আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৪-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

টেকনাফে তিন রোহিঙ্গাকে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা

কক্সবাজার প্রতিনিধি
| প্রথম পাতা

কক্সবাজারের টেকনাফে রোহিঙ্গা তিন যুবককে গলা কেটে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার সকালে হোয়াইক্যংয়ের চাকমারকুলের পাহাড়ের ভেতর থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। তিনজনেরই গলায় কাটার চিহ্ন রয়েছে। উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গারা হলেনÑ বালুখালি ক্যাম্পের ই-ব্লকের সাইদ হোসেনের ছেলে নুর আলম, ৩ নম্বরের আবদুল গাফফার মো. আনোয়ার এবং কুতুপালং ডি-ব্লকের জামাল মোস্তফার ছেলে মো. খালেক।

জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর 

পরিচয়ে রোববার রাত দেড়টার দিকে একটি সংঘবদ্ধ চক্র উখিয়া উপজেলার বালুখালী ও কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে তাদের অপহরণ করে টেকনাফ উপজেলার চাকমারকুলের অপর একটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পশ্চিমে গহিন পাহাড়ে আটকে রাখে। এক পর্যায়ে গলায় ছুরি চালিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। এ সময় তাদের চিৎকার শুনে স্থানীয় গ্রামবাসী ও রোহিঙ্গাদের খবর দেয়। এ খবরে এলাকাবাসী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই তিন যুবককে উদ্ধার করেন। পরে তাদের কুতুপালং এনজিও পরিচালিত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহতরা জানান, তাদের সঙ্গে আরও তিন রোহিঙ্গা ছিল। এর পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা গভীর পাহাড়ে অভিযানে নামেন। তারা পাহাড়ে কারও সন্ধান না পেলেও একটি লম্বা খন্তি উদ্ধার করেছে এবং ঘটনাস্থলে রক্তের জমাটবদ্ধ ছাপ দেখতে পায়। এদিকে সোমবার দুপুরে বালুখালী ক্যাম্পের ডি-ব্লকের মোস্তফা জামালসহ নিখোঁজ অপর দুই রোহিঙ্গা ঘরে ফিরে গেছেন বলে জানা গেছে। আহত আবদুল খালেকের চাচা এনামুল হাসান বলেন, গভীর রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তাদের ক্যাম্প থেকে তুলে নেওয়া হয়। 
টেকনাফ থানার ওসি রণজিত কুমার বড়–য়া বলেন, উখিয়ার বালুখালী ক্যাম্প থেকে রাত ২টার দিকে তাদের অপহরণ করে হোয়াইক্যং পাহাড়ে আনা হয়। তবে কী কারণে তাদের অপহরণ করা হয়েছিল, জানা সম্ভব হয়নি। ঘটনা তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ত্রাণ ও শরণার্থী প্রত্যাবাসন কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) মো. আবুল কালাম জানিয়েছেন, রোহিঙ্গা তিন যুবককে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। বিস্তারিত খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।