আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৪-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

বাজেট ঘাটতি এখন জিডিপির ৩ দশমিক ৯১ শতাংশ

জিয়াদুল ইসলাম
| অর্থ-বাণিজ্য

২০১৭-১৮ অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি কিছুটা বেড়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি ৩ শতাংশের নিচে থাকলেও গেল অর্থবছরে তা বেড়ে হয়েছে ৩ দশমিক ৯১ শতাংশ। এছাড়া গেল অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি অর্থায়নে সরকারের বিদেশ নির্ভরতা বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। এ সময় যে পরিমাণ ঘাটতি অর্থায়ন হয়েছে তার প্রায় ৪৭ শতাংশ এসেছে বিদেশি উৎস থেকে। আগের অর্থবছরে এ হার ছিল সাড়ে ৩৬ শতাংশ। 

পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, কয়েক বছর ধরেই মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৫ শতাংশ ঘাটতি ধরে বাজেট পেশ করছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। কিন্তু উন্নয়ন ব্যয়ের ধীরগতির কারণে (এডিপি) শেষ পর্যন্ত এ ঘাটতি ২ থেকে সাড়ে ৩ শতাংশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে। তবে আগের অর্থবছরের চেয়ে গেল অর্থবছরে এ ঘাটতি ১ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। 
সংশ্লিষ্টরা জানান, রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রকল্প অনুমোদনে দীর্ঘসূত্রতা, প্রকল্প পরিচালক নিয়োগে বিলম্ব ও দুর্বল মনিটরিং ব্যবস্থার কারণে প্রতি বছরই উন্নয়ন ব্যয়ের শতভাগ বাস্তবায়ন হয় না। এতে ঘাটতি অর্থায়নের পুরো অর্থ ব্যয় হচ্ছে না। তবে গেল অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়নের হার বাড়ায় ঘাটতি অর্থায়ন বেশি হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা। 
প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (আরএডিপি) বাস্তবায়ন হয়েছে ৯৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এ সময় মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো ব্যয় করতে পেরেছে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৮৬৪ কোটি ১৩ লাখ টাকা। এ অর্থবছরে সংশোধিত এডিপির আকার ছিল ১ লাখ ৫৭ হাজার ৫৯৪ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরে (২০১৬-১৭) বাস্তবায়নের হার ছিল ৮৯ দশমিক ৭৬ শতাংশ। এছাড়া ২০১৫-১৬ অর্থবছরে সংশোধিত এডিপির ৯২ দশমিক ৭২ শতাংশ, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৯১, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৯৫, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ৯৬, ২০১১-১২ অর্থবছরে ৯৩, ২০১০-১১ অর্থবছরে ৯২ ও ২০০৯-১০ অর্থবছরে ৯১ শতাংশ অর্থ ব্যয় হয়েছিল। 
প্রাপ্ত তথ্যমতে, গেল অর্থবছরে মূল বাজেটে ঘাটতি ধরা হয় ১ লাখ ১২ হাজার ২৭৫ কোটি টাকা; যা জিডিপির ৫ শতাংশ। ঘাটতি অর্থায়নে বৈদেশিক উৎস হতে ৫১ হাজার ৯২৪ কোটি টাকা (জিডিপির ২.৩ শতাংশ) ও অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ৬০ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা (জিডিপির ২.৭ শতাংশ) লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ২৮ হাজার ২০৩ কোটি টাকা (জিডিপির ১.৩ শতাংশ) এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য ব্যাংক বহির্ভূত উৎস থেকে ৩২ হাজার ১৪৯ কোটি টাকা (জিডিপির ১.৪ শতাংশ) সংগ্রহের আশা করা হয়। 
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দেশি ও বিদেশি উৎস মিলে সরকারের বাজেট ঘাটতি অর্থায়ন হয়েছে ৮৭ হাজার ৫২৩ কোটি টাকা; যা জিডিপির ৩ দশমিক ৯১ শতাংশ।  এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে অর্থায়ন হয়েছে ৪৬ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকা। আর বিদেশি উৎস থেকে অর্থায়ন এসেছে ৪১ হাজার ১৫৮ কোটি টাকা। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দেশি ও বিদেশি উৎস মিলে সরকারের বাজেট ঘাটতি অর্থায়ন হয়েছিল ৫৭ হাজার ৮৩ কোটি টাকা; যা জিডিপির ২ দশমিক ৮৯ শতাংশ ছিল। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ৩৬ হাজার ২২০ কোটি টাকা ও বিদেশি উৎস থেকে অর্থায়ন হয়েছিল ২০ হাজার ৮৬৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ গেল অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি অর্থায়নে সরকারের বিদেশ নির্ভরতা বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এছাড়া ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি অর্থায়ন হয়েছিল ৪৪ হাজার ৪২০ কোটি টাকা; যা জিডিপির ২ দশমিক ৯৩ শতাংশ ছিল। আর ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি অর্থায়ন ছিল ৩৬ হাজার ২০৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা; যা জিডিপির ২ দশমিক ৬৯ শতাংশ ছিল। 
প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, গেল অর্থবছরে ঘাটতি অর্থায়নের জন্য অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারকে কোনো ঋণ গ্রহণ করতে হয়নি। উল্টো অর্থবছর শেষে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকার ব্যাংক ঋণ ঋণাত্মক ধারায় ছিল। এর পরিমাণ ১ হাজার ১২৭ কোটি টাকা। তবে গেল অর্থবছরের ঘাটতি অর্থায়নের সিংহভাগ অর্থই এসেছে ব্যাংক বহির্ভূত উৎস থেকে। বিশেষ করে সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে সরকারে রেকর্ড পরিমাণ ঋণ আসে। এর পরিমাণ রেকর্ড ৪৭ হাজার ৪৯২ কোটি টাকা। 
এদিকে চলতি অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি ধরা হয়েছে ১ লাখ ২৫ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা। ঘাটতির এ পরিমাণ মোট জিডিপির ৪ দশমিক ৯ শতাংশ। এ ঘাটতি পূরণে অর্থমন্ত্রী অভ্যন্তরীণ এবং বৈদেশিক ঋণ সহায়তার প্রস্তাব করেন। এর মধ্যে বিদেশ থেকে ৫৪ হাজার ৬৭ কোটি টাকা ঋণ এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ৭১ হাজার ২২৬ কোটি টাকা ধার করে ওই ঘাটতি মেটানোর পরিকল্পনা রয়েছে।