অতিথিদের বঙ্গভবনের দরবার হলে বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী খাবারে আপ্যায়ন করা হয়। রাষ্ট্রপতি অতিথিদের কাছে গিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।