আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৪-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

দুর্ঘটনা

চার জেলায় সড়কে গেল আরও ৭ প্রাণ

আলোকিত ডেস্ক
| প্রথম পাতা

ঢাকা, নোয়াখালী, লালমনিরহাট ও পটুয়াখালীতে সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। সোমবার বিভিন্ন সময়ে এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২৫ জন। এর মধ্যে ঢাকা জেলার সাভারে প্রকৌশলীসহ তিনজন, নোয়াখালীতে মা-ছেলেসহ তিনজন এবং লালমনিরহাটে একজন নিহত হন। তবে পটুয়াখালীতে বাস পুকুরে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় কেউ মারা যাননি। ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরÑ

সাভারে নিহত ৩ : ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সাভারের বলিয়ারপুর এলাকায় সোমবার ভোরে বাসচাপায় এক প্রকৌশলীসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। পুলিশ জানায়, সিরাজগঞ্জ থেকে সড়ক পরিদর্শন করে ঢাকায় ফিরছিলেন মীর আক্তার গ্রুপের এক প্রকৌশলীসহ তিনজন। সোমবার ভোরে তাদের বহনকারী 

পিকআপভ্যানটি ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সাভারের বলিয়ারপুর এলাকায় এলে একটি বাস তাদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মীর আক্তার গ্রুপের প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম (৫৫), নূর নবী (৪০) ও চালক খলিলুর রহমান (৬০) নিহত হন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশগুলো উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। সেখান থেকে লাশগুলো ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনার পর ঘাতক বাস ও চালক পলাতক রয়েছে। সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আজগর আলী জানান, ঘাতক বাস ও তার চালকে শনাক্ত করে আটকের প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলার প্রস্তুতি চলছে।
নোয়াখালীর সেনবাগে নিহত ৩ : নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় সোমবার সকালে যাত্রীবাহী সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মালবাহী পিকআপভ্যানের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছে। এতে সিএনজিচালক ও যাত্রী মা-ছেলেসহ তিনজন নিহত হন। এ ঘটনায় আরও পাঁচজন আহত হন। নিহতরা হলেনÑ সেনবাগ উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের উত্তর রাজারামপুর গ্রামের ইমাম উদ্দিনের স্ত্রী ফিরোজা খানম (৫৮), তার ছেলে মোহন খান (৩০) এবং দক্ষিণ মোহাম্মদপুর গ্রামের বাসিন্দা ও সিএনজিচালক আবু তাহের (২৭)। আহতরা হলেনÑ নিহত মোহন খানের স্ত্রী বিবি মর্জিনা আক্তার (২৬), তার ছেলে মিরাজ খান (৭) ও পিকআপভ্যানের যাত্রী মো. মাসুদ (৩৫)।
স্থানীয়রা জানান, সকালে শ্বশুরবাড়ি সেনবাগ উপজেলার ছমিরমুন্সিরহাট থেকে সিএনজিতে বাড়ি ফিরছিলেন মোহন খান ও তার পরিবারের লোকজন। পথে ফেনী-নোয়াখালী মহাসড়কে সেনবাগ রাস্তার মাথায় ফেনী থেকে ছেড়ে আসা একটি মালবাহী পিকআপভ্যান সিএনজি-অটোরিকশাকে সামনে থেকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই সিএনজি-অটোরিকশার চালকসহ ছয়জন ও পিকআপের দুই যাত্রী আহত হন। স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে সিএনজি-অটোরিকশার যাত্রী মোহন খান, ফিরোজা খানম ও সিএনজিচালক আবু তাহেরের মৃত্যু হয়।
লালমনিরহাটে নিহত ১ : লালমনিরহাটের ঢাকা-বুড়িমারী মহাসড়কে আদিতমারী উপজেলার বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন এলাকায় সোমবার সকালে ট্রাক-অটোরিকশা মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রাক-অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে অটোরিকশার আট যাত্রী আহত হন। স্থানীয়রা আহতদের লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আলমগীর হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুত্বর আহত তিনজনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বাকি চারজন লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহতরা হলেনÑ ইজিবাইক চালক আবদুল খালেক, মুক্তারানী, প্রাণেশ্বরী, অতুল চন্দ্র, মহেন্দ্রনাথ, জুয়েল ও আরফিনা।
পটুয়াখালীতে আহত ১৩ : পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুকুরে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় ১৩ জন আহত হয়েছেন। সোমবার বেলা ১১টার দিকে স্বর্ণা পরিবহনের যাত্রীবাহী লোকাল বাস কলাপাড়া-পটুয়াখালী মহাসড়কে টিয়াখালী বিশকানীতে পুকুরে পড়ে যায়। বাসের যাত্রীরা জানান, কলাপাড়ার উদ্দেশে পটুয়াখালী ছেড়ে এলে ঘটনাস্থলে বিপরীতমুখী একটি বাস ও নসিমন ক্রস করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুকুরে পড়ে যায়।
রংপুরে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮ : রংপুরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনায় রাজীব নামে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এ দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল আটজনে। সোমবার সকালে রংপুর মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজীব মারা যায়। সে গাইবান্ধা জেলার তালুক বেলকা গ্রামের খসরু মাহমুদের ছেলে। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. অজয় কুমার রায় এ খবর নিশ্চিত করেছেন। রোববার রংপুরের ওই দুর্ঘটনায় ওই দিনই সাতজন নিহত হন। এতে আহত হন আরও ৪৩ জন। আহতদের মধ্যে ২০ জন চিকিৎসা নিয়ে এরই মধ্যে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন। বাকিরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।