আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৪-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

মুক্তিযোদ্ধা রমা চৌধুরী আর নেই

চট্টগ্রাম ব্যুরো
| প্রথম পাতা

একাত্তরের জননীখ্যাত বীরাঙ্গনা রমা চৌধুরী আর নেই। সোমবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। এদিকে তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে চট্টগ্রামে। 

বেলা ১১টার দিকে রমা চৌধুরীর লাশ চট্টগ্রামে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আনা হয়। ততক্ষণে সেখানে সমবেত হন রাজনৈতিক নেতা, শিক্ষক, সাংস্কৃতিক কর্মী, সংবাদ কর্মী ও বিভিন্ন সংগঠনের কর্মীরা। দুপুর ১২টায় চট্টগ্রামের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। এর আগে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভাগীয় কমিশনার আবদুল মান্নান এবং জেলা প্রশাসক ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, চট্টগ্রাম মহানগর কমান্ডার মোজাফফর আহমেদের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দল রমা চৌধুরীর লাশে ফুল 

দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তার লাশ নেওয়া হয় তার দীর্ঘদিনের স্মৃতিবিজড়িত চেরাগি পাহাড় মোড়ে লুসাই ভবনের নিচে। সেখানে আরেক দফা শ্রদ্ধা নিবেদন  শেষে লাশ নেওয়া হয়েছে বোয়ালখালী উপজেলার  পোপাদিয়ায় গ্রামের বাড়িতে। বিকাল ৫টার দিকে পোপাদিয়া গ্রামে ছেলে দীপঙ্কর টুনুর সমাধির পাশেই তাকে সমাহিত করা হয়। রাষ্ট্রীয় মর্যাদা আর ফুলেল শ্রদ্ধায় চির নিদ্রায় শায়িত হলেন একাত্তরের বীরাঙ্গনা রমা চৌধুরী।
উল্লেখ্য, ১৯৩৬ সালের ১৪ অক্টোবর বোয়ালখালী উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন রমা চৌধুরী। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। চার ছেলে সাগর, টগর, জহর এবং দীপঙ্করকে নিয়ে ছিল তার সংসার। কিন্তু একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে দুই ছেলেকে হারানোর পাশাপাশি নিজের সম্ভ্রমও হারান তিনি। পুড়িয়ে দেওয়া হয় তার ঘরবাড়ি। তবুও জীবনযুদ্ধে হার মানেননি এ বীরাঙ্গনা। শুরু করেন নতুনভাবে পথচলা। তিনি লিখেছেন ‘একাত্তরের জননী’, ‘এক হাজার এক দিন যাপনের পদ্য’ এবং ‘ভাব বৈচিত্র্যে রবীন্দ্রনাথ’সহ ১৮টি বই। এসব বই বিক্রি করেই চলত তার সংসার। কোমরের আঘাত, গলব্লাডার স্টোন, ডায়াবেটিস, অ্যাজমাসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে ১৫ জানুয়ারি তিনি ভর্তি হন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এরপর থেকে সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। 
ঢাবি ভিসির শোক : রমা চৌধুরীর মৃত্যুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এক শোক বাণীতে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকবাহিনীর গুলিতে দুই ছেলে নিহত হওয়া ছাড়াও শারীরিক নিপীড়নের শিকার হয়েছিলেন রমা চৌধুরী। তার ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। তবু জীবনযুদ্ধে হার মানেননি তিনি। লেখিকা হিসেবে বাংলাদেশের সাহিত্য অঙ্গনে তিনি খ্যাতি অর্জন করেন। রমা চৌধুরী তার কাজের মধ্য দিয়ে দেশবাসীর কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। ভিসি তার আত্মার শান্তি এবং তার পরিবারের শোকার্ত সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি