আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৫-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

অ্যান্টিবায়োটিক

সচেতনতা জরুরি

ডা. উম্মে রুমান সিদ্দিকী
| সুস্থ থাকুন

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিশ্বব্যাপী জনসচেতনতা বৃদ্ধিসহ পলিসি ও নির্দেশিকা প্রণয়নপূর্বক অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ওপর কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। সাধারণত অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধগুলো এক ধরনের অণুজীব থেকে উৎপন্ন হয়ে অন্য প্রকার অণুজীবের মৃত্যু ঘটায় বা প্রজনন স্তব্ধ করে। ব্যাকটেরিয়ার ক্ষেত্রে এর ব্যবহার হয়

রোগজীবাণুগুলো অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতি তাদের প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করেই চলেছে। বর্তমান সময়ে বিশ্বে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিজট্যান্স একটি স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে এবং এক ধরনের রোগজীবাণু বহু প্রকার অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতি প্রতিরোধী হয়ে পড়েছে। ফলে কম বা বেশি দামি সব ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক সংক্রমণ চিকিৎসার কাজে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অকার্যকর হয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। এ ধরনের সমস্যা ব্যক্তির জন্য প্রাণঘাতী হওয়া ছাড়াও সমাজে ব্যাপক প্রাদুর্ভাবের সৃষ্টি করতে পারে। তাই আমাদের এখন থেকেই সচেতন হতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করে এরই মধ্যে কৌশলপত্র, কর্মপরিকল্পনা, ক্লিনিক্যাল গাইডলাইন ইত্যাদি প্রণয়ন করেছে। অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স সহনীয় মাত্রায় আনয়নের জন্য চিকিৎসকসহ সব পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের সচেতনতা বৃদ্ধি করতে নানা ধরনের পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে। তাছাড়াও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিশ্বব্যাপী জনসচেতনতা বৃদ্ধিসহ পলিসি ও নির্দেশিকা প্রণয়নপূর্বক অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ওপর কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। সাধারণত অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধগুলো এক ধরনের অণুজীব থেকে উৎপন্ন হয়ে অন্য প্রকার অণুজীবের মৃত্যু ঘটায় বা প্রজনন স্তব্ধ করে। ব্যাকটেরিয়ার ক্ষেত্রে এর ব্যবহার হয়। অন্যদিকে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ওষুধ সব ধরনের রোগজীবাণু যথাÑ ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ফাংগাস এবং এক কোষী প্রোটোজোয়া (আমাশয়ের জীবাণু), মেলেরিয়া ও কালাজ্বরের পরজীবী) এর বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়। এ ওষুধগুলো নিয়মবহির্ভূতভাবে ব্যবহারের জন্যই এ সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। রেজিজট্যান্স মানে প্রতিরোধ ক্ষমতা। অ্যান্টিমাইক্রবিয়াল ওষুধ প্রয়োগ করলে যদি রোগজীবাণু না মরে বা সংখ্যায় না কমে তবে সংক্রমণ নিরাময় হয় না অর্থাৎ সংক্রমণ চিকিৎসা বা প্রতিরোধ কাজের কোনো ফল পাওয়া না যায় সেরকম একটি পরিস্থিতিই হলো রেজিস্ট্যান্স। এটি রোগজীবাণুর একটি অত্যন্ত ভয়ংকর বৈশিষ্ট্য। কিন্তু আমাদের শরীরে যদি এ ক্ষমতাটি নষ্ট হয়ে যায় তবে তা তবে খুবই চিন্তার বিষয়। এ সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

- জাতীয় পর্যায়ে রেফারেন্স ল্যাব ও উচ্চমানের গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন।

- হাসপাতাল, ক্লিনিক ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোয় সংক্রমণ প্রতিরোধ ব্যবস্থা অগ্রাধিকার দিয়ে নিশ্চিত করা।

- আইন ও বিধি-বিধান প্রয়োগ করে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উৎপাদন, মান নিয়ন্ত্রণ ও বাজারজাত করার ব্যবস্থা গ্রহণ।

- তৃণমূল পর্যায়ে মেডিকেল প্র্যাকটিশিয়ানদের অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ।

- ওষুধের দোকানদারদের সচেতন করে তাদের সহযোগিতা নেওয়া।

- অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ব্যবহারে মেডিকেল পেশায় নিয়োজিত সবাইকেই সম্যক উপলব্ধির জায়গাটি নিয়মতান্ত্রিকভাবে উন্নতি করে নিয়ে যৌক্তিক পদক্ষেপ নিতে হবে এবং নাগরিক সমাজকে সচেতন করার দায়িত্ব নিতে হবে।

- তাই সর্বাগ্রে আমরা যারা চিকিৎসা পেশায় জড়িত তাদেরই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

সর্বশেষ এ বিষয়টিকে অবশ্যই গুরুত্ব দিয়ে দেখার জন্য সব চিকিৎসককে অনুরোধ জানাচ্ছি।

 

ডা. উম্মে রুমান সিদ্দিকী

ইভালুয়েটর, রোগ নিয়ন্ত্রণ

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ঢাকা