আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৫-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

কৃষকের জীবন-মানোন্নয়নে কৃষিঋণ

ঋণ প্রদানে চাই স্বচ্ছতা

| সম্পাদকীয়

বাংলাদেশের অর্থনীতি মূলত কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কোনো কারণে দেশে কৃষির উৎপাদন কমে গেলে সারা দেশের মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে। এসব বিবেচনা করে সরকার কৃষি খাতে কৃষককে ভর্তুকি প্রদান থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা করেছে, এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে কৃষিঋণ বিতরণ কর্মসূচি। কিন্তু কৃষিঋণ বিতরণ নিয়ে রয়েছে কম-বেশি অভিযোগ। আলোকিত বাংলাদেশে প্রকাশ, চলতি অর্থবছরের (২০১৮-১৯) প্রথম মাসেই ১ হাজার ২২৩ কোটি টাকা কৃষিঋণ বিতরণ করেছে দেশের ব্যাংকিং ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। এ মাসে ব্যাংকিং খাত থেকে ১ হাজার ১৫১ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) বিতরণ করেছে ৭২.৩৯ কোটি টাকা। এ মাসের মোট কৃষিঋণ বিতরণের পরিমাণ গেল অর্থবছরের (২০১৭-১৮) প্রথম মাসের তুলনায় বেশ কম। ২০১৭ সালের জুলাইয়ে কৃষিঋণ বিতরণ হয়েছিল ১ হাজার ৫৭৪ কোটি টাকার। এ হিসাবে জুলাইয়ে ঋণ বিতরণ কম হয়েছে ৪২৩ কোটি টাকা বা প্রায় এক-চতুর্থাংশ। উল্লেখ্য, চলতি অর্থবছরে মোট ২১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ২০১৭-১৮ অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৬.৮৬ শতাংশ বেশি। অথচ প্রথম মাসে বিদেশি মালিকানার সাতটি এবং বেসরকারি খাতের চারটি ব্যাংক এক টাকাও ঋণ দেয়নি। 
সংগত কারণেই চলতি বছরে ঋণ প্রদানের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তা আদৌ পূরণ হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, কৃষিঋণ বিতরণে গেল কয়েক বছরে কম-বেশি অনিয়মের ঘটনাও ঘটেছে, সবক্ষেত্রে প্রকৃত কৃষকের হাতে ঋণের অর্থ পৌঁছায়নি। ব্যাংকগুলোকে প্রতি বছর কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেওয়া হলেও বরাবরই ব্যাংকগুলোর এ ক্ষেত্রে অনীহা দেখা যায়। এতে সিংহভাগ কৃষক ঋণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। প্রশ্ন উঠেছে, কেন চলতি অর্থবছরের জুলাইয়ে কৃষিঋণ বিতরণের পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় কম হলো তা নিয়ে। 
আমাদের কথা হচ্ছে, যে দেশের অধিকাংশ কৃষকের নিত্যদিন কাটে অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে, সে দেশে নিঃসন্দেহে সময়মতো প্রয়োজনীয় কৃষিঋণ পাওয়াটা কৃষকের জন্য একান্তই প্রয়োজন। তাই প্রতি বছর কৃষিঋণ প্রদানের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় তা যেন পুরোপুরি পূরণ হয়, এক্ষেত্রে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান যেন গাফিলতি না করে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রকৃত কৃষক যেন ঋণ পায় এবং ঋণের যেন সদ্ব্যবহার করেন, সেদিকে ঋণ প্রদানকারী সংস্থাকে অবশ্যই তদারকি করতে হবে। পাশাপাশি কৃষি ও পল্লী ঋণসহ ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে সেবা পেতে গ্রাহকদের যেন হয়রানির শিকার হতে না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কৃষকের জীবন-মানন্নোয়নের প্রতিও সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। কারণ কৃষি বাঁচলে দেশ বাঁচবে। কৃষক ভালো থাকলেই, ভালো থাকবে দেশ।