আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৪-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

জমে উঠেছে চারা বেচাকেনার হাট

খুশি কেশবপুরের ব্যবসায়ীরা

মশিয়ার রহমান, কেশবপুর
| দেশ

যশোরের কেশবপুরে গাছের চারা লাগানোর মৌসুমকে ঘিরে শহরের থানা মোড় এলাকায় গড়ে উঠেছে গাছের চারা বিক্রির মৌসুমি হাট। এ হাট ঘিরে গড়ে উঠেছে অনেক মানুষের জীবন-জীবিকা। ব্যাপক গাছের চারা বিক্রি হওয়ায় ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি ফুটেছে। কেশবপুর শহরের শেষ প্রান্তে থানা মোড় ও ওয়াপদা প্রাচীরের গাঘেঁষে গড়ে উঠেছে এ চারা বিক্রির হাট। প্রতি শনি, সোম ও বুধবার সকাল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত নার্সারি মালিক ও কৃষক চারা নিয়ে এখানে এসে বিক্রি করেন। সোমবার সকালে সরেজমিন দেখা গেছে, এলাকাটি যেন সবুজের সমারোহ। চারা গাছ থেকে বড় গাছ দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে গোটা এলাকা। এখানে ক্রেতারা তাদের পছন্দমতো গাছ কিনছেন। এলাকার চাষি ও বাগান মালিকরা জানান, বছরের আষাঢ় থেকে কার্তিক মাস পর্যন্ত এ হাটে চারা বেচাকেনা হয়। এ কারণে এ হাটকে গাছ বিক্রির মৌসুমি হাট বলা হয়। দীর্ঘদিন ধরে এ হাট বসছে। এখানে প্রতি হাটে প্রায় ৩০ হাজার টাকার মতো গাছ বিক্রি হয়। উপজেলার কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় কৃষি অফিসে নিবন্ধন করা ১৭টি নার্সারি রয়েছে। এর বাইরেও কৃষক পর্যায়ে অনেকে চারা উৎপাদন করে বিক্রি করেন। এ নার্সারিগুলো গড়ে উঠেছে উপজেলার মজিদপুর, বায়সা, শ্রীফলা, সাগরদাঁড়ি, নতুন মুলগ্রাম, শ্রীরামপুর ও ভালুকঘর গ্রামে। উপজেলার কাশিমপুর গ্রামের সবুর ফকির বলেন, চারা কেনার জন্য এ বাজারে অনেক সুবিধা রয়েছে। কারণ এখানে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ স্বল্পমূল্যে পাওয়া যায়। তিনি ২০০ আমের চারা কেনার জন্য হাটে এসেছেন। প্রতি বছর এ বাজার থেকে চারা কিনে তিনি গাছ লাগান। শখের বশে গাছ কিনতে আসা রহিমা বেগম বলেন, ‘এ বছর অনেক গাছ কিনেছি। এখন মালটা-লেবু গাছ কেনার জন্য এসেছি।’ বায়সা গ্রামের বাগান মালিক আবদুল জব্বার বলেন, ‘আমি ৪ বিঘা জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা তৈরি করেছি। এ মৌসুমে ১৫ হাজারের মতো চারা বিক্রি করেছি। উমাপদ ঘোষ বলেন, ১ একর ৩০ শতক জমিতে ৩০ হাজারের মতো বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা তৈরি করেছেন। এ পর্যন্ত ২০ হাজার চারা তিনি বিক্রি করেছেন। ব্যবসায়ী পার্থ রায় চৌধুরী বলেন, প্রতি হাটে গাছের চারা বিক্রি করে তিনি লাভবান হন। এ বছর থাই পেয়ারা, মালটা, চুই ঝালের গাছ, বিভিন্ন প্রজাতির আমের চারাসহ ব্যতিক্রমী জাতের গাছ কেনার প্রতি মানুষের ঝোঁক বেশি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মহাদেব চন্দ্র সানা বলেন, কেশবপুর উপজেলা যশোর জেলার মধ্যে নার্সারি ব্যবসায় এগিয়ে। এরই মধ্যে উপজেলার মজিদপুর ও বায়সা গ্রাম নার্সারি গ্রাম হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এ দুটি গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়ির আঙিনায় গাছের চারা তৈরি হচ্ছে। আর এ গাছের চারা লাগানোর মৌসুমে গাছগুলো হাটে বিক্রি করে তারা অর্থনৈতিকভাবে সফল হয়েছেন। নার্সারি ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।