আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৪-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

সর্বজনীন আয়োডিনযুক্ত লবণ আইন

বিচার-বিবেচনার মাধ্যমে সত্বর বাস্তবায়িত হোক

| সম্পাদকীয়

শতভাগ আয়োডিনযুক্ত ভোজ্য লবণের ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবি বহু দিনের। ৫ আগস্ট কক্সবাজার লবণ মালিকদের এক সভার বরাতে প্রকাশ, আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহারে দেশের অবস্থান ৬৯ শতাংশ। অর্থাৎ শতভাগ আয়োডিনযুক্ত লবণের লক্ষ্যমাত্রা এখনও অর্জিত হয়নি। এ অবস্থায় দেশে সর্বজনীন আয়োডিনযুক্ত লবণ আইন হচ্ছে। আলোকিত বাংলাদেশের প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোজ্য লবণে আয়োডিন যুক্তকরণ, মানুষ ও অন্যান্য প্রাণির খাদ্য তৈরিতে আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার নিশ্চিতকরণসহ আয়োডিনের অভাবজনিত রোগ প্রতিরোধ ও নিরাময়ের লক্ষ্যে সরকার আইন সংশোধন করছে, যা সর্বজনীন আয়োডিনযুক্ত লবণ আইন-২০১৮ নামে অভিহিত হবে। এর আগে আয়োডিনের অভাবজনিত রোগ প্রতিরোধ আইন-১৯৮৯ নামে একটি আইন করা হয়েছিল। ওই সময় প্রণীত আইনে আয়োডিনের ব্যবহার সংক্রান্ত বিধিবিধান ছিল। সংশোধিত আইনে নতুন করে আয়োডিনমুক্ত (ছাড়া) লবণ বাজারজাত করলে নানা ধরনের শাস্তি আরোপের বিধান করা হয়েছে। জানা যায়, শিল্প মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নতুন করে সংশোধিত এ আইনটি শিগগিরই চূড়ান্ত করে তা অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় পাঠানো হবে।
আয়োডিন আমাদের শরীরের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যদিও বিষয়টি অনেকেরই জানা নেই। থাইরয়েড হরমোন এবং হজমের কর্মকা-ের জন্য এটি বিশেষ ভূমিকা রাখে। আয়োডিনের অভাব হলে শারীরিক বৃদ্ধি বা গঠনে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। মানুষের বৃদ্ধি আর শেখার ক্ষমতার অভাবের পেছনে আয়োডিনের অভাবই প্রধান। গবেষণায় দেখা গেছে, যদি গর্ভবতী নারীরা যথেষ্ট পরিমাণ আয়োডিন না পান, তাহলে তাদের সন্তান বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী অথবা হরমোন সমস্যা নিয়ে জন্ম নিতে পারে। এ অবস্থায় আয়োডিনের প্রয়োজনীয়তা কারও পক্ষে এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। উল্লেখ্য, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক মাত্র ১৫০ মাইক্রোগ্রাম আয়োডিনের প্রয়োজন আর এক কিলোগ্রাম লবণে প্রয়োজনীয় আয়োডিন যুক্ত করতে খরচ পড়ে মাত্র ২৫ পয়সা। এ থেকে বলা যায়, সামান্য সদিচ্ছাই পারে শতভাগ আয়োডিনযুক্ত লবণ উৎপাদন। তবে এক্ষেত্রে কিছু সতর্কতা লক্ষণীয়। গেল বছরের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, আয়োডিনের অভাব পূরণে দেশের প্রায় ৮৪ শতাংশ পরিবার এখন রান্নায় আয়োডিনযুক্ত মোড়কজাত লবণ ব্যবহার করে। মানমাত্রা অনুযায়ী প্রতি কেজি লবণে ন্যূনতম ৫০ মিলিগ্রাম আয়োডিন থাকতে হবে। কিন্তু মোড়কজাত এসব লবণে পরিমিত মাত্রায় আয়োডিন পাওয়া যায়নি। কারখানায় প্রক্রিয়াকরণ ও গ্রাহক পর্যায়ে ব্যবহারজনিত ক্রটির কারণে উবে যায় তারও সিংহভাগ। ফলে আয়োডিনের ঘাটতি থেকেই যায়। আর কিছু গবেষণায়ও অনুরূপ ফল পাওয়া গেছে। 
এক হিসাবে পৃথিবীর প্রায় ২ বিলিয়ন মানুষ অর্থাৎ পৃথিবীর জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশই আয়োডিনের অভাবে ভুগছেন। এ কারণেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আদেশে সারা পৃথিবীতে ১২০ দেশে খাবারের সঙ্গে লবণ যোগ করা হয়, বাংলাদেশ যার অন্যতম। সার্বিক পরিপ্রেক্ষিতে আয়োডিনযুক্ত লবণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্ববহ। অনিবার্য কারণেই প্রস্তাবিত সংশোধিত আইনটি অত্যন্ত সময়োপযোগী; বিবিধ বিচার-বিবেচনার মাধ্যমে আইনটি সহসা বাস্তবায়িত হোকÑ এটাই প্রত্যাশা।