আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৪-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

বায়োসেফটি নিশ্চিতে আধুনিক হোক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা

| চিঠিপত্র

শারীরিক, মানসিক ও সামাজিকভাবে সুস্থ থাকার জন্য নিরাপদ ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করার পূর্বশর্ত হলো বায়োসেফটি। বায়োসেফটি বলতে মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর স্বাস্থ্য ও পরিবেশকে ক্ষতিকর অনুজীব যেমনÑ ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ফানজাই, রিকেটস, প্রিয়নস ইত্যাদি থেকে রক্ষা করা। আর বায়োসেফটির জন্য চাই নির্মল পরিবেশ। পরিবেশ নিঃসন্দেহে মানবধাত্রীর মতো। পরিবেশ ও মানুষের মাঝে রয়েছে গভীর আত্মার আত্মীয়তার সম্পর্ক।

কিন্তু নির্বিচারে প্রকৃতি সংহার ও যত্রতত্র বর্জ্য নিঃসরণের মাধ্যমে দিন দিন সেই পরিবেশের ওপর চলছে মানুষের নির্মম কুঠারাঘাত। ফলে মারাত্মকভাবে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে ও ব্যাহত হচ্ছে বায়োসেফটি। পরিবেশ দূষণের এমন অঘোষিত যুদ্ধে বাদ নেই শিল্পকারখানা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল কোনোটিই। বাসগৃহ ও এসব প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বর্জ্য খোলা ডাস্টবিন, নর্দমা ও নগর সংলগ্ন নদীতে ফেলা হচ্ছে। নিউ টাইমসের এক সমীক্ষা মতে, বর্জ্য নিষ্কাশনের এমন অব্যবস্থাপনার কারণে পৃথিবীতে প্রতি বছর প্রায় ২০ কোটি টনের বেশি কার্বন মনোঅক্সাইড, ৫ টন হাইড্রোকার্বন ও প্রায় ১৫ কোটি টন সালফার ডাই অক্সাইড উৎপন্ন হচ্ছে।

এসব বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থের কারণে ওজোন স্তর ছিদ্র হয়ে ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মির সঙ্গে বিভিন্ন তেজস্ক্রিয় রশ্মি সরাসরি পৃথিবীতে পৌঁছে। এতে দুরারোগ্য ক্যান্সার, এইডস, যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হেপাটাইটিস সি ইত্যাদি জটিল রোগ সৃষ্টি করে মানুষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল করে বিকলাঙ্গ থেকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। নিজেদের আপাত সুবিধা, সদিচ্ছার অভাব ও ক্ষুদ্র স্বার্থের জন্য আশ্রয়স্থলকে অনিরাপদ ও ঝুঁকির দিকে ধাবিত করতে এক পাও পিছু হটছি না।

আমার আপনার সবাইকে মনে রাখতে হবে, বিশুদ্ধ নির্মল পরিবেশ মানুষের জন্মগত অধিকার। আমরা যে পরিবেশে বেড়ে উঠছি, তা আমাদের পূর্বপুরুষ রেখে গেছেন এবং আমাদেরও পরবর্তী প্রজন্মের প্রাণের বিকাশের জন্য নির্মল পরিবেশ রেখে যেতে হবে। তাই পরিবেশ দূষণের এমন ধ্বংসলীলা থেকে অভিপ্রেত সাম্যবস্থা বজায় রাখার জন্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দীর্ঘমেয়াদি আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত ব্যবস্থা গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি। হ

ষ তানভীর আহমেদ রাসেল

শিক্ষার্থী, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

[email protected]