আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৪-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

ডিসেম্বরের মধ্যেই নতুন মজুরি বাস্তবায়ন

নিজস্ব প্রতিবেদক
| অর্থ-বাণিজ্য

চলতি বছরের অক্টোবর মাসের মধ্যে পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করা হবে এবং ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই তা অবশ্যই বাস্তবায়ন হবে বলে জানিয়েছেন তৈরি পোশাক খাতের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান।

সোমবার ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের চতুর্থ বৈঠক শেষে তিনি এ কথা জানান। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান সৈয়দ আমিনুল ইসলাম। শ্রমিকদের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন ফজলুল হক মন্টু এবং শ্রমিক নেতা শামসুন্নাহার ভূঁইয়া। অন্যদিকে মালিকপক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ’র সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান এবং কাজী সাইফুদ্দীন আহমেদ। এছাড়াও নিরপেক্ষ সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন।
মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম বলেন, মালিকপক্ষ ও শ্রমিকপক্ষের বক্তব্য শুনে এবং বিবেচনা করে নতুন মজুরি নির্ধারণ করা হবে। এটা এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি। আবারও নতুন বৈঠকের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। আশা করছি, চলতি মাসের ১২ তারিখে পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ওই বৈঠকে ন্যূনতম মজুরির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। মজুরি নির্ধারণে কাউকে জোর করে কিছু চাপিয়ে দেওয়া হবে না। কারখানার মালিকের বিষয়ে বা তার সক্ষমতার বিষয়টি যেমন দেখা হবে, একইভাবে শ্রমিকের চাহিদাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, সভায় নীতি-নির্ধারণী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। মজুরির চূড়ান্ত বিষয়টি আগামী সভায় হতে পারে। বোর্ডের হাতে অক্টোবরের ১৭ তারিখ পর্যন্ত সময় আছে। তবে সময় যাই থাকÑ চলতি বছরের ডিসেম্বর থেকে মজুরি বোর্ড নির্ধারিত বেতন কার্যকর হবে।
এর আগে জুলাই মাসের ১৬ তারিখে মজুরি বোর্ডের তৃতীয় বৈঠকে মালিকপক্ষ থেকে বিজিএমইএ সভাপতি ৬ হাজার ৩০০ টাকা ন্যূনতম মজুরি করার প্রস্তাবনা দেওয়া হয়। একই বৈঠকে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে ১২ হাজার ২০ টাকার প্রস্তাব করা হয়।
সোমবারের বৈঠক শেষে বোর্ডের নিরপেক্ষ সদস্য কামাল উদ্দিন বলেন, শ্রমিকপক্ষ এবং মালিকপক্ষ দুই পক্ষেরই ন্যূনতম মজুরিবিষয়ক সিদ্ধান্ত কাছাকাছি আসুক। শুধু একপক্ষের পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। দেখতে হবে মালিকপক্ষও যেন ভালো থাকতে পারে এবং শ্রমিকপক্ষও যেন ভালোভাবে জীবনযাপন করতে পারে। সবকিছু বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
এদিকে ন্যূনতম মজুরি ১৬ হাজার টাকার দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাব এলাকায় আন্দোলন করেছেন শ্রমিকরা। গার্মেন্ট শ্রমিকদের মূল মজুরি ১০ হাজার টাকার সঙ্গে অন্যান্য সুযোগ সুবিধাসহ মোট মজুরি ১৬ হাজার টাকা করার দাবিতে তোপখানা রোডস্থ জাতীয় মজুরি বোর্ডের কার্যালয়ের সামনে আন্দোলন কর্মসূচি পালন করছেন গার্মেন্টস শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের নেতাকর্মীরা।
আন্দোলনরত বক্তারা জানান, রপ্তানি খাতে ৮৩ শতাংশের বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী গার্মেন্ট শিল্পের শ্রমিকদের অবস্থা আজ দিশেহারা। ২০১৩ সালে সরকার গার্মেন্ট শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণ করেছিল ৫ হাজার ৩০০ টাকা। পাঁচ বছর পরে মালিকপক্ষ শ্রমিকদের মজুরি ৬ হাজার ৩০০ টাকা প্রস্তাব করেছে। এটা শ্রমিকদের সঙ্গে তামাশা ও প্রতারণার শামিল।