আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৫-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

আফ্রিকায় আমাদের স্বার্থ নেই : চীনা প্রেসিডেন্ট

আলোকিত ডেস্ক
| আন্তর্জাতিক

আফ্রিকার দেশগুলোকে ঋণের জালে জড়ানোর অভিযোগ বারবার উঠেছে তার দেশের বিরুদ্ধে। ওই মহাদেশের বিভিন্ন অংশে তারা আধুনিক যুগের উপনিবেশ তৈরি করতে চান, এমনটাও বলা হচ্ছে বিশ্বের নানা প্রান্তের সংবাদমাধ্যমে। অবশেষে আফ্রিকায় তাদের অর্থনৈতিক ভূমিকা নিয়ে মুখ খুললেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। জানালেন, আফ্রিকায় কোনো ‘লোক-দেখানো’ প্রকল্পের কাজে হাত দেননি তারা। বেইজিংয়ের কোনো ইচ্ছা আফ্রিকার ওপর জোর করে চাপাতেও চান না তারা। বরং ওই দেশগুলোর আর্থিক-পরিকাঠামোগত উন্নয়নই বেইজিংয়ের একমাত্র লক্ষ্য।

বেইজিংয়ে শুরু হয়েছে আফ্রো-চীন শীর্ষ সম্মেলন। আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের প্রধানরা সেই উপলক্ষে এখন বেইজিংয়ে। সেখানেই জিনপিং বলেছেন, আফ্রিকায় কোনো উপনিবেশ গড়ার ভাবনা তাদের নেই। সেখানকার দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ ও রাজনৈতিক বিষয়েও চীন নাক গলাতে চায় না। তবে দরিদ্রতম যেসব দেশে চীনের প্রকল্প রয়েছে, তার একমাত্র লক্ষ্য সেই দেশগুলোর আর্থসামাজিক মানোন্নয়ন। এর বাইরে চীনের কোনো স্বার্থসিদ্ধি হচ্ছে না সেখানে। জিনপিং জানিয়েছেন, আফ্রিকাকে ৬ হাজার কোটি ডলার আর্থিক অনুদান দেবে বেইজিং। ২০১৫ সালে আফ্রিকার দেশগুলোকে একই পরিমাণ ঋণের প্রস্তাব দিয়েছিল বেইজিং। আর ২০০০ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত আফ্রিকাকে দেওয়া ঋণের পরিমাণ প্রায় ১২ হাজার ৬০০ কোটি ডলার। জিনপিংয়ের অনুদান ঘোষণায় তাই ভ্রƒ কুঁচকেছে বিশ্বের অনেক শক্তিশালী দেশেরই। পশ্চিমা দেশগুলো তো বটেই, চীনের পড়শি ভারতেরও দীর্ঘদিনের অভিযোগ, অর্থের প্রলোভন দেখিয়েই আফ্রিকায় ধীরে ধীরে অন্য সব দেশের জমি কেড়ে নিচ্ছে চীন। জিনপিং অবশ্য সেসব সমালোচনায় আমল দিতে রাজি নন। বরং তিনি চীনা বাণিজ্যিক সংস্থাগুলোকে বলেছেন, যারা ওইসব দেশে নিজেদের প্রকল্প গড়ে তুলছেন, তারা যেন সেখানকার স্থানীয় মানুষের বিশ্বাস ও ভাবাবেগকে মর্যাদা দেন।
একইভাবে প্রশ্ন উঠছে চীনের ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড (ওবর) প্রকল্প নিয়েও। বিশ্বজুড়ে রেললাইন, রাস্তা, বন্দর তৈরির চীনা মহাপ্রকল্পে যে যে দেশ অংশ নিচ্ছে, তাদের অনেকেই ঋণের জালে জড়িয়ে পড়ছে বলে সম্প্রতি খবর মিলেছে। ঋণ মেটাতে না পেরে একটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ৯৯ বছরের জন্য বেইজিংকে লিজ দিয়েছে শ্রীলঙ্কা সরকার। কপালে ভাঁজ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানেরও। ঠিক এ কারণেই গেল মাসে চীন সফরে এসে ২ হাজার ২০০ কোটি ডলারের চীনা প্রকল্প বাতিলের ঘোষণা করেছেন মালয়েশীয় প্রেসিডেন্ট মাহাথির মোহাম্মদ। সেইসঙ্গে নয়া ঔপনিবেশবাদ নিয়ে বেইজিংকে সতর্কও করে গিয়েছেন তিনি। চীনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে সচেতন আফ্রিকার রাষ্ট্রপ্রধানরাও। তবে তাদের মহাদেশে চীনা অর্থনৈতিক হস্তক্ষেপকে সমর্থনই করছেন বেশিরভাগ রাষ্ট্রনেতা। এ মুহূর্তে আফ্রিকান ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট রুয়ান্ডার রাষ্ট্রপ্রধান পল কাগামেও ঋণের প্রলোভনের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তবে আফ্রিকার দেশগুলোর সংবাদমাধ্যম বিষয়টি নিয়ে সরব। কেনিয়ার এক প্রথম সারির দৈনিকে লেখা হয়েছে, আফ্রিকার নেতাদের চীনের সঙ্গে এ বিশেষ সম্পর্কের আসল কারণ খতিয়ে দেখার সময় চলে এসেছে। সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা