আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৪-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

দেশ দুঃশাসনের বন্দিশালায় পরিণত -মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক
| শেষ পাতা

সারা দেশ আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের বন্দিশালায় পরিণত হয়েছে বলে 

মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তারেক রহমানের 
১১তম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে সোমবার সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, সারা দেশ দুঃশাসনের বন্দিশালায় পরিণত হয়েছে। এ অবস্থায় আমরা সবাই তারেক রহমানের কারামুক্তি দিবসকে স্মরণ করছি। আমি মনে করি তিনি কারামুক্ত নন, আসলে নির্বাসিত। এটি কারাবন্দি হওয়ারই আরেকটি নামান্তর। কারণ মিথ্যা মামলাগুলোতে তাকে দেশে আসতে বাধা দেওয়া হচ্ছেÑ এটি পরিষ্কার। তিনি বলেন, সম্পূর্ণ রাজনৈতিক চক্রান্তে প্রতিহিংসামূলকভাবে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা-মামলায় তারেক রহমানকে জড়ানো হয়েছে। এক-এগারোর সরকার যে মামলার অভিযোগপত্রে তার নাম দিতে পারেনি, আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন হওয়ার পর সম্পূরক চার্জশিট দিয়ে তারেক রহমানের নাম দেওয়া হয়েছে। এটি সরকারের প্রতিহিংসার চরিতার্থের নামান্তর। অর্থাৎ নির্দোষ তারেক রহমান আওয়ামী লীগের আক্রোশের শিকার।
সেনানিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের ৭ মার্চ তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরের বছর ৩ সেপ্টেম্বর উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে চিকিৎসার জন্য সপরিবারে তিনি লন্ডন যান।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার মামলায় পরপর তিনটি তদন্তে তারেক রহমানের নাম ছিল না। পরে এক ব্যক্তিকে দিয়ে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি নেওয়ার পর কোনো প্রমাণ না রাখার জন্য তাকে ফাঁসি দেওয়া হয়; কিন্তু ফাঁসির আগেই ওই ব্যক্তি তা অস্বীকার করে প্রত্যাহার করে নিলেও আদালত তা গ্রহণ করেননি।
খালেদা জিয়ার সাজার প্রসঙ্গে টেনে তিনি বলেন, বিপুল জনপ্রিয় দেশনেত্রী খালেদা জিয়া আজকে মিথ্যা একটি মামলায় বেআইনিভাবে কারাবন্দি। হাইকোর্ট তাকে জামিন দিলেও তাকে মুক্ত করা হচ্ছে না। প্রতিহিংসামূলক এ সরকার দেশনেত্রীকে হয়রানি করার জন্য পরিকল্পিত আইনি প্রক্রিয়ার নামে সাজা দিয়েছে। এক ব্যক্তির অদম্য ক্রোধ ও হিংসার চরম বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে জাতীয়তাবাদী ঐক্যের প্রতীক খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ওপর। তারেক রহমানের দীর্ঘায়ু ও সুস্থতা কামনা করেন বিএনপি মহাসচিব।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, এবিএম মোশাররফ হোসেন, আবদুস সালাম আজাদ, আসাদুল করীম শাহিন ও মুনির হোসেন উপস্থিত ছিলেন।