আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৪-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

প্রতিশোধ না নতুন শুরু

শফিক কলিম
| খেলা

বাফুফে ভবনে কাল দ্বাদশ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের গণমাধ্যমপর্ব শেষে ভুটানের কোচ ট্রেভর মরগ্যান, অধিনায়ক সেদ্রুপ শেরিং চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াতেই ভেতরে ঢুকলেন বাংলাদেশের ব্রিটিশ কোচ জেমি ডে, অভিজ্ঞ ফুটবলার নাসির চৌধুরী। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে আজ সন্ধ্যা ৭টায় প্রতিপক্ষ হওয়ার আগে মাঠের বাইরে নিজেরা রসিকতা করে নিলেন দুই ব্রিটিশ; নাসিরেরও চেনা প্রতিপক্ষ সেদ্রুপ, হাত মেলালেন, পিঠ চাপড়ে দিলেন একে-অন্যের। কিছুক্ষণ পর দুজনের হাত ‘পাঞ্জা’ করে ছবি তুলতে চেয়ে যেন সাফে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঝাঁঝ ছড়ালেন গণমাধ্যম কর্মীরা।

‘ভুটান ম্যাচ কি প্রতিশোধ হিসেবে দেখছেন’Ñ গণমাধ্যমপর্বে প্রশ্নটা ঘুরেফিরে এসেছে। লাল-সবুজ কোচ জেমির জবাব, ‘ফুটবলে প্রতিশোধের কিছু নেই, সবই স্বাভাবিক, এটা ভিন্ন টুর্নামেন্ট, ভিন্ন ম্যাচ। আমাদের ভাবনায় সাফ, এখানে জিততে চাই। ছেলেদের বলেছি প্রতিশোধ ভুলে যাও, জাকার্তায় যা খেলেছো ঘরের মাঠেও খেলো। মানুষ তোমাদের জয়ী দেখতে চায়।’ সূর মেলান নাসির, টানা পঞ্চম সাফ খেলা স্মরণীয় রাখতে ঘরের মাঠে ভালো খেলা উপহার দিতে চান তিনি। জেমি-নাসিররা লক্ষ্য জানানÑ ‘প্রথমে ভুটান ম্যাচ জয়, এরপর সেমিফাইনাল, ফাইনাল। ধাপে ধাপে উপরে উঠতে চাই।’
ভুটান কি ছেড়ে দিবে বাংলাদেশকে? হোক না স্বাগতিক; দুই বছর আগে তো বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামেই বাংলাদেশের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে বাড়ি ফিরেছিলেন চেনচো, সেদ্রিপরা। থিম্পুতে ফিরতি ম্যাচ ৩-১ গোলে জিতে এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বের টিকিট নিশ্চিত করে। অথচ এর আট মাস আগেও এসএ গেমসে বাংলাদেশ জিতেছিল ৩-০ গোলে। যদিও বাংলাদেশকে অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া ম্যাচের পর ভুটানের ফুটবল উপরে ওঠেনি, বরং পরের সাত ম্যাচ হেরেছে; ১৪-০, ১০-০, ৭-০ ব্যবধানও ছিল। নিষেধাজ্ঞা কাটিযে ফেরা পাকিস্তানের মতো ঢাকা সাফকে তারাও নিচ্ছে ঘুরে দাঁড়ানোর সিঁড়ি হিসেবে। তাই অতীত নিয়ে ভাবতে চান না ভুটানের ব্রিটিশ কোচ ট্রেভর মরগ্যানও।
শক্তি-সামর্থ্যে যাই হোক, মুখোমুখি দ্বৈরথে বাংলাদেশ বেশ এগিয়ে; ১৯৮৪ সাফ থেকে ২০১৬ এশিয়ান কাপ প্রাক-বাছাই পর্যন্ত ১২ ম্যাচে একবার জয়ী ভুটান, ড্র দুটি; লাল-সবুজদের জয় ৯টি, ৬টি ৩ ও দুটি ৪ গোলে। সাফে সাত ম্যাচে একটি ড্র, ছয়টি জয়। থিম্পুতে ভুটানের কাছে হার যে ফ্লুক ছিল, প্রমাণ করার দায়িত্ব আজ জামাল, মামুনুল, নাসির, আশরাফুল, ওয়ালী, রনি, সোহেল রানা, ইমন, তপুদের; পাশে বুক চিতিয়ে দাঁড়াবেন তরুণ সুফিল, সাদ, বিশ্বনাথ, সুশান্ত, বিপলু, জিকুরা। প্রত্যয়Ñ জিততেই হবে। জাকার্তা এশিয়াডে দেশের ফুটবল টানেলে যে আলো দেখা গেছে, সেটা উসকে দিতে হবে।
ফুটবলারদের মনোবল বাড়িয়ে দিতে সমর্থকদের মাঠে আসার উদাত্ত আহ্বান জানালেন বাফুফে সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন, ‘ভালো প্রস্তুতি নিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি, এর চেয়ে ভালো প্রস্তুতি হতে পারে না। জাকার্তায় দুরন্ত ফুটবল খেলেছে ছেলেরা, ঘরের মাঠে সমর্থকরা উৎসাহ দিলে তারা আরও ভালো খেলার অনুপ্রেরণা পাবে। সাবেক ফুটবলার হিসেবে বলতে চাইÑ আমরা চ্যাম্পিয়ন হচ্ছিই, দলের সামর্থ্য আছে। আমাদের কাজ মাঠে সমর্থন দেওয়া।’
ব্রিটিশ কোচ জেমির লক্ষ্য, ম্যাচ বাই ম্যাচ খেলে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করা, তাই মিশন জয় দিয়ে শুরু করতে চান তিনি। আজ ভুটান ম্যাচে ৩ পয়েন্ট পেলে পাকিস্তান ও নেপালের বিপক্ষে কিছুটা চাপমুক্ত খেলার সুযোগ থাকবে। স্বাগতিক সুবিধা বা কাগুজে সমীকরণে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকলেও সহজ প্রতিপক্ষ হতে চান না ভুটান অধিনায়ক করমা সেদ্রুপ শেরিং; পেশাদার বিমান চালকের কথা, ‘আগে কী ফল ছিল, সেটা ভাবছি না। আমরা এসেছি ভালো ফুটবল খেলতে। আমরা নিজেদের সেরাটা দিয়ে প্রতিপক্ষকে চমকে দিতে চাই।’ ২০০৮ শ্রীলঙ্কা-মালদ্বীপ সাফে সেমিফাইনাল খেলা ভুটান ফুটবল ইতিহাস সেরা খেলোয়াড় চেনচো জেইলশেনের চোখ ফাইনালে! কোটি টাকায় আইএসএলে ব্যাঙ্গালুরু এফসিতে খেলা এ ফরোয়ার্ডের মূল কথা, ‘এ ধরনের টুর্নামেন্টে কোনো দল হারতে আসে না। কিছু না কিছু প্রাপ্তি হয়।’ দলের সার্বিক চিত্র ভালো, মনোবল দারুণ, আত্মবিশ্বাসীও, ফলে অসম্ভব মনে করেন না ব্রিটিশ কোচ, তবে পথ কঠিনÑ বললেন মরগান। 
গেল তিন মাসের প্রস্তুতির পর জেমি চান শিষ্যরা উপভোগ করুক, তাতে ভালো কিছু হবে; দেশের ফুটবলের নতুন পথচলা শুরু হবে। এমন কিছুই তো চান দেশের ফুটবলপ্রেমীরাও; দায়িত্ব এখন ফুটবলারদের কাঁধে। লাল-সবুজ পতাকার ভার কতটা নিতে পারেন তারাÑ সেটাও দেখা হয়ে যাবে।