আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৪-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

বরগুনায় আমন বীজের নামে বোরো বীজ বিক্রি!

২ হাজার একর জমিতে ফসল না পাওয়ার আশঙ্কা

জাফর হোসেন হাওলাদার, বরগুনা
| দেশ

বরগুনার আমতলী ও তালতলী উপজেলার ডিলার এবং খুচরা বীজ বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে আমন মৌসুমের বীজ বিক্রির নামে বোরো মৌসুমের বীজ বিক্রি করার প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। এতে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষক। তারা আগামী আমন মৌসুমে প্রায় ২ হাজার একর জমিতে ফসল না পাওয়ার আশঙ্কায় হতাশ হয়ে পড়েছেন। 
সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চলতি আমন মৌসুমে ডিলার এবং খুচরা বীজ বিক্রেতারা ১০ কেজি ওজনের বীজের প্রতি প্যাকেট ৮০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা বিক্রি করেছেন, যা প্রকৃত মূল্যের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ। তারপরও কৃষককে সঠিক বীজ না দিয়ে বোরো মৌসুমের নিম্নমানের মেয়াদোত্তীর্ণ বীজ সরবরাহ করা হয়। তাদের ক্রয়কৃত ধানের প্যাকেট দেখা যায় ধানের জাত, মূল্য ও তারিখ ওভাররাইটিং করা। বীজের প্যাকেটের গায়ে ধানের জাতের নাম ওভাররাইটিং করে ব্রি২৮ কেটে ব্রি২৩ ধান লেখা হয়, প্যাকিংয়ের তারিখ ২ অক্টোবর ২০১৬ ওভাররাইটিং করে ২ অক্টোবর ২০১৮ করা হয়েছে।
চলতি আমন চাষের মৌসুমে কৃষক ব্রি২৩ ধান চড়া মূল্যে ক্রয় করেন। অগ্রহায়ণ মাসে এ বীজের ফসল আসার কথা। কিন্তু কৃষককে আমন মৌসুমের বীজ না দিয়ে বোর মৌসুমের বীজ দেওয়া হয়, যা বীজতলা তৈরি থেকে শুরু করে ৯০ দিনে ফসল আসে। অথচ আমন মৌসুমে এ বীজ বপনের উপযোগী নয়। এ বীজ বপন করার মাত্র ২০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যে ভাদ্র মাসের প্রথম দিকে ধান বের হতে থাকে। এতে আগামী আমন মৌসুমে এ উপজেলার প্রায় ২ হাজার একর জমিতে ফসল না পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কৃষক তাদের ক্ষতি পোষানোর জন্য সরকারের সহযোগিতা চাচ্ছেন। 
তালতলী উপজেলার পঁচাকোড়ালীয়া গ্রামের কৃষক বশির পাটোয়ারী, তরিৎ তালুকদার, পিপলন, কাইয়ুমসহ অনেকে জানান, জমিতে বীজ বপন করেছেন, অগ্রহায়ণ মাসে ফসল আসার কথা কিন্তু বীজতলা থেকে বীজ নিয়ে বপন করার মাত্র ১৮ থেকে ২০ দিনের মধ্যে শিষ বের হয়েছে, এখন আবার এ জমি চাষ করতে নতুন করে খরচ জোগার করতে হবে। তাই তারা ক্ষতিপূরণসহ অবৈধ বীজ বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত অবৈধ খুচরা বীজ বিক্রেতা পঁচাকোড়ালীয়া সুলিজ বাজারের কামাল ট্রেডার্সের মালিক কামাল হোসেন বলেন, স্থানীয় রড-সিমেন্ট বিক্রেতা আলম প্যাদা ৫৫০ টাকা দরে আমাকে বীজ এনে দিয়েছে বিক্রি করার জন্য আমি ৬০০ টাকা করে বিক্রি করেছি। 
শিকদার ট্রেডার্সের মালিক আবু সালেহ জানান, সারের ডিলার নান্নু খান ৫৫০ টাকা দরে আমাকে বীজ এনে দিয়েছে বিক্রি করার জন্য আমি ৬০০ টাকা করে বিক্রি করেছি। এ বিষয় আলম ট্রেডার্সের মালিক রড-সিমেন্ট বিক্রেতা আলম প্যাদা বলেন, আমি ও সারের ডিলার খান ট্রেডার্সের মালিক নান্নু খান ডিলার আবুল হোসেন মুন্সীর কাছ থেকে এনে দিয়েছি। সারা দেশেই ধানের বীজের একই অবস্থা। 
উপজেলার একমাত্র ডিলার অভিযুক্ত আবুল হোসেন মুন্সীকে পাওয়া যায়নি, শোনা যায় এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন।
তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজানা রহমান বলেন, এ ঘটনা আমি জেনেছি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে তদন্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 
তালতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এসএম বদরুল আলম জানান, আমরা কৃষকের পাশে আছি, কৃষকের জমি যাতে অনাবাদী না থাকে, সেজন্য আমন বীজের চারা বিনামূল্যে বিতরণের ব্যবস্থা নিয়েছি।