আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৪-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে সিইসি

রাজনৈতিক দলের সমর্থনের ভিত্তিতেই ইভিএম ব্যবহার

নিজস্ব প্রতিবেদক
| প্রথম পাতা

সোমবার ইভিএম নিয়ে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সিইসি কেএম নূরুল হুদা

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা বলেছেন, সক্ষমতা, প্রশিক্ষণ, আইন ও রাজনৈতিক দলের সমর্থনের ওপর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার নির্ভর করছে। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার শুরু হয়ে গেছে। সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার নির্ভর করবে আইন-কানুন, প্রশিক্ষণ ও রাজনৈতিক নেতাদের সমর্থনের ওপর। সোমবার নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ইভিএম নিয়ে কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সিইসি বলেন, আমরা এখন প্রস্তুতিমূলক অবস্থানে রয়েছি। জাতীয় সংসদে যদি আইন পাস হয় ও তখন আমাদের প্রশিক্ষিত লোকজনের যদি সক্ষমতা অর্জন হয় এবং জনগণের কাছে যদি গ্রহণযোগ্য হয়, তাহলে যতটুকু পারব ততটুকু জায়গায় ইভিএম ব্যবহার করব। তিনি বলেন, প্রযুক্তি আমাদের ধরে রাখার জন্য নয়। বর্তমানে ম্যানুয়াল সিস্টেমে নির্বাচন হয়। এতে হাজার রকমের কাগজপত্র ও হাজার রকমের জিনিসত্র প্রয়োজন হয়। সুঁই-সুতা থেকে মোমবাতি, দিয়াশলাই, হারিকেন, ব্যাগ, শত করমের ফর্ম কাগজপত্র এগুলো প্রয়োজন হয়। এগুলো বাদ দিয়ে যদি নতুনভাবে, নতুন পদ্ধতিতে প্রযুক্তির মাধ্যমে ইভিএম ব্যবহার করা হয়, তাহলে হাজার রকম জিনিসপত্রের ব্যবহার প্রয়োজন হবে না। এগুলোর হিসাব রাখার প্রয়োজন হবে না।

নির্বাচন পরিচালনার জন্য ব্যয়ের প্রায় ৭০ শতাংশ ব্যয় করতে হয় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের কাজে জানিয়ে সিইসি বলেন, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লক্ষাধিক সদস্য নিয়োগ করতে হয়। এ টাকা আমাদের সাশ্রয় হবে। প্রাথমিক দিক দিয়ে হয়তো এর ব্যয় বেশি হবে। কারণ মেশিনগুলোর দাম বেশি সে কারণে। একদিন হয়তো হবে মেশিনগুলোর দামও কমে যাবে। এখন যে প্রযুক্তি আছে, হয়তো আরও উন্নত প্রযুক্তি এসে যাবে। এ মেশিনগুলো (ইভিএম) বারবার ব্যবহার করা যাবে। একটি নির্বাচনের পর অন্যত্র এটি ব্যবহার করা যাবে। একবার ব্যবহার হলেই শেষ হবে না। সিইসি বলেন, নানা দিক বিচার-বিশ্লেষণ করে নির্বাচন কমিশন মনে করেছে, ইভিএম পদ্ধতিতে আর্থিক দিক দিয়ে যেমন অদূর ভবিষ্যতে সাশ্রয় হবে; কারিগরি দিক দিয়েও উন্নততর অবস্থায় থাকার কারণে মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে, নির্ভুলভাবে নির্বাচন পরিচালনা সম্ভব হবে। কোনোদিনও একজনের ভোট অরেকজন দিতে পারবে না। কারণ আঙুলের ছাপ থাকবে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে বলেন, এ দুই দিনের প্রশিক্ষণ আপনাদের জন্য যথেষ্ট। আপনারা তো অত্যন্ত অভিজ্ঞ ব্যক্তি। আপনারা মাঠপর্যায়ে নির্বাচন পরিচালনা করে আসছেন। শান্তিতে নির্বাচন পরিচালনা করতে পারবেন এখন। নির্বাচনের সময় আপনাদের এক সপ্তাহ ঘুম হয় না, তাই নয়? এক সপ্তাহ পর্যন্ত আপনারা রাতদিন নানা রকমের পরিশ্রম করেনÑ শুধু এ ম্যানুয়াল সিস্টেমে নির্বাচন পরিচালনা করার জন্য। এগুলো থাকবে না, এগুলো নিরসন হবে। সে কারণেই আপনাদের প্রশিক্ষণ ভালোভাবে গ্রহণ করতে হবে। প্রশিক্ষণের লব্ধ জ্ঞান স্থানীয়ভাবে লোকজনের মধ্যে প্রচার করবেন।