আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৪-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

শ্রীবরদীর শতবর্ষী পুকুর ভরাট

নকলা প্রতিনিধি
| দেশ

শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার পৌরশহরের শতবর্ষী কাচারি পুকুরটি ময়লা-আবর্জনা ফেলে কৌশলে ভরাট করা হচ্ছে। পয়োবর্জ্য, গৃহস্থালির বর্জ্য, হোটেল ও বাজারের ময়লা-আবর্জনা ফেলার ফলে পুকুরের পানি দূষিত হয়ে পড়েছে। এতে আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে দুর্গন্ধ। এরই মধ্যে পুকুরের বেশকিছু জায়গা স্থানীয় প্রভাবশালী লোকজন দখল করে নিয়েছেন। সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, বাজারের নালা-নর্দমা, বাসাবাড়ি, হোটেল, দোকানপাটের ময়লা-আবর্জনা, কচুরিপানা ও মানব বর্জ্যে টইটম্বুর হয়ে আছে পুকুরটি। ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক পানি চলাচল। 
আবর্জনায় ভরাট হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানির সঙ্গে মিশে পুকুরের দূষিত ও ময়লা-আবর্জনাযুক্ত পানি মসজিদের অজুখানাসহ লোকালয়ে উঠে জনদুর্ভোগ বাড়াচ্ছে। পচা, দুর্গন্ধে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন পুকুরপাড়ের বাসিন্দারা। স্থানীয় মসজিদের সভাপতি একেএম ওবায়দুর রহমান, বাড়িওয়ালা আল হেলাল ও হেলেনা বেগমসহ অনেকেরই অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই কিছু দোকানদার, হোটেল ও সেলুন ব্যবসায়ীরা প্রতিনিয়ত আবর্জনা ফেলে পুকুরটি ভরাট করছেন। স্থানীয়ভাবে তাদের বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা মানছেন না। এ বিষয়ে উপজেলা পরিষদ ও পৌর কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি হোসেন আলী জানান, দখলমুক্ত করে পুকুরটি খনন করে মাছ চাষ করলে সরকারের রাজস্ব বাড়বে, তাছাড়া স্বস্তি ফিরে পাবেন এলাকাবাসী। 
শ্রীবরদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাসুদ আল ফারুক জানান, এই পুকুরটি উদ্ধার ও খনন করে এর চারপাশে গার্ডওয়াল দিয়ে বিভিন্ন গাছপালা লাগিয়ে সবুজায়ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে। অতিদ্রুত সময়ের মধ্যেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ পুকুরটি খনন, গার্ডওয়াল, পাড়ে বৃক্ষরোপণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তবে এর জন্য স্থানীয়দের সার্বিক সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি জানান।